ট্রেন দুর্ঘটনার বছর

ট্রেন দুর্ঘটনার বছর

নিউজ ডেস্ক: বিগত বছরগুলোর তুলনায় বিদায়ী বছরে একের পর এক দেশে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। অব্যবস্থাপনা, রেললাইন সংস্কারের অভাব ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে নিরাপদ ভ্রমণের প্রতীক এ বাহনটিও হয়ে ওঠে যাত্রীদের কাছে আতঙ্ক। সারাবছরই ছোট-বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলেও সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ব্রাহ্মণাবাড়িয়ার কসবায় দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ১৮ জনের প্রাণহানি। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সেতু ভেঙে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি খাদে পড়ে চারজন নিহত এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে আগুন লেগে যাওয়া ছিল উল্লেখযোগ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :২০১৯ সালে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দাবাগ রেলস্টেশনে গত ১১ নভেম্বর রাত ৩টায়। ওই দুর্ঘটনায় শিশু-নারীসহ ১৮ জন প্রাণ হারান। আহত হন অর্ধশতাধিক যাত্রী। নিহতের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরও দু’জন মারা যান। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের চালকের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। তবে পরে এ ঘটনায় গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটির তদন্তেও চালকের অবহেলার বিষয়টিই কারণ হিসেবে বেরিয়ে আসে। দুর্ঘটনার আগে ১নং লাইনে প্রবেশ করে উদয়ন এক্সপ্রেস। একই লাইনে বিপরীত দিক থেকে আসছিল আন্তঃনগর তূর্ণা এক্সপ্রেস। ট্রেন দুটির ক্রসিং হওয়ার কথা ছিল এই স্টেশনে। তাই উদয়ন এক্সপ্রেসকে এক নম্বর লাইন থেকে ডান পাশের লুপ লাইনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, যাতে তূর্ণা নিশীথা পাশ কাটিয়ে স্টেশন পার হতে পারে।

এদিকে উদয়ন এক্সপ্রেস স্টেশনে প্রবেশের পর বিপরীত দিকের আউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লালবাতি জ্বলে ওঠে। কিন্তু তূর্ণার চালক লালবাতি উপেক্ষা করে স্টেশনের হোমে (প্রবেশ মুখে) চলে আসে এবং উদয়নের ১০, ১১ ও ১২নং বগিতে সজোরে

ধাক্কা দিলে বিকট শব্দে উদয়নের ওই তিন বগি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৬ যাত্রী এবং আহত হন অর্ধশতাধিক।

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) :সিলেট-আখাউড়া রেলপথে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় চলতি বছরের ২৩ জুন কুলাউড়ার বরমচাল রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী বড়ছড়া ব্রিজ এলাকায় ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি খাদে পড়ে চারজনের প্রাণহানি ঘটে এবং দুই শতাধিক যাত্রী আহত হন। এ ছাড়া ১৯ জুলাই সিলেট থেকে ছেড়ে আসা জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনে প্রবেশ করার সময় লাইনচ্যুত হয়। পরদিন ২০ জুলাই একই স্থানে সকালে আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ২৯ ডিসেম্বর মাইজগাঁও থেকে ছেড়ে আসা মালবাহী ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

সিরাজগঞ্জ ও উল্লাপাড়া :গত ১১ নভেম্বর দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলস্টেশনের অদূরে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ইঞ্জিন ছিটকে ওপরে উঠে রেলপথের পাশে উল্টে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন লাইনচ্যুত আরও পাঁচটি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনের যাত্রীরা দ্রুত জানালার কাচ ভেঙে এবং দরজা দিয়ে হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে প্রাণ বাঁচান। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি না ঘটলেও ২৫ যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার কারণে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় ৯ ঘণ্টা চেষ্টার পর রেল যোগাযোগ অস্থায়ী ও ধীরগতিতে চালু করা হয়। প্রায় দুইশ’ মিটার ট্রেন লাইন পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের টানা দু’দিন সময় লেগে যায়। এরপর শুরু হয় নানা রকম তদন্ত। মিটারগেজে চলাচলকারী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে লালমনিরহাট যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলপথের উল্লাপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের ৫০ মিটার দূরে রেলপথ পরিবর্তনের স্থানে ট্রেনটি আকস্মিক লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ১৪টি বগির অন্তত সাতটি মূল রেলপথ থেকে অন্তত ১৫ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে।

সুত্র:সমকাল, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।