শিরোনাম

ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণে উচ্চ ব্যয় নিয়ে এডিবির আপত্তি


।। নিউজ ডেস্ক ।।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নীতকরণে চারটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে রেলওয়ে। এজন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ৮০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোর কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণব্যয় অনেক বেশি বলে মনে করছে সংস্থাটি। তাই প্রকল্পগুলোর ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে এডিবি। গত রোববার রেলভবনে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আপত্তি তোলা হয়।

সূত্রমতে, আগামী কয়েক বছরে অর্থায়নের জন্য এডিবির কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঁচটি প্রকল্প তুলে ধরা হয় বৈঠকে। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পই ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরসংশ্লিষ্ট। এগুলো হলো, লাকসাম-চিনকি আস্তানা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইন মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথের স্থানে নতুন ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, টঙ্গী-আখাউড়া বিদ্যমান ডাবল লাইন মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং ঢাকা থেকে কুমিল্লা/লাকসাম পর্যন্ত কডলাইন (ডুয়েলগেজ) নির্মাণ। এছাড়া গাজীপুরের কাছে ধীরাশ্রমে নতুন অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণেও ঋণ চাওয়া হয়।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে কডলাইন ছাড়া বাকিগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর ভিত্তিতে প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) প্রণয়নও করা হয়েছে। সে অনুযায়ীই এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত নির্মাণব্যয়কে অনেক বেশি বলে বৈঠকে জানান এডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

যদিও এডিবির কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বৈঠকে উপস্থিত রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, ডাবল লাইন হওয়ায় প্রতিটি প্রকল্পেই দুটি করে লাইন নির্মাণ করতে হবে। এতে রেলপথের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তাই নির্মাণব্যয় বেশি তথ্যটি সঠিক নয়। এছাড়া পিডিপিপির ব্যয় চূড়ান্ত নয়। ঋণের নিশ্চয়তা পেলে যাচাই-বাছাইপূর্বক প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত করা হবে। তখন নির্মাণব্যয়ও কমতে পারে।

বৈঠকে জানানো হয়, ধীরাশ্রম আইসিডি নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির পিডিপিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ২৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

লাকসাম-চিনকি আস্তানা-চট্টগ্রাম রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ১৪৮ কোটি ৬৮ কোটি ডলার। প্রকল্পটির পিডিপিপিও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে প্রায় ২১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ১২৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ ছাড়াও এ প্রকল্পে ৫২টি মেজর ও ৩৩১টি মাইনর সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এতে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়বে এক কোটি ৪৫ লাখ ডলার বা ১২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, লাকসাম-চিনকি আস্তানা-চট্টগ্রাম রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের পিডিপিপি যাচাই-বাছাইয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকেও ব্যয় বেশির কথা উঠে আসে। সে সময় বলা হয়, পিডিপিপি অনুযায়ী সার্বিকভাবে প্রতি কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় ৪২ কোটি দুই লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু ট্র্যাকের জন্য ৩৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং ট্রাক, সেতু, কালভার্ট ও স্টেশন বিল্ডিং বাবদ প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ব্যয় অনেক বেশি মন্তব্য করে তা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি ৭৬ কোটি ডলার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১০৩ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ৫২ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ ছাড়াও ২৪টি মেজর ও ৯৫টি মাইনর সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়বে দুই কোটি ৩৭ লাখ ডলার বা ২০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

টঙ্গী-আখাউড়া রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭১ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ১৪৫ কোটি ২৮ কোটি ডলার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাত্র চার একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আর প্রকল্পটির আওতায় ৯৫ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার ট্রাক ডুয়েলগেজে রূপান্তর ছাড়াও ৬৪টি মেজর ও ৫৭টি মাইনর সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ প্রকল্পে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে এক কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৫৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এ প্রকল্পের অধীনে প্রস্তাবিত ভৈরব ও তিতাস রেল সেতু নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধির শর্ত দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে সেতুগুলোর হাইট ক্লিয়ারেন্স অনুমোদনের শর্ত দেয় এডিবি। যদিও আপাতত তা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, একটি সেতু উঁচু করলেও বিদ্যমান দ্বিতীয় ভৈরব ও দ্বিতীয় তিতাস রেল সেতুর উচ্চতা কমই রয়েছে। আর এগুলো এখন ভাঙা হবে না। তাই নতুন সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি করলে দুদিকের সংযোগ রেললাইন ও স্টেশনের উচ্চতাও কমপক্ষে পাঁচ মিটার বাড়াতে হবে। এতে ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে সম্ভাব্যতা যাচাই না হওয়ায় ঢাকা থেকে কুমিল্লা/লাকসাম পর্যন্ত কডলাইন নির্মাণে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে পারেনি রেলওয়ে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ৮৩ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। এজন্য সম্ভাব্য জমি অধিগ্রহণ দরকার হবে ৪৯০ হেক্টর। আর ৬৯টি সেতু নির্মাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ৪০০ কোটি ডলার ঋণ দরকার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে উপস্থিত রেলওয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এডিবি লাকসাম-চিনকি আস্তানা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-দোহাজারী ও ধীরাশ্রম আইসিডি নির্মাণ প্রকল্পে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। এ সময় রেলপথ উচ্চ নির্মাণব্যয় নিয়ে আপত্তি তুললেও তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে বৈঠকে। তবে প্রস্তাবিত ভৈরব ও তিতাস রেল সেতুর উচ্চতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। তাই এ প্রকল্পটি পরবর্তী সময়ে অর্থায়নের জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ না হওয়ায় ঢাকা-কুমিল্লা/লাকসাম কডলাইন প্রকল্পও পাইপলাইনে রাখা হয়েছে।

সূত্র:শেয়ার বিজ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।