শিরোনাম

এক্সপ্রেসওয়েতে আটকে গেছে ঢাকা-টঙ্গী চার লেন রেলপথ

এক্সপ্রেসওয়েতে আটকে গেছে ঢাকা-টঙ্গী চার লেন রেলপথ

ইসমাইল আলী: ঢাকা-টঙ্গী রেলপথ ৩য় ও ৪র্থ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বর। তবে ৯ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে অর্ধেকের কিছু বেশি। এর মূল কারণ ভুল পরিকল্পনা। তাই কয়েক দফা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। দুই দফা বাতিল করা হয়েছে দরপত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমি নিয়ে জটিলতা।

নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে প্রকল্প এলাকার জমি এখনও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেয়া যায়নি। ফলে ওই ১০ কিলোমিটার অংশে কাজও শুরু হয়নি। তাই কবে নাগাদ এ প্রকল্প সম্পন্ন হবে, তা নিশ্চিত নয়। উল্টো বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে তিনগুণ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিআইসি) সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। এতে জানানো হয়, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি ৫৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

প্রকল্পটির ধীরগতির জন্য কয়েকটি কারণ এ সময় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো, প্রকল্পটির বনানী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রেললাইনের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ওই অংশের জমি ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেয়া যায়নি। যদিও অন্যান্য অংশের জমি ঠিকাদারকে গত বছর মার্চের মধ্যে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার নির্মাণের কাজ সম্পর্কযুক্ত বিধায় ওই অংশে রেললাইন নির্মাণ শুরু করতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে ঢাকা বিমানবন্দর অংশে বিদ্যমান রেললাইনের উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনা ও অন্যান্য সংস্থার বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা সংযোগ লাইন থাকায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আবার মহাখালী ডিওএইচএস থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন অভিমুখে অত্র প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত ৩য় ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণের জন্য ন্যূনতম ভূমির স্বল্পতা রয়েছে। এজন্য শূন্য দশমকি ৫৮ একর জমি চেয়ে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে চিঠি দেয়া হলেও তা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া যায়নি।

এর বাইরে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনের কার পার্কিং, সংযোগ সড়ক নির্মাণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণের জন্য বেবিচকের জমি দরকার। তবে তারা এখনও জমি হস্তান্তর করেনি। এছাড়া খিলগাঁও রেলগেট হতে মালিবাগ রেল ক্রসিং পর্যন্ত অংশে ৩য় ও ৪র্থ লাইন নির্মাণের পাশ বরাবর রেলভূমিতে সমান্তরালভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি রাস্তা আছে। ফলে ওই অংশে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে বৈঠকে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া। তিনি বলেন, বনানী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃক দ্রুত খালি করা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও বেবিচকের জমি দ্রুত হস্তান্তরে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করা। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তৎপরতা বৃদ্ধিতে জোর দেয়া।

তথ্যমতে, ঢাকা-টঙ্গী রেলপথ ৩য় ও ৪র্থ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডাবল লাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৪৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভারতের ঋণ দেয়ার কথা ছিল ৬৯৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর সরকারি তহবিল থেকে অবশিষ্ট ১৫২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পটির ডিটেইল ডিজাইন ও টেন্ডারিং সার্ভিস পর্যায়ে পরামর্শক সেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ জন্য এক দফা প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়।

ডিটেইল ডিজাইন ও টেন্ডারিং সার্ভিস পর্যায়ে পরামর্শক সেবা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ৯০ পাউন্ডের রেলের পরিবর্তে ৫২ কেজির রেলের সংস্থান রাখা হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১০৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০১৪ সালের অক্টোবরে তা অনুমোদন করে একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি)। এর মধ্যে ভারতের ঋণ রয়েছে ৯০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর সরকারি তহবিল ২০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

এদিকে মূল রেলপথ নির্মাণে প্রথম প্যাকেজের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই। আর এক্সিম ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়া গেছে ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। এক্ষেত্রে চুক্তিমূল্য ছিল এক হাজার ৩৯৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যদিও ডিপিপিতে এ খাতে বরাদ্দ ধরা আছে ৭০১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রথম প্যাকেজেই ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে ৪৯২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এজন্য ডিপিপি দ্বিতীয় দফা সংশোধন করতে হবে।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় সিগন্যালিংয়ের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। এটি হলে দ্বিতীয় দফা ডিপিপি সংশোধন করতে হবে। আর প্রথম প্যাকেজের অতিরিক্ত ব্যয় ও অন্যান্য কাজ মিলিয়ে প্রকল্পটির জন্য বাড়তি ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার, তথা ৯৫২ কোটি টাকা দিতে সম্মত হয়েছে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। এ হিসাবে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়াবে দুই হাজার ৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া সরকারি খাতের বেশকিছু ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সবগুলো যুক্ত করলে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।

সূত্র:শেয়ার বিজ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।