শিরোনাম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের কাজ ফের শুরু

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের কাজ ফের শুরু

হাবিবুর রহমান বাদল :ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের অবস্থা বেশ শোচনীয়। লাইনে পর্যাপ্ত পাথর থাকার কথা থাকলেও তা নেই। কোথাও কোথাও কাঠের স্লিপারগুলো উধাও হয়ে গেছে। অনেক স্থানে খুলে নেওয়া হয়েছে রেল ক্লিপ। ফলে এমন পথে সারাক্ষণই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। কখনো কখনো রেলপথের দুরবস্থার কারণে মাঝে মধ্যেই ট্রেন থামিয়ে যাত্রা বিরতির ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা আরো বেড়ে যায়। তবে খুব শিগিগর লাঘব হতে চলেছে রেল যাত্রীদের এ দুর্ভোগ। পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ। থাকবে আধুনিক রেল স্টেশনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা। অল্প সময়েই ট্রেনগুলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করতে পারবে।

২০১৫ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু রেললাইনের পাশে অবৈধ স্থাপনা থাকার কারণে নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। কয়েকবার প্রকল্পের নির্মাণ সময় পেছানোও হয়। সম্প্র্রতি রেল কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করলে নতুন করে এই রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। জমি উদ্ধারসহ ইতিমধ্যেই এ প্রকল্পের অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে গেছে। ফলে গতি ফিরতে শুরু করেছে ডুয়েলগেজ প্রকল্পের কাজে। এমনটাই জানালেন, প্রকল্পের পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৭ সালের ২০ জুন চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে। এরপর দুই দফায় বেড়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এই ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মিটারগেজ রেললাইন সমান্তরাল ডুয়েলগেজ প্রকল্পের পরিচালক (জেডিজি-ইঞ্জিনিয়ার) আল ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে এই প্রকল্পের কাজ গতি পেয়েছে। আমরা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ডাবল লাইন প্রকল্পের অবকাঠামোগত ৫২ শতাংশ কাজের অগ্রগতি হয়েছে। ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন নির্মাণে রেলওয়ের নিজস্ব জমি দখলে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। রেলের ইজারা দেওয়া জমিগুলো ছাড়তে অনীহা ছিল ইজারাদারদের। নিজেদের জমি দখলমুক্ত করতে গিয়ে আইনি বাধার মুখে পড়েছে রেলওয়ে। বেশ কিছু জমি নিয়ে মামলাও চলছে। এতে ঠিক সময়ে ঠিকাদারকে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া যায়নি। তাছাড়া নতুন জমিও অধিগ্রহণ করা যায়নি। ফলে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের সময় দফায় দফায় বাড়াতে হয়েছে। রেলওয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) নজরুল ইসলাম জানান, পর্যায়ক্রমে আমরা আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছি। ইতিমধ্যেই ৮০ শতাংশ রেলওয়ের জমি আমরা উদ্ধার করতে পেরেছি।

এদিকে গত ২৩ অক্টোবর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্প পরিদর্শনে যান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। রেলওয়ের জমি উদ্ধার চলছে। দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান। গত ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে ২ নম্বর রেলগেটে উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধ দখলদারদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে। তারপরও উচ্ছেদ ঠেকাতে পারেনি অবৈধ দখলদাররা। রেল কর্তৃপক্ষ জোরেশোরে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। তবে উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা রেলের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, রেলের এ প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা গেন্ডারিয়া অংশে ১২.০৫ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জ, চাষাড়া ও ফতুল্লা স্টেশনে ৫.১০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে। রেললাইন ছাড়াও এ রেলপথে ১১টি সেতু ও কালভার্ট, দুটি ওয়াশপিট, একটি অফিস কাম স্টেশন বিল্ডিং, পাঁচটি আধুনিক স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফরম শেড, চারটি ফুটওভারব্রিজ, ৩৮ হাজার ১৭৭ ঘনমিটার ব্যালস্ট সংগ্রহ, ১২টি লেভেলক্রসিং গেট নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

সুত্র:ইত্তেফাক, ০৫ নভেম্বর, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।