মিয়ানমারের অনুমতি মেলেনি গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ হচ্ছে না!

মিয়ানমারের অনুমতি মেলেনি গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ হচ্ছে না!

ইসমাইল আলী: চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের সীমান্ত গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে প্রকল্প নেয়া হয় ২০১০ সালে। তবে প্রকল্পটির আওতায় দুই প্যাকেজের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। ওই দুই প্যাকেজে দোহাজারি থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ চলছে। যদিও তৃতীয় প্যাকেজের আওতায় রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে দরপত্রই আহ্বান করা হয়নি।

সূত্র জানায়, ট্রান্সএশিয়ান রেল রুটের আওতায় মিয়ানমারের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনে দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকা গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কথা ছিল। এজন্য মিয়ানমারের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। তবে দেশটি তাতে অনুমতি দেয়নি। এমনকি ট্রান্সএশিয়ান রেল রুটে যুক্ত হতে মিয়ানমারেরও গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কথা ছিল। তবে তারাও এ ধরনের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেনি। ফলে গুনদুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে না। আদৌ তা হবে কি না, তা নিয়েও সন্দিহান রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। এতে অসমাপ্ত অবস্থাতেই শেষ করতে হবে দোহাজারি-কক্সবাজার-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প।

এদিকে ২০১৭ সালে চুক্তি সইয়ের সময় তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২০ সালে দুই প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে নানা কারণে বাস্তবায়ন বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে বর্ধিত সময়েও প্রকল্পটির কাজ শেষ হচ্ছে না। এতে দোহাজারী-কক্সবাজার অংশটির নির্মাণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

তথ্যমতে, ২০১০ সালে দোহাজারি থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে গুনদুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৮৫২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। তবে জমি অধিগ্রহণ বৃদ্ধি, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমি পাওয়া, ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ ও হাতি চলাচলের নিরাপত্তা প্রভৃতি কারণে ২০১৬ সালে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নশেষে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ নির্মাণ শুরুর আগেই প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায় ১৬ হাজার ১৮২ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ৮৭৩ দশমিক ৬০ শতাংশ।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির প্রথম দুই প্যাকেজের ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজ (দোহাজারী-চকরিয়া) যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন। আর দ্বিতীয় প্যাকেজে (চকরিয়া-রামু-কক্সবাজার) যৌথভাবে কাজ করছে চায়না সার্টিফিকেশন অ্যান্ড ইন্সপেকশন কোম্পানি (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

প্রথম প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় দুই হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের প্রায় তিন হাজার ৫০২ কোটি টাকা। চুক্তির মেয়াদ ধরা ছিল তিন বছর, যদিও পরে তা বাড়ানো হয়। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় তৃতীয় প্যাকেজের (রামু-গুনদুম) দরপত্র আহ্বানের আগে মিয়ানমারের অনুমোদন চাওয়া হয়। যদিও দেশটির পক্ষ থেকে এ অনুমোদন দেয়া হয়নি। এ অনুমোদন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

জানতে চাইলে রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার শেয়ার বিজকে বলেন, গুনদুম একেবারে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা। ওই এলাকায় কাজ করতে দেশটির অনুমোদন দরকার। তাই রামু থেকে গুনদুম অংশের দরপত্র আহ্বানের আগে মিয়ানমারের অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। তবে তারা এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়নি। যদি তারা অনুমোদন দেয় তবে ওই অংশের দরপত্র আহ্বান করা হবে। অন্যথায় তা বাতিল করা হবে।

এদিকে দোহাজারি-রামু-গুনদুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব এরই মধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটি বিলম্বিত হওয়ার জন্য পাঁচটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রস্তাবটি প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে ঢাকায় রেলভবনে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ঋণ দিচ্ছে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। বাকি চার হাজার ৯১৯ কোটি সাত লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে। আর প্রকল্পটির অনুমোদিত বাস্তবায়ন মেয়াদকাল ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন। তবে বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের কাজ সার্বিকভাবে সম্পাদনের জন্য তা ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রস্তাবনার সঙ্গে মেয়াদকাল বৃদ্ধির পাঁচটি কারণও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি হস্তান্তরে বিলম্ব, ক্ষতিপূরণ প্রদানে বিলম্ব ও জমির বাস্তব দখল প্রাপ্তিতে বাধা, বনভূমি ডি-রিজার্ভকরণ ও বনভূমি ব্যবহারের অনুমতি পেতে বিলম্ব, প্রকল্প এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক পোল (খুঁটি) স্থানান্তরে বিলম্ব এবং করোনার প্রভাব।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, ক্ষতিপূরণে বিলম্ব ও প্রকল্প এলাকায় থাকা বৈদ্যুতিক টাওয়ার/পোলের কারণে এমনিতেই ঠিকাদারকে জমি বুঝিয়ে দিতে দেরি হয়েছে। এতে নির্মাণকাজ শুরু হতে বিলম্ব হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনা মহামারির প্রভাব। এসব কারণে প্রকল্পটির মেয়াদকাল দুই বছর বাড়াতে হচ্ছে। আশা করা যায়, বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করা যাবে।

সূত্র:শেয়ার বিজ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।