বিশেষ সংবাদ

ট্রেনে নারীদের জন্য কামরা বরাদ্দে নির্দেশনা চেয়ে রিট

নিউজ ডেস্ক: ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ রাখতে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন।রিটে রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট চারজনকে বিবাদী করা…

Read More

রেলওয়ের অনুমতি ছাড়াই লেভেল ক্রসিং স্থাপন এলজিইডির

শামীম রাহমান :বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম—দুই অঞ্চল মিলে রেলপথ আছে ৩ হাজার ১৯ কিলোমিটার। রেলের এ নেটওয়ার্কে অনুমতি না নিয়ে ১ হাজার ১৪৯টি লেভেল ক্রসিং গড়ে তুলেছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। অনুমোদনহীন এমন লেভেল ক্রসিং নির্মাণে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সব মিলিয়ে সংস্থাটি রেলপথের ওপর গড়ে তুলেছে পাঁচশর বেশি অবৈধ লেভেল ক্রসিং। যদিও গেটম্যানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনুমোদনহীন এসব ক্রসিংয়ে নিয়মিতই ঘটছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিসংখ্যানই বলছে, ২০০৮-২০১৮ সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন যানবাহনের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ২৬৩ জনের। আইন অনুযায়ী, রেলপথে লেভেল ক্রসিং নির্মাণের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি পাওয়া গেলে রেলওয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করতে হয় লেভেল ক্রসিং। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে ৫১৬টি লেভেল ক্রসিং বানিয়েছে এলজিইডি। এর মধ্যে ৩৩২টিই বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে। পশ্চিমাঞ্চলে আছে অনুমোদনহীন বাকি ১৮৪টি লেভেল ক্রসিং। বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলো বানানোর সময় এর কোনোটিই করেনি এলজিইডি। শুধু রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা পার করিয়েই দায় সেরেছে সংস্থাটি। যানবাহন থামানোর জন্য গেট কিংবা গেটম্যান—রাখা হয়নি কোনোটিই। নেই সতর্কতামূলক সাইন/সিগন্যালও, যা তৈরি করছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা লেভেল ক্রসিংগুলো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করেন খোদ স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মেজবাহ উদ্দিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, আমাদের গ্রামীণ সড়কগুলোতে অনেক লেভেল ক্রসিং রয়েছে, যেগুলো যথাযথ নিময় মেনে বানানো হয়নি। ফলে মাঝেমধ্যেই এগুলো সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রেলওয়ের সঙ্গে লেভেল ক্রসিং সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে আমার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সারা দেশে এলজিইডির কত অবৈধ লেভেল ক্রসিং আছে, সেগুলো আমরা শনাক্ত করছি। অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোকে কীভাবে একটা সিস্টেমের মধ্যে আনা যায়, এ বিষয়ে আমরা রেলওয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধ লেভেল ক্রসিং সমস্যার সমাধানে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে এলজিইডি। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমতি নিয়ে বা অনুমতি ছাড়া এলজিইডির যেসব লেভেল ক্রসিং বানানো হয়েছে, সেগুলোয় রেলগেট, গুমটি ঘর নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নির্বাহ করা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। পাশাপাশি এলজিইডি নতুন যেসব সড়ক নির্মাণ করবে, সেগুলোয় যদি লেভেল ক্রসিং দেয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই কাজটি যথাযথ নিয়ম মেনে করার কথা বলছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। এলজিইডি ছাড়াও আরো আট সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রেলপথে বিপুলসংখ্যক অবৈধ লেভেল ক্রসিং বানিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ১১টি, ইউনিয়ন পরিষদের ৩৬৩টি, পৌরসভার ৭৯টি, সিটি করপোরেশনের ৩৪টি, জেলা পরিষদের ১৩টি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনটি, বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি, জয়পুরহাট চিনিকল কর্তৃপক্ষের একটি অবৈধ লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি উদ্যোগে তিনটি, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ৯২টি ও ৩৩টি এমন অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে, যেগুলোর মালিকানা আসলে কার, তা এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৪১২টি। এর মধ্যে গেটম্যান আছে মাত্র ৪৪৬টি লেভেল ক্রসিংয়ে। জনবলের অভাবে এখনো গেটম্যানবিহীন রেলের ৬৮ শতাংশের বেশি লেভেল ক্রসিং। লেভেল ক্রসিংয়ের রেলগেট ওঠানো-নামানোর দায়িত্বে থাকেন গেটম্যান। গেটম্যান না থাকায় ৯৬৪টি বৈধ লেভেল ক্রসিং সুরক্ষা-নিরাপত্তার দিক দিয়ে তাই অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর কাতারেই রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুমোদিত ও অননুমোদিত মিলে দেশে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা ২ হাজার ১১৩। বিপুলসংখ্যক লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এগারো বছরে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯৭টি। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৬৩ জনের। লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় ২০১৪ সালে। ৩৪টি দুর্ঘটনায় ওই বছর মারা যান ৫৪ জন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম মৃত্যু হয় ২০১৭ সালে। সে বছর ১৫টি দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। বিপুলসংখ্যক বৈধ লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত থাকার কারণ হিসেবে জনবল সংকটের কথা বলছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, জনবলের অভাবে অনেক বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে গেটকিপার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গেটকিপার নিয়োগ ও পদায়নের প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর সিংহভাগই যেহেতু বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বানিয়েছে, সেহেতু সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনতে লেভেল ক্রসিংয়ের সড়কে গতিরোধক দেয়ার কথাও বলছেন তারা। গতিরোধক বসানো নিয়ে গতকাল রেলভবনে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। সূত্র:বণিক বার্তা, জানুয়ারি ১১, ২০২১


