প্রাইভেটের চেয়ে রেলের নিজস্ব ক্যাটারিং লাভজনক

প্রাইভেটের চেয়ে রেলের নিজস্ব ক্যাটারিং লাভজনক

শামীম রাহমান :

আন্তঃনগর ট্রেনে সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ বেশ পুরনো। তাদের আপত্তি রয়েছে সরবরাহ করা খাবারের দাম নিয়েও। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিংহভাগ ট্রেনে খাবার সরবরাহ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের খাবার ও বাড়তি দাম আদায় করলেও তার দায়দায়িত্ব এসে পড়ে রেলওয়ের কাঁধে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে খাবার সরবরাহ শুরু করেছে রেলওয়ে। বর্তমানে দেশের চারটি ট্রেনে রেলওয়ের নিজস্ব ক্যাটারিং কোম্পানি ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম সেল বা বিআরসিটিসির মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। রেলওয়ের হিসাব বলছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিয়ে যা আয় হতো, চারটি ট্রেনে বিআরসিটিসি আয় করছে তার চেয়ে বেশি।

বর্তমানে আন্তঃনগর বনলতা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, বেনাপোল এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে কার্যক্রম পরিচালনা করছে রেলওয়ের ক্যাটারিং কোম্পানি বিআরসিটিসি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চালুর পর থেকে এসব ট্রেন থেকে ক্যাটারিং বাবদ ৭ লাখ ৩২ হাজার ৯৬২ টাকা রেলওয়ের খাতে জমা করা হয়েছে। এর মধ্যে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে এসেছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫২ টাকা। একইভাবে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস থেকে ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৮, বেনাপোল এক্সপ্রেস থেকে ৭৪ হাজার ২২৬ ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ১ লাখ ৩ হাজার ৯২৬ টাকা রেলওয়ের কোষাগারে জমা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, বিআরসিটিসি থেকে যা আয় হয়েছে, তা রেলওয়ের কাছ থেকে ইজারা নেয়া অন্য যেকোনো ক্যাটারিং কোম্পানির চেয়ে বেশি। পাশাপাশি বেসরকারি ক্যাটারিং কোম্পানির চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামে মানসম্মত খাবার সরবরাহ করছে বিআরসিটিসি। প্রতিষ্ঠানটি তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ করার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করে দিয়েছে। এ কমিটির সুপারিশের আলোকেই রেলওয়ে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনা করছে।

ট্রেনে খাবারের মান বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত যাত্রীসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিসে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২০’ সম্প্রতি অনুমোদন হয়েছে। এ নীতিমালায় ট্রেনে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়ার জন্য বেসরকারি ক্যাটারিং কোম্পানিগুলোর জন্য বেশকিছু শর্ত আরোপ করে দেয়া হয়েছে।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসবে। এজন্য নতুন করে ক্যাটারিং নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতিমালার আলোকে রেলওয়ে যেসব নতুন ট্রেন প্রবর্তন করবে, সেগুলোয় রেলওয়ের নিজস্ব ক্যাটারিং কোম্পানি খাবার সরবরাহ করবে। পাশাপাশি বর্তমানে রেলওয়ে যেসব ক্যাটারিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, সেগুলোর সঙ্গেও নতুন করে আর চুক্তি করা হবে না।

উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচল করা সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ক্যাটারিং সার্ভিস এতদিন পর্যটন করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ১৫ নভেম্বর পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তি শেষ হয়। এর পর থেকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে ক্যাটারিং পরিচালনা করবে বিআরসিটিসি।

ক্যাটারিং সার্ভিসের পাশাপাশি ট্রেনগুলোয় নিজস্ব ব্র্যান্ডের পানিও বিক্রি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ পানির নাম ‘রেলপানি’। রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ক্যাটারিং বিষয়ক সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বিবেচনায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক্রমে মাঠ পর্যায়ের জরিপের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় রেলওয়ের ন্যায় প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পানি সরবরাহের বিষয়টি প্রশাসনিক অনুমোদন পায়। এরপর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দলিল ক্রয় করে। দরপত্র দাখিল করে প্রাণ ও শ্যামলী নামের প্রতিষ্ঠান। পরে শ্যামলীর সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে। চুক্তির পর পরই শ্যামলীর পানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিএসটিআই, বুয়েট এবং আইসিডিডিআর,বি থেকে পানি পরীক্ষা করে। তিন প্রতিষ্ঠানই ‘রেলপানি’কে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

চলমান করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে রেলওয়ে ট্রেনে রান্না করা খাবার সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৫ নভেম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে আগের মতোই খাবার সরবরাহ করা হবে। একই দিন থেকে ট্রেনে রেলপানিও বিক্রি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সূত্র:বণিক বার্তা,

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।