শিরোনাম

দুই রুট ছাড়া চালানো যাবে না হুন্দাইয়ের নিম্নমানের ইঞ্জিন

দুই রুট ছাড়া চালানো যাবে না হুন্দাইয়ের নিম্নমানের ইঞ্জিন

ইসমাইল আলী: দুই বছরে রেলের বহরে যুক্ত হয়েছে ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন। দুই প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে কেনা হয়েছে ইঞ্জিনগুলো। সংকট কাটানো ও যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ইঞ্জিনগুলো কেনা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। বরং ইঞ্জিনগুলোর ওজন বেশি হওয়ায় মাত্র দুটি রুটে চালানো যাবে ইঞ্জিনগুলো। এতে মাত্র ১০টি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনায় ইঞ্জিনগুলো ব্যবহার করা যাবে।

গত ৩০ নভেম্বর রাজধানীর রেলভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন পর্যালোচনা সভায় (ওআরএম) বিষয়টি উঠে আসে। সভায় আপাতত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর/দিনাজপুর এ দুই রুটেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হুন্দাইয়ের ৩০ ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে আরও ৭০টি ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। এগুলোর ওজনও বেশি। ফলে সেগুলোও বসিয়ে রাখা ছাড়া কোনো গতি থাকবে না।

সূত্রমতে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানি করা এসব ইঞ্জিনের প্রতিটির ওজন ৯০ টন। আর রেলের বহরে থাকা তুলনামূলকভাবে ভালো মানের ইঞ্জিনগুলোর ওজন সর্বোচ্চ ৭২ টন। এছাড়া রেলের বহরে থাকা মেইল লাইনে চলমান ২৬০০, ২৭০০ ও ২৯০০ সিরিজের ইঞ্জিনগুলো ১৫০০ হর্স পাওয়ারের। তবে নতুন আমদানি করা ইঞ্জিনগুলো ২২০০ হর্স পাওয়ারের। নতুন এ ইঞ্জিনগুলোর সিরিজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০১ থেকে ৩০৩০ পর্যন্ত।

বৈঠকে জানানো হয়, রেলের বহরে থাকা ইঞ্জিনগুলোর এক্সেল লোড সর্বোচ্চ ১২ টন। এ হিসাবে ইঞ্জিনগুলোর সর্বোচ্চ ওজন ৭২ টন। তবে হুন্দাই থেকে কেনা ইঞ্জিনগুলোর এক্সেল লোড ১৫ টন। এতে ৯০ টনের ইঞ্জিন চালানোর মতো রেলপথ বর্তমানে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট ও ঢাকা থেকে রংপুর/দিনাজপুর রুট। তবে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর, ঢাকা-নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে এসব ইঞ্জিন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই আপাতত শুধু দুই রুটেই এ ইঞ্জিনগুলো চালানো হবে। বাকি রুটগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, আখাউড়া থেকে সিলেট, জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর, নোয়াখালী ও চাঁদপুরের রেললাইনগুলো অনেক পুরোনো। ফলে এগুলোর ভারবাহী ক্ষমতাও কম। এসব রুটের সেতুগুলোও জরাজীর্ণ। ৩০০০ সিরিজের নতুন ইঞ্জিনগুলো চালানো হলে এসব সেতু ও লাইনে দুর্ঘটনার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সংস্কারের আগে এসব লাইনে কোরিয়া থেকে আনা নতুন ইঞ্জিন চালানো যাবে না। তাই শুধু দুটি রুটে চালানোর জন্য এতগুলো ইঞ্জিন কেনা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।

তারা আরও বলেন, একই ধরনের আরও ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে, অথচ এসব ইঞ্জিন চালানোর কোনো পথ নেই। তাই নতুন আরও ইঞ্জিন এলে সেগুলো বসিয়ে রাখা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। কারণ মিটারগেজের বাকি রুটগুলোর মধ্যে শুধু আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ নির্মাণে নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ফলে ওই রুটের রেলপথটি পুনর্নির্মাণ করা হবে। তবে বাকি রুটগুলো সংস্কারে নতুন প্রকল্প নিতে হবে, যা খুব দ্রুতই সম্ভব নয়।

জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার বলেন, বর্তমানে শুধু দুটি রুটে চালানো হবে ৩০০০ সিরিজের ইঞ্জিনগুলো। আর আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর, ঢাকা-নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ইঞ্জিনগুলো দ্রুত চালু করতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বৈঠকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১০ ইঞ্জিন কেনায় হুন্দাই রোটেমের সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তি সই হয় ২০১৮ সালের ১৭ মে। এর চুক্তিমূল্য ছিল ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গত বছর আগস্টে ইঞ্জিনগুলো দেশে এলেও নি¤œমানের কারণে সেগুলো বসিয়ে রাখা হয়। প্রায় ১৪ মাস পর চালু করা হলেও এসব ইঞ্জিন বেশ কয়েকবার চলতি পথে ফেইল করে।

এসব ইঞ্জিনে (লোকোমোটিভ) মূল ইঞ্জিন, অলটারনেটর, কম্প্রেসার ও ট্রাকশন মোটর চুক্তি অনুযায়ী সংযোজন করা হয়নি। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। এতে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনে হুন্দাই রোটেমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। আর ২০ লোকোমোটিভেও মূল ইঞ্জিনের মডেল পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে নিম্নমানের অলটারনেটর। গত বছর জুনে প্রথম চালানে এর মধ্যে ১০টি ইঞ্জিন দেশে আসে, বাকি ১০টি দেশে আসে গত মাসে। এসব ইঞ্জিন কেনায় ঋণ দিয়েছে কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক।

সূত্র:শেয়ার বিজ,  ১৪ ডিসেম্বর ২০২১


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।