শনির দশা কাটছেই না

দেবাশীষ দেবু : যান্ত্রিক ত্রুটি, কাঁচামাল সংকটসহ নানা অজুহাতে বছরের বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট। সর্বশেষ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর গত ৫ অক্টোবর চালু হয়েছিল এ প্লান্ট। তবে ১০ দিনের মাথায় কাঁচামাল সংকটের দোহাই দিয়ে আবার বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। এরপর চলতি মাসের শুরুতে কারখানাটিতে আবার উৎপাদন শুরু হলেও রোববার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ ছিল। এভাবে গত পাঁচ বছর মিলিয়ে ১২ মাসও চালু রাখা যায়নি এ প্লান্ট। একসময় দেশের একমাত্র স্লিপার প্লান্ট ছিল সরকারি এ প্রতিষ্ঠান। গত এক দশকে দেশে বেসরকারি উদ্যোগে আরো কয়েকটি স্লিপার কারখানা গড়ে ওঠে। রেলওয়ের সাবেক কর্মকর্তারাই ওসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ করে দিতেই নানা অজুহাতে রেলওয়ের মালিকানাধীন এ প্লান্ট বারবার বন্ধ করে দেয়া হয়। যদিও সংশ্লিষ্টরা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্লান্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতকে ১৯৮৮ সালে রেলওয়ের অধীনে স্থাপিত হয় দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার প্লান্ট। ওই বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে এখানে উৎপাদন শুরু হয়। প্রথমে দৈনিক ২৬৪টি স্লিপার উৎপাদন হতো। বর্তমানে এখানে বছরে ৫০ হাজার স্লিপার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্লান্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, কংক্রিট স্লিপার তৈরির অন্যতম উপাদান হচ্ছে সিমেন্ট, পাথর ও বালু। ছাতকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিমেন্ট কারখানা অবস্থিত। এছাড়া এখানে উন্নতমানের পাথর ও বালু পাওয়া যায়। এ কারণে সরকার কংক্রিট স্লিপার প্লান্টটি ছাতকে প্রতিষ্ঠা করে। তবে স্লিপারের প্রধান কাঁচামাল হাইটেনশন স্টিল রড, ইনসার্ট স্টিল পাত ভারত থেকে আমদানি করা হয়। ছাতক রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ছাতকে তৈরি এসব স্লিপার রেলওয়ে লাইনের নিয়মিত সংস্কারকাজে ব্যবহূত হয় বেশি। এছাড়া রেলওয়ের বড় প্রকল্পের মাধ্যমে যেসব কাজ হয়, সে কাজের জন্যও স্লিপার দরকার হয়। চালুর পর এ কারখানায় টানা উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও ২০০০ সালের পর থেকেই শুরু হয় নানা গোলযোগ। বিভিন্ন সমস্যায় বারবার বন্ধ হতে থাকে প্লান্টটি। ২০১২ সালে একটানা প্রায় এক বছর বন্ধ থাকে। ২০১৪ সালের মার্চ থেকে আবার একটানা বন্ধ থাকে প্রায় এক বছর। এ সময় থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অন্তত ১০ বার বন্ধ হয় প্লান্টটি। প্রতিবারই বন্ধ থাকে দীর্ঘ সময়। যদিও গত ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রী ছাতকে এ প্লান্ট পরিদর্শনের সময় দ্রুত চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশে গড়ে ওঠা বেসরকারি স্লিপার কারখানাগুলোকে সুবিধা করে দিতে নানা অজুহাত দেখিয়ে বারবার প্লান্টটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় রেলওয়ের সাবেক কর্মকর্তারা যুক্ত থাকায় রেলের কাজে ছাতকের ওই প্লান্ট থেকে স্লিপার নেয়া কমিয়ে দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ প্লান্টের এক শ্রমিক বলেন, এ কারখানার ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষেরও তেমন কোনো আগ্রহ নেই। ফলে তুচ্ছ কারণেও উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। উৎপাদিত স্লিপারের মান নিয়েও তেমন নজরদারি করা হয় না। ফলে স্লিপার কারখানাটির কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এ প্লান্টের দায়িত্বে থাকা ছাতকে রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী হাবিব উল্লাহ বলেন, এ প্লান্ট অনেক পুরনো হয়ে গেছে। তাই মাঝে মাঝেই এখানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ওভারহোলিং করতে হয়। এছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব জনবল নেই। তাই ঠিকাদারের মাধ্যমে জনবল দিয়ে চালাতে হয়। অনেক সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। আবার কাঁচামাল সংকটও রয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন সময় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে এ কারখানাটিতে যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চালু রাখা যায়, সে ব্যাপারে রেলওয়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার কথায়, সর্বশেষ করোনার কারণে এ বছর এখানে উৎপাদন শুরু করা যায়নি। আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ায় যান্ত্রিক কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সূত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ০৯, ২০২০


জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল লাইন নির্মাণে অত্যধিক ব্যয়ের উদ্যোগ

ইসমাইল আলী : জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেলপথটি ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। এজন্য ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। চীনের অর্থায়নে জিটুজি ভিত্তিতে রেলপথটি নির্মাণ করবে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।…


এক দশক ধরে ঝুলছে রেলের ৭০ ইঞ্জিন প্রকল্প

ইসমাইল আলী: বাংলাদেশ রেলওয়ের ইঞ্জিনের বড় অংশের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে বহু আগেই। এজন্য ২০১১ সালে ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। তবে এক দশকেও ইঞ্জিনগুলো কেনা সম্পন্ন হয়নি। এমনকি ইঞ্জিনগুলো কেনার জন্য বাণিজ্যিক চুক্তি সইয়ের…


২০১৯-২০ অর্থবছরে রেলওয়ের আয় কমেছে ৩৯০ কোটি টাকা

ইসমাইল আলী: দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। তবে কভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৬ দিন ছিল সাধারণ ছুটি। এর দুদিন আগে ২৪ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় যাত্রীবাহী ট্রেন…


করোনার মধ্যেই রেলের ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ

ইসমাইল আলী: করোনাকালীন সময়ে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। এরপর বিভিন্ন রুটে পর্যায়ক্রমে সীমিত আকারে চালু হচ্ছে ট্রেন চলাচল। এরই মধ্যে রেলের ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও চূড়ান্ত করেছে…


টিকিট ছাড়া ট্রেনে উঠায় ১৯ যাত্রীকে জরিমানা

সান্তাহার রেলস্টেশনে ব্লক চেকিং চালিয়ে টিকিট ছাড়া ট্রেনে উঠায় ১৯ জন যাত্রীকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ সময় চারটি ট্রেনের ১৯ জন যাত্রীর কাছ থেকে ৬ হাজার ৬৯০ টাকা ভাড়া ও জরিমানা আদায় করা হয়।…


