ভারতের পুরোনো ইঞ্জিন ভাড়া আনবে রেলওয়ে

ভারতের পুরোনো ইঞ্জিন ভাড়া আনবে রেলওয়ে

নিউজ ডেস্ক:
রেলওয়ের ৭২ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। আবার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ৫০ শতাংশ ইঞ্জিনের ওভারহোলিং হয়নি। এছাড়া বেশ কয়েক বছর রেলের বহরে যুক্ত হয়নি নতুন কোনো ইঞ্জিন। যদিও এর মধ্যে নতুন কোচ যুক্ত হয়েছে ২৭০টি। আরও নতুন ৭৫০ কোচ কেনার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এগুলো দ্রুতই যুক্ত হবে রেলের বহরে। এ অবস্থায় ইঞ্জিন সংকটে পড়েছে রেলওয়ে।
যদিও ১২০টি ইঞ্জিন কেনার জন্য চুক্তি করেছে রেলওয়ে। তবে এসব ইঞ্জিন রেলের বহরে যুক্ত হতে কমপক্ষে দুবছর লাগবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সংকট মেটাতে ভারতের পরিত্যক্ত ও পুরোনো ইঞ্জিন ভাড়া আনার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। এ জন্য একটি প্রতিনিধিদল গত সপ্তাহে ভারতে গেছে।

তথ্যমতে, বর্তমানে রেলওয়ের সচল ইঞ্জিন রয়েছে ২৭৩টি। এসব ইঞ্জিন সারা দেশে ৩৪১টি যাত্রীবাহী এবং বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী ও তেলবাহী ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম ইঞ্জিন থাকায় প্রায়শই সেবা বিঘিœত হয়। এসব ইঞ্জিনের মধ্যে আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া তথা ২০ বছরের বেশি বয়সী ১৯৫টি। এগুলোর বয়স ২১ থেকে ৬৫ বছর। মাত্র ৭৮টির আয়ুষ্কাল ২০ বছরের কম।

যদিও পুরোনো এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ১৩৬টির সময়মতো মেরামত (ওভারহোলিং) করা হয়নি। অথচ প্রতিটি ইঞ্জিন তিন ও ছয় বছর পর পর হালকা ও মাঝারি মানের ওভারহোলিং করতে হয়। আর ১২ বছর পর করতে হয় ভারি ওভারহোলিং। সময়মতো ওভারহোলিং না করায় ইঞ্জিন বিকলসহ এগুলোর পরিবহন সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে সেবা প্রদান বিঘ্নিত হচ্ছে রেলওয়ের।

বর্তমানে রেলওয়ের মিটারগেজ ইঞ্জিন রয়েছে ১৭৯টি। এর মধ্যে ৪০টির আয়ুষ্কাল ২০ বছরের কম। ৪৫টির আয়ুষ্কাল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ইঞ্জিন রয়েছে ৩১টি আর ৪১ বছরের বেশি বয়সের ইঞ্জিন ৬৪টি। আর সারা দেশে চলাচলরত ব্রডগেজ ইঞ্জিন রয়েছে ৯৪টি। এর মধ্যে ৩৯টির আয়ুষ্কাল ২০ বছরের কম। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ইঞ্জিন রয়েছে ২৪টি আর ৪১ বছরের বেশি বয়সের ইঞ্জিন ৩১টি।

এদিকে ১৭৯টি মিটারগেজ ইঞ্জিনের মধ্যে ১৪টির হালকা ও ১০টির মাঝারি ওভারহোলিং দরকার। আর ৬১টির ভারী ওভারহোলিং দরকার। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জনবল ও অর্থ সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে এ ৮৫টি মিটারগেজ ইঞ্জিন ওভারহোলিং করা যাচ্ছে না। আর ৯৭টি ব্রডগেজ ইঞ্জিনের মধ্যে তিনটির হালকা, সাতটির মাঝারি ও ৪১টির ভারি ওভারহোলিং দরকার। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও এগুলো ওভারহোলিং করা যাচ্ছে না।
যদিও রেলের বহরে যুক্ত হওয়া নতুন কোচ দিয়ে সম্প্রতি ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-পঞ্চগড় চালু করা হয়েছে বিরতিহীন নতুন দুটি ট্রেন। কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা-বেনাপোল রুটে দুটি দ্রুতগতির নতুন ট্রেন চালু করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আরও তিনটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষে। এছাড়া নতুন কোচ রেলবহরে যুক্ত হলে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ পাল্টে আধুনিকায়ন করা হবে।

এর বাইরে চলতি বছরে জামালপুরবাসীর জন্য আরও চারটি নতুন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ি, জামালপুর ও ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা যাবে। আবার ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সরিষাবাড়ি, তারাকান্দি হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনে যাবে। এছাড়া ঢাকার আশেপাশের জেলার সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের বেশ কয়েকটি নতুন ট্রেন চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ট্রেন চালু করতে ইঞ্জিন সংকট থাকায় ভারত থেকে ভাড়া আনার প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য দেশটির জন্য প্রাথমিকভাবে কয়েক দফা আলোচনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথম বছর বিনা ভাড়ায় ও দ্বিতীয় বছর ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভারতও ইঞ্জিন দিতে সম্মত আছে। কারণ ভারতে বিভিন্ন রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালু করায় বেশকিছু ইঞ্জিন পরিত্যক্ত পড়ে আছে। এছাড়া দেশটির সব রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তর করায় মিটারগেজ ইঞ্জিনও অব্যবহৃত হয়ে পড়েছে। এসব ইঞ্জিন ভাড়া আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) শামছুজ্জামান শেয়ার বিজকে জানান, রেলওয়েতে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নতুন রেলপথ নির্মাণসহ প্রচুর যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩০টি অত্যাধুনিক ব্রডগেজ ইঞ্জিন আনা হয়েছে। এ বছরে আরও ২০টি ব্রডগেজ ও ২০০টি মিটারগেজ কোচ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত ১৫টি নতুন ট্রেন চালুর নির্দেশনা রয়েছে রেলমন্ত্রীর। তাই সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে ২০টি ইঞ্জিন ভাড়ায় আনা হচ্ছে। এসব ইঞ্জিন দ্বারা নতুন ট্রেন চালানো হবে।

তিনি বলেন, ভারতের রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ইঞ্জিন পাওয়া যাবে। ইঞ্জিনপ্রতি প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা ভাড়া হতে পারে জানিয়ে তিনি আরও জানান, পৃথিবীর অনেক দেশে ইঞ্জিন ভাড়া দেয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। দু’দেশের সরকার পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইঞ্জিনগুলো বিনা ভাড়ায় পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে নতুন কেনা ইঞ্জিন দেশে চলে এলে ভারতীয় ইঞ্জিনগুলো ফেরত দেওয়া হবে।

সুত্র:শেয়ার বিজ, জুন ২২, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।