শিরোনাম

দেশে ৮২% অরক্ষিত রেলক্রসিংই মৃত্যু ফাঁদ


।। নিউজ ডেস্ক ।।
নিরাপদ ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে জনপ্রিয় রেল যোগাযোগ। কিন্তু এই রেলক্রসিং যেন হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সময়ে মরণফাঁদ। গেলো দশ দিনে ক্রসিংয়ে গোপালগঞ্জ, গাজীপুর মারা গেছেন ১১ জন। আর সবশেষ শুক্রবার মীরসরাইয়ে ঝরে গেছে আরো ১১ প্রাণ। এসব দুর্ঘটনায় কোথাও রয়েছে গেটম্যানের অবহেলা। আবার কোথাও জনসাধারণের অসাবধানতা।

দেশের ২ হাজার ৫৬১টি রেলক্রসিংয়ের ১ হাজার ৩২১টিরই অনুমোদন নেই। আবার বৈধ ক্রসিংয়ের ১ হাজার ৪৯৫টিতে নেই কোনো গেইটম্যানও। এতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ৮২ শতাংশ ক্রসিংই অরক্ষিত, জানাচ্ছে রেলওয়ে।

আর এসব ক্রসিংয়ের বেশির ভাগই পড়েছে এলজিইডি এবং সওজের সড়কে। তারা আবার সড়কে ১ হাজার ৩২১টি অবৈধ ক্রসিং তৈরি হয়েছে রেলওয়েকে না জানিয়ে। এ অবস্থায় রেলক্রসিংগুলো স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেল কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, এলজিইডির সড়কে অবৈধ রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ৫১৬ টি, সওজের ১১টি, ইউনিয়ন পরিষদে ৩৬৩টি, পৌরসভার ৮০ টি, সিটি করপোরেশনের ৩৪ টি, জেলা পরিষদের ১৩ টি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ৩ টি ।

এদিকে বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট বলছে, সব রেলক্রসিং পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় আনতে হবে। পাশাপাশি ক্রসিংয়ের দুই পাশে অন্তত ছয়টি করে গতিরোধক বসাতে হবে।

এবিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, লেভেল ক্রসিং স্বয়ংক্রিয় করতে একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বুয়েটের সঙ্গে কাজ করছে তারা।

সবশেষ রেলের হিসাবে, ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ২২১ জন। এর মধ্যে ১৮৭ জনই প্রাণ হারিয়েছেন রেলক্রসিংয়ে। যা শতকরা হিসেবে ৮৪ দশমিক ৬২ ভাগ।

সূত্রঃ ইন্ডিপেন্টেড


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।