শিরোনাম

১১ বছরেও শেষ হয়নি জমি অধিগ্রহণ জটিলতা


ইসমাইল আলী: খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার কথা থাকলেও ১১ বছরে বাস্তবায়িত হয়েছে ৮৮ শতাংশ। তবে এখনও প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতাই শেষ হয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি সংস্থার জমি দেয়ার কথা থাকলেও তা হস্তান্তর করেনি। আবার ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু জমি দিতেও রাজি হচ্ছেন না মালিকরা। এ কারণে প্রকল্পটির অবশিষ্ট কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির (পিআইসি) সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এদিকে বাস্তবায়ন বিলম্ব ও নকশায় ত্রুটির কারণে দুই দফা সংশোধন করতে হয়েছে প্রকল্পটি। এতে নির্মাণব্যয় বেড়ে গেছে দুই হাজার ৫৪০ কোটি টাকা।

পিএসসি সভায় জানানো হয়, খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণে মোট ৬৭৩ দশমিক ৩৩ একর জমি প্রয়োজন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছে ৩৮৫ দশমিক ৮৪ একর ও বাগেরহাট জেলায় ২৮৭ দশমিক ৪৯ একর। আর দুই জেলায় মোট ৬৫৯ দশমিক ৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে ৩৮৪ দশমিক ৯৭ একর ও বাগেরহাট জেলায় ২৭৫ একর। এ জমিগুলোর নামজারি কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

রেলপথটির রুট অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জমিও রয়েছে। এর মধ্যে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৮৯ দশমিক ১৩ একর, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের শূন্য দশমিক ৯৯ একর এবং সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের তিন দশমিক ৬৭ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের শূন্য দশমিক ৯৯ একর এবং সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের এক দশমিক ২৩ একর জমি এখনও হস্তান্তর করা হয়নি।

এদিকে বাগেরহাট জেলায় চারটি স্টেশনের সংযোগ সড়কের জন্য প্রায় ১২ দশমিক ২০ একর জমির প্রয়োজন। এর মধ্যে ৯ দশমিক ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে দ্বিগরাজ স্টেশনের সংযোগ সড়কের জন্য ৯৪৭ দাগের জমি

অধিগ্রহণ না করার জন্য একটি ‘ডিও’ লেটার (আধা-সরকারি পত্র) দেন পরিবেশ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকও বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। এখনও তার সমাধান হয়নি। এছাড়া প্রকল্পটির অধীনে রূপসা রেল সেতু নির্মাণের জন্য খুলনা প্রান্তে এমব্যাংকমেন্টের সঙ্গে সংযোগস্থলে অধিগ্রহণকৃত জমি যথেষ্ট নয়। তাই নতুন করে দশমিক ৩৯ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান শেয়ার বিজকে বলেন, বাগেরহাটের দ্বিগরাজ স্টেশনের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ জটিলতা সমাধানে খুলনার মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি সবকিছু শুনে আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলার পরামর্শ দিয়েছেন। আর রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোকে দ্রুত জমি বুঝিয়ে দিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা আছে। আশা করা যাচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ করা যাবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের ঋণে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি। গত বছর ৫ অক্টোবর প্রকল্পটির দ্বিতীয় দফা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০১০ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন করে একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি)। এর আওতায় ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রূপসা রেল সেতুও রয়েছে। সে সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

২০১৫ সালের ২৬ মে মাসে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুমোদন করা হয়। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ হিসাবে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২৬০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই দফা মিলিয়ে নির্মাণব্যয় বেড়ে গেছে দুই হাজার ৫৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ১৪৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

সূত্রমতে, প্রকল্প ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি এর বাস্তবায়ন মেয়াদকালও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় প্রথমবার ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতেও অগ্রগতি না হওয়ায় ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর তৃতীয় দফা আবারও দুই বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না হওয়ায় তা চতুর্থ দফায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ভারত ঋণ দিচ্ছে দুই হাজার ৯৪৮ কোটি দুই লাখ টাকা এবং এক হাজার ৩১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।

সূত্র:শেয়ার বিজ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।