সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তৈরি হচ্ছে আরেকটি ক্যারেজ শপ

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় তৈরি হচ্ছে আরেকটি ক্যারেজ শপ

মো. আমিরুজ্জামান:
জল্পনা-কল্পনা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার অভ্যন্তরে তৈরি হচ্ছে আরেকটি ক্যারেজ (কোচ) শপ। ইতোমধ্যে এর সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি) যাচাই-বাছাইয়ের পর স্থান নির্বাচন করে টাঙানো হয়েছে সাইনবোর্ড।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে ৮০০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ২৫টি শপ (উপকারখানা) রয়েছে। সেখানে রেলওয়ে কোচ মেরামত, যন্ত্রপাতি তৈরিসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ যন্ত্রপাতি তৈরি হয়ে আসছে। রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে রেলওয়ে কারখানার অভ্যন্তরে আরেকটি ক্যারেজ শপ (কোচ) তৈরির পরিরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ভারতীয় ঋণে (লাইন অফ ক্রেডিট) তৈরি হবে ওই ক্যারেজ শপটি। এজন্য গেল মে মাসে আন্তর্জাতিক কনসালটেন্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা সেরে খুব শিগগিরই ঐ ক্যারেজ শপটির কাজ শুরু হচ্ছে।

১৯৯৩ সালে তত্কালীন সরকার রেল সংকোচন নীতির আওতায় কারখানায় কোচ নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কিন্তু বর্তমান সরকার রেল কোচ আমদানি নির্ভরতা কমাতে সৈয়দপুরে আরো একটি ক্যারেজ শপ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি বাস্তবায়নে ২০১৬ সালে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে গেল দুই বছর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নতুন ক্যারেজ শপ নির্মাণে ব্যাপক সমীক্ষা চালায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। এটি নির্মাণে কারখানাটির ধরন ও প্যাটার্নের জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় সূত্রটি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ক্যারেজ শপটি নির্মাণের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে টাঙানো হয়েছে সাইনবোর্ড। আশা করছি, আগামী বছর থেকে এটি উত্পাদনে যাবে। এতে কোচ আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, বর্তমানে ওই কারখানায় কর্মরত রয়েছেন ৩ হাজার ১৭১ জনবলের অনুকূলে মাত্র ১ হাজার ৯৮ জন শ্রমিক-কর্মচারী। এর মধ্যে যান্ত্রিক বিভাগে ৯৫৭ ও বৈদ্যুতিক বিভাগে ১৪১ জন। ওই সামান্য সংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে চলছে কোচ ও ওয়াগন মেরামত এবং ১২ হাজার রকমের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির কাজ। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কোচ ও ওয়াগনের আউটটার্ন হচ্ছে না। এতে করে কর্মজট সৃষ্টি হচ্ছে কারখানায়।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার কার্যব্যবস্থাপক (ডাব্লিউএম) জহিরুল আলম জানান, সারাদেশে রেলের যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ের মেরামত কাজ স্বাভাবিক গতি রাখতেই হবে। কিন্তু কম সংখ্যক লোকবল দিয়ে বেশি কাজ চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উত্পাদন কমে যাওয়ায় কর্মজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে রেলওয়ে ব্যবস্থাপনায় সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

কারখানার জুনিয়র পার্সোনেল (জেপিও) আব্দুস সালাম জানান, দীর্ঘদিন নতুন কোনো নিয়োগ নেই। ফলে জনবল সংকটের কবলে পড়েছে কারখানা। তিনি জানান, অতীতে এখানে ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। তখন দুই শিফটে কাজ হতো। নতুন কোচও নির্মাণ হতো কারখানায়। ১৯৯১ সালে তত্কালীন সরকার গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের (সোনালী করমর্দন) কর্মসূচি ঘোষণা করলে এই কারখানার বিপুল সংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী স্বেচ্ছায় অবসরে চলে যান। এরপর থেকে স্বাভাবিক অবসর ও মৃত্যুজনিত কারণে লোকবল কমে গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৬ সালে ১২৮ জন, ২০১৭ সালে ১৪০ জন ও ২০১৮ সালে ৮৭ জন অবসরে যান। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ আরো ১৭১ জন শ্রমিক-কর্মচারী অবসরে যাবেন। এ অবস্থায় কারখানাটিতে তীব্র জনবল সংকট দেখা দেবে।

সুত্র:ইত্তেফাক, ২৩ জুন, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।