শিরোনাম

মন্ত্রীর আশ্বাসে রেলের ধর্মঘট প্রত্যাহার, ট্রেন চলাচল শুরু


।। নিউজ ডেস্ক ।।
পূর্বনির্ধারিত মাইলেজ বা বেতন-ভাতা বাতিল করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে ডাকা রানিং স্টাফদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ার পরপরই এ ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

বিষয়টির সমাধানে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকের শেষে সোয়া ১২টায় রেলমন্ত্রী কমলাপুরে সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে। বাতিলে সবরকম চেষ্টা করা হবে। আগামী ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হবে। সেখানের রানিং স্টাফদের দাবি নিয়ে আলোচনা হবে।

এ ঘোষণার পর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মাইলেজ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের বিষয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আমরা রেলের রানিং স্টাফদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। তাদের দাবি আদায়ে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু গত ১০ এপ্রিল বেসমারিক কর্মচারীদের পেনশন ও আনুতোষিক হিসাবের ক্ষেত্রে মূল বেতনের সঙ্গে কোনো ভাতা যোগ করার সুযোগ নেই বিধায় রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে রানিং ভাতা, পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবে নির্দেশক্রমে পুনরায় অর্থ বিভাগ অসম্মতি জানায়।

রানিং স্টাফ বলতে ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটি) বোঝানো হয়। ট্রেনচালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিটিরা ১৬০ বছর ধরে মাইলেজ সুবিধা পাচ্ছিলেন। অর্থাৎ দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বেসিকের হিসেবে বাড়তি অর্থ পেতেন। এ ছাড়া অবসরের পর বেসিকের সঙ্গে এর ৭৫ শতাংশ অর্থ যোগ করে অবসরকালীন অর্থের হিসাব হতো। গত বছরের ৩ নভেম্বর এসব সুবিধা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

এরপর থেকে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। তবে গত ৩০ জানুয়ারি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। তবে ১০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের এক আদেশে, রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে চলমান ভাতা যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক প্রদানের প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, রেলের রানিং স্টাফরা (ট্রেনচালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিটি) ১৬০ বছর ধরে মাইলেজ সুবিধা পাচ্ছিলেন। অর্থাৎ, দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বেসিকের হিসেবে বাড়তি অর্থ পেতেন। এ ছাড়া, অবসরের পর বেসিকের সঙ্গে এর ৭৫ শতাংশ অর্থ যোগ করে অবসরকালীন অর্থের হিসাব হতো। গত বছরের ৩ নভেম্বর এসব সুবিধা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর থেকে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। তবে গত ৩০ জানুয়ারি রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।

এরপর গত ১০ এপ্রিল অর্থ বিভাগের এক আদেশে, রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক প্রদানের প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর হঠাৎ আজ ভোর থেকে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।

পরে আজ অর্থ মন্ত্রণালয় গত ১০ এপ্রিলের জারিকৃত সার্কুলারটি প্রত্যাহার করে রেল মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য কিছু তথ্য চেয়েছে।


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।