ট্রেন কমছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে

।।নিউজ ডেস্ক।। সীমিত পরিসরে বর্তমানে ১৯টি ট্রেন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। দীর্ঘ দুই মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে যখন প্রথম দফায় আটটি ট্রেন চলাচল শুরু হয়, তখন টিকিটের জন্য বলতে গেলে হাহাকার লেগে গিয়েছিল। অনলাইনে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম শুরুর ১ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যেত সব টিকিট। কালোবাজারে টিকিট বিক্রির অভিযোগও ছিল সে সময়। তবে ১৫ দিন পার হতেই বদলে গেছে সেই চিত্র। কোনো কোনো রুটে একেবারেই যাত্রী হচ্ছে না। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি ট্রেন বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। ৩১ মে থেকে আট জোড়া ট্রেন সীমিত পরিসরে পরিচালনা শুরু হয়। ৩ জুন পরিচালনায় যোগ দেয় আরো ১১ জোড়া ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক টিকিট বিক্রি করে আসছে রেলওয়ে। টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি চলছে অনলাইনে। চলাচলের সময় রুটে থাকা বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রাবিরতির পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দুটি ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। একইভাবে বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে আন্তঃনগর সুবর্ণ এক্সপ্রেস। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেল রুটটি প্রত্যাশিত যাত্রী হচ্ছে না। বিপরীতে দুটি ট্রেন পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিদিন মোটা অংকের অর্থ লোকসান হচ্ছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের একটি ট্রেন কমিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সোনার বাংলা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসের মধ্যে কোন ট্রেনটি বন্ধ হবে, তা গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারেননি রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, রুটটির দুই প্রান্ত থেকে দুদিক দিয়েই যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। এমন অবস্থায় কোন ট্রেনটি বন্ধ হবে, তা নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। তবে আজই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে রেল ভবনের একটি সূত্র। এদিকে একটি নয়, দুটি রুটে ট্রেন কমানোর পরিকল্পনার কথা গতকাল বণিক বার্তাকে জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ৩১ মে থেকে আমরা যখন সীমিত পরিসরে কয়েকটি ট্রেন চালু করি, তখন ট্রেনগুলোতে প্রথম ৮-১০ দিন ভালোই যাত্রী হচ্ছিল। কিন্তু কয়েকদিন ধরে কিছু ট্রেনে একেবারেই যাত্রী হচ্ছে না। এর মধ্যে সবচেয়ে কম যাত্রী হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহের মধ্যে। আমরা এখনো ট্রেনগুলোতে যাত্রীর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করছি। আমরা এ দুই রুটে একটা একটা করে দুটো ট্রেন কমাতে পারি। তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটা তো সম্ভব হয়ইনি, উল্টো এখন ট্রেন কমানোর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি যদি ট্রেন চলাচলের উপযোগী হয়, তাহলে আরো নতুন ট্রেন চালু করা হবে বলে এ সময় জানান তিনি। শুধু ট্রেন নয়, যাত্রী সংকট রয়েছে নৌ ও সড়কপথেও। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য বলছে, বর্তমানে ঢাকার সদরঘাট থেকে ৫৫ থেকে ৬০টি লঞ্চ দেশের বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন দেড়শর বেশি লঞ্চ চলাচল করত। বিআইডব্লিউটিএর সদরঘাট টার্মিনালের যুগ্ম মহাপরিচালক আলমগীর কবির বণিক বার্তাকে বলেন, সাধারণ ছুটির পর যখন লঞ্চ চলাচল শুরু হয়, তখন বেশির ভাগ লঞ্চেই প্রচুর যাত্রী থাকত। বর্তমানে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম। আগে যেখানে ঢাকা-চাঁদপুর রুটে প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর একটি করে লঞ্চ ছেড়ে যেত। আর গতকাল রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চাঁদপুরের উদ্দেশে সদরঘাট ছেড়েছে মাত্র ১২টি লঞ্চ। শিডিউলে ছিল আরো দুটি। দেশের অন্য নৌরুটেও একই অবস্থা। তবে প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রীর সংখ্যা চোখে লাগার মতো কম ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। লঞ্চে যাত্রী কম থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, চালুর পর কিছুদিন তুলনামূলক যাত্রী হতো। কিন্তু এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে লঞ্চ চালিয়ে তেলের টাকাই তুলতে পারছেন না মালিকরা।  একইভাবে যাত্রী সংকটের কথা জানিয়েছেন ঢাকার গণপরিবহন মালিকরাও। তারা বলছেন, সকালে অফিস শুরুর আগে ও অফিস ছুটির পর বাদ দিয়ে দিনের পুরোটা সময় গাড়ির মোট আসনের ১০-১৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া আদায় করেও বাসের পরিচালন ব্যয় তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। দূরপাল্লার বাসেও আসনের ৫০ শতাংশ যাত্রী না হওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শ্যামলী পরিবহনের মালিক রমেশ চন্দ্র ঘোষ। সূত্র:বণিক বার্তা, জুন ১৭, ২০২০


বিশেষ ট্রেন, জমেছে আমের বাজার

সজীব আহমেদ: করোনাভাইরাস মহামারিতে জ্যৈষ্ঠের মিষ্টিমধুর আম সঠিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে, নাকি গাছেই পচবে—এমন শঙ্কায় ছিলেন আম চাষিরা। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে আম রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়াটাও ছিল তাঁদের শঙ্কার আরেক কারণ।…