নির্মাণকাজে গতি না থাকলেও বাড়ছে ঠিকাদার নিয়োগ ব্যয়

নির্মাণকাজে গতি না থাকলেও বাড়ছে ঠিকাদার নিয়োগ ব্যয়

ইসমাইলআলীখুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। তিন বছরের মধ্যে তা কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার নিয়োগ হয় ২০১৫ সালের অক্টোবরে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০১৮ সালের জুনে প্রকল্প শেষ করার কথা ছিল, যদিও গত ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ।

বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলেও প্রকল্পটির ঠিকাদার নিয়োগ ব্যয় তথা চুক্তিমূল্য বাড়ানো হচ্ছে প্রায় ১৯ শতাংশ। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয়ও বেড়ে যাবে। সম্প্রতি রাজধানীর রেলভবনে প্রকল্পসংক্রান্ত বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে।

সূত্রমতে, ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানোর পর চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তব অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের আগে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে জানানো হয়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬১ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর মধ্যে মূল রেলপথ নির্মাণকাজের (প্যাকেজ-১) অগ্রগতি ৫০ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর প্রকল্পটির আওতায় রূপসা রেল সেতু নির্মাণ কাজের (প্যাকেজ-২) অগ্রগতি ৬১ শতাংশ।

প্রথম প্যাকেজের আওতায় ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ ছাড়াও আটটি রেলস্টেশন, প্ল্যাটফরম ও ফুটওভারব্রিজ, ৩১টি মেজর ও মাইনর সেতু, ১১২টি কালভার্ট, লেভেলক্রসিং গেট ও আন্ডারপাস এবং ১৫টি ফাংশনাল বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে। এ কাজের ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর চুক্তি করা হয়। সে সময় চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছিল এক হাজার ২৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বৈঠকের তথ্যমতে, রেলপথ নির্মাণকাজ শুরুর পর প্রকল্পের সাইটের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণপূর্বক বাস্তবতার নিরিখে বিস্তারিত নকশা সংশোধন করা হয়। এতে কাজের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়েছে। চুক্তিপত্রভুক্ত ২১২টি আইটেমের মধ্যে ৯৭টি আইটেমের কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি ও ১৬টি আইটেমের কাজের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া নতুন ১০টি আইটেমের কাজ যুক্ত হয়েছে।

এদিকে চুক্তিতে আয়কর ও ভ্যাটের হার ধরা হয়েছিল যথাক্রমে পাঁচ ও পাঁচ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে সরকার কর্তৃক এ হার দুই দফা পরিবর্তিত হয়। বর্তমানে আয়করের হার সাত ও ভ্যাটের হার সাত দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত আয়কর/ভ্যাট আরোপ করা হলে তা সরকারি তহবিল থেকে ঠিকাদারকে ফেরত দিতে হবে। এসব কারণে চুক্তিমূল্য বেড়ে যাচ্ছে।

তথ্যমতে, খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে প্রথম প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ছিল এক হাজার ২৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। নতুন হিসাবে চুক্তিমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ ঠিকাদার নিয়োগ ব্যয় বাড়ছে ২৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এদিকে প্রাথমিকভাবে ঠিকাদার নিয়োগ ব্যয়ের মধ্যে দাতা সংস্থার ঋণ ছিল এক হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আর সরকারি তহবিলের পরিমাণ ছিল ১২৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এখন উভয় খাতে ব্যয় হবে যথাক্রমে এক হাজার ৩৪৯ কোটি ১৯ লাখ ও ১৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ঠিকাদার নিয়োগে দাতা সংস্থার ঋণ ও সরকারি তহবিল উভয় খাতেই ব্যয় বাড়ছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, নির্মাণব্যয় বাড়ায় প্রকল্পটির ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) আরেক দফা সংশোধন করতে হবে। কারণ ২০১৫ সালের সংশোধিত ডিপিপিতে যে পরিমাণ অর্থের সংস্থান ছিল তা চুক্তিমূল্যের চেয়ে কম। এজন্য আবার প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হবে। তবে কবে নাগাদ প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ভারতের রাষ্ট্রীয় ঋণের (এলওসি) আওতায় খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নশেষে ২০১৫ সালের মে মাসে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। তখন প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এখন নতুন করে ব্যয় বাড়ার ফলে প্রকল্পটির সার্বিক ব্যয় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুত্র:শেয়ার বিজ, জানুয়ারী ২৭, ২০২০

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।