শিরোনাম

৩৮% বেশি দামে ২০০ কোচ কেনার প্রস্তাব রেলওয়ের

৩৮% বেশি দামে ২০০ কোচ কেনার প্রস্তাব রেলওয়ের

ইসমাইল আলী: যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে ২০০ ব্রডগেজ কোচ কিনবে রেলওয়ে। এক্ষেত্রে প্রতিটি কোচের দাম পড়ছে ভ্যাট-শুল্ক ছাড়া ছয় কোটি ৩৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। চলমান প্রকল্পের চেয়ে এ ব্যয় ৩৮ শতাংশ বেশি। তাই প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।
এদিকে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) ঋণে কোচগুলো কেনার কথা রয়েছে। এজন্য ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) অর্থায়নের উৎসও লেখা রয়েছে ইআইবি। আবার এ বিষয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে ঋণচুক্তি করা হয়েছে। তাই অর্থায়নের উৎস নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা, যা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশন ব্যাখ্যা চেয়েছে।
তথ্যমতে, ২০০ ব্রডগেজ কোচ কেনার জন্য ডিপিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে কয়েক মাস আগে। কোচগুলো কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৩৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা ঋণ দেবে ইআইবি। আর ৩৯৩ কোটি ৯১ লাখ ৩১ হাজার টাকা সরকারের তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।
যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে এ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকের আগেই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে আপত্তি তোলে পরিকল্পনা কমিশন। পিইসি সভার কার্যপত্রে তা উঠে এসেছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের ইউনিটপ্রতি দাম ধরা হয়েছে ছয় কোটি ৩৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। যদিও সমজাতীয় চলমান প্রকল্পে এ ব্যয় চার কোটি ৬০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আবার প্রস্তাবিত দর এলওসি (ভারতীয় ঋণ) আওতায় কোচ কেনা প্রকল্প দরের সঙ্গে প্রতি বছর তিন শতাংশ মূল্যবৃদ্ধিজনিত ব্যয় ধরে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি না করে এডিবির সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পকেই প্রস্তাবিত দরের ভিত্তি হিসেবে ধরা যেতে পারে।
তথ্যমতে, এডিবির ঋণে ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০১৭ সালের জুনে কোচগুলো কেনায় চুক্তি সই করে রেলওয়ে। এতে কোচপ্রতি ব্যয় পড়ছে শুল্ক-ভ্যাট ছাড়া চার কোটি ৬০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইন্দোনেশিয়ার ইনকা-পিটি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে কোচগুলো কেনা হচ্ছে। অর্থাৎ, বর্তমানে চলমান প্রকল্পের চেয়ে প্রতিটি কোচের দাম বেশি ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি ৭৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বা প্রায় ৩৮ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলওসিতে সীমিত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ভারতীয় কোম্পানি ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে পারে না। তাই কোচের দাম কিছুটা বেশি পড়ে। আর ইআইবি’র ঋণে উম্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে। এডিবির মতো এক্ষেত্রেও দর কম হবে। তাই পরিকল্পনা কমিশন প্রস্তাবিত প্রকল্পে কোচের দর নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
পরিকল্পনা কমিশন আরও জানায়, প্রকল্পের আয়-ব্যয় বিশ্লেষণে ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর ১২ শতাংশ ধরা হয়েছে। আবার ডিপিপির সঙ্গে সংযুক্ত ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় কোনো গাড়ি কেনার প্রস্তাব করা হয়নি। তবে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়গুলো পরিষ্কার করা দরকার।
প্রকল্পটির অর্থায়নের উৎস নিয়েও আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ডিপিপিতে প্রকল্প সাহায্যের শর্তাবলিতে এডিবির অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে এবং এডিবির নিয়মিত শর্ত প্রতিপালিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ডিপিপিতে ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইআরডি (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ও ইআইবি’র মধ্যে স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তির উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইআইবি’র সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে দেখা যায়, মোট অর্থের পরিমাণ ৩২ কোটি ৭১ লাখ ইউরো। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল পাঁচ কোটি ১১ ইউরো, ইআইবি’র ১১ কোটি ইউরো ও এডিবির ঋণ ১৬ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, অথচ তার শর্তাবলি ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়নি। আবার অর্থায়নের উৎস বলা হলো ইআইবি। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে রেলওয়ের ৪২৮টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৭টির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আগামী ৩০-৩৫ বছরের মধ্যে রেলওয়ের সব ট্র্যাক ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে। এছাড়া যমুনা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এবং পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প সম্পন্ন হলে সারা দেশে ব্রডগেজ ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। এজন্য পুরাতন কোচগুলো প্রতিস্থাপনসহ দু-চার বছরের মধ্যে নতুন ৪০০ কোচ দরকার হবে। তাই নতুন কোচগুলো কেনা জরুরি বলে ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুত্র:শেয়ার বিজ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।