আন্তঃনগর ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট তুলে দেয়ার প্রস্তাব

আন্তঃনগর ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট তুলে দেয়ার প্রস্তাব

শামীম রাহমান:
ট্রেনে প্রতি পাঁচজন যাত্রীর চারজনই দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করেন। আসনবিহীন এসব যাত্রীর জন্য স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা রেখেছে রেলওয়ে। তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, স্ট্যান্ডিং টিকিটধারীদের কারণে ট্রেনে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, যাত্রী ভোগান্তিও হচ্ছে। তাই আন্তঃনগর ট্রেনে দাঁড়ানো যাত্রী না নেয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার কমলাপুর স্টেশনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অংশীজন সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তঃনগর ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট তুলে দেয়ার প্রস্তাব করেন ট্রেন পরিচালকরা। এ প্রস্তাবের পক্ষে তাদের যুক্তি—অতিরিক্ত যাত্রী উঠলে ট্রেনের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যায়। আসনধারী যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ভিড়ের কারণে টয়লেটে যাতায়াতও কষ্টকর হয়ে ওঠে। অনেক সময় যাত্রীরা জোর করে পরিচালকদের বগিতে পর্যন্ত উঠে যায়। দরজা বন্ধ রেখেও লাভ হয় না। ঢাকার বিমানবন্দর, গাজীপুরের জয়দেবপুর, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, নরসিংদীসহ কয়েকটি স্টেশনে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। টিকিট থাকায় স্টাফরাও যাত্রীদের উঠতে বাধা দিতে পারেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, পরিচালকদের কাছ থেকে আমরা এ ধরনের একটা প্রস্তাব পেয়েছি। প্রস্তাবটি আমরা যাচাই-বাছাই করব। এখানে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর একটা ব্যাপার আছে। আমরা চাই, দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে। এক্ষেত্রে আন্তঃনগর ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট তুলে দেয়ার চিন্তাভাবনা আমাদের আছে। চলতি বছরের মধ্যে ১৫-১৬টি নতুন ট্রেন চালু হবে। নতুন ট্রেনগুলোতে স্ট্যান্ডিং টিকিট বন্ধ রাখার ব্যাপারে আমরা পরিকল্পনা করছি।

রেলমন্ত্রী বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট তো হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেয়া যাবে না। ট্রেনে যেসব যাত্রী দাঁড়িয়ে যাতায়াত করেন, সবার আগে তাদের জন্য বিকল্প একটা ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিকল্প ব্যবস্থা হলো ট্রেন ও যাত্রীবাহী কোচের সংখ্যা বাড়ানো। আমরা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দুই শতাধিক নতুন কোচ বহরে যুক্ত করতে সক্ষম হব। নতুন কোচ এলে পুরনোগুলো দিয়ে মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। আগে যেসব যাত্রী আন্তঃনগরে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতেন, তারা এসব মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেন আছে ৯৩টি। এসব ট্রেন দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ২৯ হাজার ৫৮৮টি ট্রিপ পরিচালিত হয়েছে। যাত্রী পরিবহন হয়েছে সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৭৮ লাখ। এর মধ্যে আসনধারী যাত্রী ছিলেন মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ।

নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে সব সময় বিশৃঙ্খলা লেগে থাকে আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন (নন-এসি) কোচে। ভ্রমণ করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহান যাত্রীরা। এমন পরিস্থিতিতে রেলের স্ট্যান্ডিং টিকিট তুলে দেয়ার পরিকল্পনাকে ‘ভালো উদ্যোগ’ বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনে গাদাগাদি করে মানুষ যাতায়াত করে। এতে যারা দাঁড়িয়ে যায় তারা যেমন কষ্ট পায়, বসে থাকা যাত্রীদের ভোগান্তিও কিন্তু কম হয় না। মানুষ কিন্তু উন্নত সেবা চায়। সেই উন্নত সেবার পথে আন্তঃনগর ট্রেনে যদি সব যাত্রীকে বসিয়ে নেয়া সম্ভব হয়, তাহলে আমি সেটিকে রেলওয়ের একটি ভালো উদ্যোগ বলব। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে ট্রেনের সংখ্যা ও চলাচল বাড়ানো। ইঞ্জিন, কোচ ও জনবল বাড়াতে হবে। এজন্য স্ট্যান্ডিং টিকিট বন্ধের আগে রেলওয়ের রোলিং স্টক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। স্ট্যান্ডিং টিকিট বন্ধ করা হলে রেলের অপারেশন খরচও কিন্তু অনেক বেড়ে যাবে। সেটিও কর্মকর্তাদের বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

সুত্র:বণিক বার্তা, এপ্রিল ২০, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।