কৃষিপণ্য পরিবহনে আসছে চার রেল : কৃষকের সঙ্গে বাজারের সংযোগ বাড়ুক

কৃষিপণ্য পরিবহনে আসছে চার রেল : কৃষকের সঙ্গে বাজারের সংযোগ বাড়ুক

নিউজ ডেস্ক: কঠোর পরিশ্রম ও উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ে ফসল আবাদ করেও লাভবান হতে পারছেন না কৃষক। লাভ চলে যাচ্ছে ফড়িয়া, দালাল, পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। বাজার ব্যবস্থাপনায় কৃষকের কোনো ভূমিকা না থাকায় তারা কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন। বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, কৃষক যদি উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে এনে বিক্রি করতে পারেন, তাহলে তারা ও ভোক্তা উভয়েই লাভবান হবেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে কৃষিপণ্য পরিবহনে ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশে সহজে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। সড়কপথে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে বাজারে। সড়কের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য বিনষ্টও হচ্ছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে অল্প খরচে সহজে কৃষিপণ্য পরিবহনের সুযোগ করে দিতে পারে রেলওয়ে। এতে রেল যেমন লাভবান হবে, তেমনি কৃষক-ভোক্তা-ব্যবসায়ীরাও সুবিধা পাবেন। তবে এ সবকিছু নির্ভর করছে রেলের সক্ষমতা-দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার ওপর।

১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য পরিবহনে অন্যতম প্রধান বাহন ছিল রেল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শুধু ৭১ টন খাদ্যশস্য ও প্রায় তিন টন চা ছাড়া আর কোনো কৃষিপণ্যই পরিবহন করেনি রেল। উন্নয়নশীল থেকে শুরু করে উন্নত সব দেশই যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে রেলকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ কারণে তাদের পরিবহন ব্যয়ও কম, পণ্যের বাজারমূল্যও প্রতিযোগিতামূলক, সর্বোপরি কৃষক উৎসাহজনক দাম পান বাজার থেকে। বাংলাদেশে গত ৪৭ বছরে কৃষির উৎপাদন তিন গুণের বেশি বেড়েছে। কিন্তু কৃষকের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। যশোর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ময়মনসিংহে যে কৃষিপণ্য ১ বা ২ টাকা কেজিদরে বিক্রি হয়, ঢাকায় সেটির দাম ৬০-৮০ টাকা। এমন বৈপরীত্যের অন্যতম কারণ ব্যয়বহুল পরিবহন ব্যবস্থা। তাছাড়া সড়কপথে চাঁদাবাজির কারণেও কৃষিপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে রেলের মাধ্যমে কৃষিপণ্য পরিবহন করা গেলে চাঁদাবাজির হাত থেকে মুক্তি মিলবে। পাশাপাশি ফ্রিজারে পণ্য আনায় নষ্টও হবে কম। শুধু সবজি নয়, দুধ-ডিম-মাছ-মাংস পরিবহনে রেল ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, যেমনটি রাখছে অন্যান্য দেশে।

রেলে কৃষিপণ্য পরিবহন জনপ্রিয় করতে শুধু চারটি রেল চালু করলেই হবে না, পর্যায়ক্রমে আন্তঃজেলা পরিবহনও চালু করতে হবে। আমরা একে নবসূচনা হিসেবেই দেখতে চাই এবং এর উত্তরোত্তর সাফল্য প্রত্যাশা করি। এতে কৃষির প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বৈকি। কৃষির বর্তমান প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে কৃষকের ফসল আবাদে অনাগ্রহকে। অধিক দাম পেলে কৃষকরা অবশ্যই কৃষিপণ্য উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াবেন। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন জনপ্রিয় করতে পারে রেল। এর অর্থনৈতিক প্রভাব কয়েক গুণ হবে বলে গবেষণায় প্রমাণিত। কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশে রেল কর্তৃক কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা রয়েছে। তাতে দেখা গেছে, স্বল্প ব্যয়ের এ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কৃষির উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি কৃষকের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এটি কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতেও সহায়তা করেছে। কৃষির স্বার্থেই কার্যকর কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সুত্র:বণিক বার্তা, জানুয়ারি ২৩, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।