ফয়’স লেক ইজারা দিয়ে বিপাকে রেলওয়ে

ফয়’স লেক ইজারা দিয়ে বিপাকে রেলওয়ে

সাইদসবুজ: রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ২৪ হাজার ৪৪০ একর ভূমির মধ্যে ১৫ হাজার ৩১ একর অপারেশনাল কাজে ব্যবহার করা হয়। আর অবশিষ্ট ৯ হাজার ৪০৯ একর ভূমির মধ্যে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ৪৮৭ একর। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ফয়’স লেকের ৩৩৬ দশমিক ৬২ একর জমি ২০০৩ সালে নামমাত্র মূল্যে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে ইজারা দিয়ে বিপাকে পড়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে রেলওয়ে, পর্যটন করপোরেশন ও কনকর্ডের (কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট ও কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড) সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। এর আওতায় ৫০ বছরের জন্য ফয়’স লেকের ইজারা পায় কনকর্ড। কিন্তু ফয়’স লেক ইজারা দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি বছর ক্ষতি হচ্ছিল এক কোটি ৬১ লাখ টাকা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে ২০১৮ সালে ১৯ জুলাই কনকর্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে রেলওয়ে। কারণ ফয়’স লেক ইজারা দিয়ে কনকর্ড থেকে বছরে রেলওয়ের আয় ছিল ৩৭ লাখ টাকা। বিপরীতে এই জায়গার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়েকে প্রতি বছরই ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ এক কোটি ৯৮ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। পাশাপাশি লেকের জন্য সরবরাহ করা সব ধরনের পরিষেবা সংযোগ (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি) বিচ্ছিন্ন করা হয়। চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে শর্ত ভঙ্গ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্টের অভিযোগও আনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

যদিও কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট ও কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড চুক্তি বাতিলের বিপরীতে উচ্চ আদালতে দুটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করে। এর মধ্যে ইজারার শর্ত ভঙ্গের বিরুদ্ধে ৯৬৫৭/২০১৮নং রিট পিটিশনটি করা হয়। আর বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন ও বন্ধকরণের বিরুদ্ধে ৯৩১৮/২০১৮নং রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। তারপর ওই রিট পিটিশন নং ৯৬৫৭/২০১৮ আলোকে মহামান্য হাইকোর্ট গত ১৫ অক্টোবর চুক্তি বাতিলের আদেশটি স্থগিত করেন।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ইসরাত রেজা বলেন, ‘কনকর্ড চুক্তি ভঙ্গ করার কারণে তাদের সঙ্গে চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আদালতের সিদ্ধান্ত দেওয়া ছাড়া কোনো কিছু বলতে পারব না।’

এদিকে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি আদালতে পৌঁছালে একপ্রকার বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কারণ একদিকে নিজেদের ভূমি পেতে সময় লাগছে, অন্যদিকে এক কোটি ৯৮ হাজার টাকার ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে রিট পিটিশন নং ৯৬৫৭/২০১৮ ও ৯২১৮/২০১৮-এর শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সম্পৃক্ত করার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ৩৩৬ দশমিক ৬২ একর ফয়’স লেকটি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে লেকের পানি দূষিত করায় পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকায় ও আরও কিছু শর্ত ভঙ্গ করায় চুক্তিটি বাতিল করা হয়। এ অবস্থায় পরিবেশ ও সরকারি স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ফয়’স লেকর লিজ-সংক্রান্ত রিট পিটিশন দুটির গুরুত্ব বিবেচনায় শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করো হলো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘রিট পিটিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়েছে, কিন্তু এখনও শুনানি হয়নি। ফলে বর্তমানে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিরোধে করা মামলাগুলো আমাদের পক্ষে এসেছে। আশা করছি এ রায়টিও আমাদের পক্ষে আসবে।’

সুদ্র:শেয়ার বিজ, জানুয়ারী ১৩, ২০২০

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।