রেল অবকাঠামো

বি-ক্লাসের মর্যাদা হারাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন

সুজিত সাহা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে গত ২৬ মার্চ ব্যাপক ভাংচুর করে হেফাজতে ইসলাম। নাশকতায় রেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুই মাস ধরে ওই স্টেশনে সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ। স্থানীয়দের দাবির মুখে স্টেশনটির কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। তবে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণে পূর্বের বি-ক্লাস স্টেশনটি ডি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করবে রেলওয়ে। হেফাজতের নাশকতাসংক্রান্ত রেলের তথ্য বলছে, ২৬ মার্চের নাশকতায় রেলের ১০টি খাতের সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৪০৩ টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক বিভাগের ক্ষতি হয়েছে ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের (সিএনএস) ২৫ লাখ, রেলওয়ে ট্র্যাক (পি ওয়ে) ৭৪ লাখ ৮৪ হাজার, সেতু ২৫ লাখ, সংকেত বিভাগের ৪৩ লাখ ৯৫ হাজার, টেলিকমের ৩ লাখ ৯৫ হাজার, রেডিও ২ লাখ ৮০ হাজার, ক্যারেজ (কোচ ও ওয়াগন) ২০ লাখ, লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ২ লাখ এবং অন্যান্য বিভাগের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়েতে এ, বি, সি, ডি ও হল্ট স্টেশনের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা ও অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়েতে এখন এ-ক্লাস স্টেশন একটিও নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ-ক্লাস স্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। দেশের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বি-ক্লাসের। বি-ক্লাস স্টেশনে ট্রেন পরিচালনার প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু নাশকতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সংকেত ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখানে আপাতত বি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে চালু করা সম্ভব নয়। এ কারণে শুধু ডি-ক্লাস স্টপেজ দিয়েই যাত্রী ওঠানামা এবং বুকিং সহকারীর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চালু করা হবে। অর্থাৎ নাশকতার কারণে রেলওয়ে স্টেশনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বি-ক্লাস স্টেশন থেকে ডি-ক্লাস স্টেশনে রূপান্তর হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া  রেলওয়ে স্টেশন। জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, নাশকতার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে আপাতত পূর্বের ন্যায় বি-ক্লাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ স্টেশনের ক্ষয়ক্ষতি স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আপাতত ডি-ক্লাস স্টেশন হিসেবে চালু করে শুধু যাত্রী ওঠানামার কার্যক্রম চালু করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেলভবনের অনুমোদন পেলে শিগগিরই বন্ধ থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের স্টপেজ চালু করা হবে। অপারেশনাল অবকাঠামো সম্পূর্ণ মেরামত না হলে স্টেশনটি বি-ক্লাস হিসেবে চালু করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে দুই মাসের অধিক সময় কোনো ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেছে। কিছুদিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলন থেকে স্টপেজ না দেয়া হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে চলাচলরত ট্রেনে ফের ভাংচুরের হুমকি দেয়াও হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নতুন করে স্টপেজ দিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ থেকে ৯ জুন একটি প্রস্তাব রেলভবনে পাঠানো হয়েছে। রেলের এ-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি বি-ক্লাস স্টেশন হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ যাত্রী ওঠানামা করে। ২৬ মার্চের নাশকতায় এ স্টেশনের ভবন, প্যানেল বোর্ড, অফিস কক্ষ ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে স্টেশন বিল্ডিংয়ের ব্যাপক ক্ষতি ছাড়াও অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্টেশনের অপারেটিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় সংস্কার কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন বিধায় ২৭ মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি প্রত্যাহার করা হয়। সূত্র:বণিক বার্তা, জুন ১১, ২০২১

Read More

ঢাকা-টঙ্গী নতুন রেললাইন নির্মাণে বড় বাধা বিমানবন্দর ষ্টেশন

|| নিউজ ডেস্ক || টঙ্গী-কমলাপুর ৩য় এবং ৪র্থ লাইন। রেল উন্নয়নে একটি বিপ্লব নির্ভর করছে এর বাস্তবায়নে। এখন দুটি লাইনে (আপ এন্ড ডাউন) বেধে যায় মারাত্মক জট। রাইট টাইমে টঙ্গী এসেও এক ঘন্টা লেট হয়…


ট্রেনকে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার চলার উপযোগী করা হচ্ছে : রেলমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:ট্রেনকে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার চলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভারতে ঘণ্টায় ১৬৭ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়। এই ব্যবস্থা বাংলাদেশেও করা হবে। তখন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা। শনিবার…


নতুন ২০০ কোচ আমদানি করা হবে : রেলমন্ত্রী

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ট্রেনের আরও নতুন ২০০ কোচ বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে। রেলের উন্নয়নের জন্য যে সব জায়গা প্রয়োজন দখলে থাকা ওই সব জায়গা বৃহত্তর স্বার্থে ছেড়ে দিতে হবে।…


রেলপথ নির্মাণে রাখতে হবে ইলেকট্রিক ট্রাকশনের প্রভিশন

ইসমাইল আলী: রেলওয়ের উন্নয়নে ২০১১ সালে গঠন করা হয় পৃথক মন্ত্রণালয়। গত এক দশকে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে কয়েকগুণ। এরপরও রেলের উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। এমনকি বাড়েনি ট্রেনের গতি। বরং প্রতি বছর রেলের লোকসানের পরিমাণ…


ব্যয় বেড়েছে ১০ গুণ অগ্রগতি ২১ শতাংশ

শিপন হাবীব : রেলের ৩৮টি উন্নয়ন প্রকল্প লোকাল ট্রেনের মতোই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্রকল্পে বাসা বেঁধেছে অনিয়ম-দুর্নীতি। কয়েকটি প্রকল্পের ব্যয় ১০ গুণেরও বেশি বেড়েছে। ৩৮টি প্রকল্পের মধ্যে মেগা ১২ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২১ শতাংশ। বাকি…


৩৭১.৩৩ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মিত হয়েছে : রেলপথ মন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৭১.৩৩ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ ও ১১৫২.৪৮ কিলোমিটার রেলপথ পূনর্বাসন করা হয়েছে। আজ সংসদে বিএনপির সদস্য মো. জাহিদুর রহমানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন…


ভাঙ্গা থেকে পায়রা রেলপথ প্রকল্প: ২১২ কিমি. রেলপথে হবে আড়াইশ’ রেলসেতু

আকতার ফারুক শাহিন: ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা ও বরিশাল নগরী হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ২১২ কিলোমিটার রেললাইনে প্রায় আড়াইশ’ রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য যাচাইয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, এই পথে ১২টি…


রেল ইঞ্জিনের সক্ষমতা বাড়াতে ২৪২ কোটি টাকার প্রকল্প

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২৭২টি ডিজেল ইঞ্জিন ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ রয়েছে। এরমধ্যে ১৯৬টির আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। এই অবস্থায় রেলের গতি বাড়াতে নতুন ইঞ্জিন ক্রয়ের পাশাপশি ২৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২১টি রেল ইঞ্জিনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।…


সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তৈরি হচ্ছে আরেকটি ক্যারেজ শপ

মো. আমিরুজ্জামান: জল্পনা-কল্পনা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অভ্যন্তরে তৈরি হচ্ছে আরেকটি ক্যারেজ (কোচ) শপ। ইতোমধ্যে এর সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি) যাচাই-বাছাইয়ের পর স্থান নির্বাচন করে টাঙানো হয়েছে সাইনবোর্ড। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৮৭০…