টিকিট কালোবাজারি রোধের উদ্যোগ সফল হোক

টিকিট কালোবাজারি রোধের উদ্যোগ সফল হোক

রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হননি, এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ঈদের সময় দুর্ভোগ আরও বাড়ে। টিকিটের জন্য ভোর ৪টায় লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তি সকাল ১০টায় কাউন্টারে পৌঁছে জানতে পারেন ‘টিকিট শেষ’। ৮টায় শুরু হওয়া টিকিট বিতরণ দুই ঘণ্টায় শেষ। একটি টিকিট সংগ্রহে দুই মিনিট লাগে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারটি টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। এ হিসাবে কাউন্টারের মাধ্যমে দুই ঘণ্টায় ২৪০টি টিকিট বিতরণ হওয়ার কথা। একটি আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা হাজারেরও বেশি। অথচ যাত্রীরা টিকিট পান না। টিকিটের দামের চারগুণ টাকা দিলে টিকিট পাওয়া যায়। অগত্যা আসন নম্বরবিহীন টিকিট নিয়ে (স্ট্যান্ডিং) গন্তব্যে যেতে হয়। এতে বিপাকে পড়ে নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক, দাঁড়িয়ে দীর্ঘপথ ভ্রমণ তাদের জন্য কষ্টকর। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ঈদে রেলের আগাম টিকিট কিনতে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনেকের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনবে বলেই ধারণা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ঈদের সময় সব ট্রেনের আগাম টিকিট নিতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) লাগবে। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কারণ এনআইডি প্রদর্শনসাপেক্ষ রেলের টিকিট সংগ্রহ করা বাধ্যবাধকতা থাকলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে একাধিক টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব হবে না। কালোবাজারি বা অনিয়মের মাধ্যমে টিকিট জালিয়াতি করা দুষ্কর হবে। এর সুফল পাবেন যাত্রীসাধারণ। টিকিটের জন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে না তাদের। এ পদ্ধতি সুচারুরূপে কার্যকর করা গেলে টিকিট বিতরণে স্বচ্ছতা আসবে বলেই আমরা মনে করি।

রেলমন্ত্রী বলেছেন, একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট কাটা থেকে শুরু করে সব সেবা পাওয়া যাবে। কোন ট্রেনে কত টিকিট রয়েছে, সেটাও জানা যাবে।
অ্যাপ ব্যবহার করা গেলে পুরো প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফলে টিকিট জাল (নকল) হবে না। টিকিট বিক্রিতে কোনো অনিয়ম না হলে যাত্রীরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাবেন। প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে টিকিট বিক্রিতে সরকারের আয় তাৎক্ষণিক জানা যাবে। এতে রেলের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আস্থা বাড়বে।
পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত লোকবল নিয়োগ, কোনো কারণে সার্ভার বিযুক্ত হলে সমস্যা নিরসনে করণীয় প্রভৃতি বিবেচনা করেই অ্যাপ চালু করা উচিত। এটি চালু করলে যাদের উপরি-আয় কমে যাবে, তারাও নতুন কোনো কৌশল নেবে; সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সুত্র:শেয়ার বিজ,মার্চ ২৬, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।