শিরোনাম

সোনাহাট স্থলবন্দরের বড় বাধা জরাজীর্ণ রেল সেতু

সোনাহাট স্থলবন্দরের বড় বাধা জরাজীর্ণ রেল সেতু

বাদশাহ সৈকত:
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে যাতায়াতের জন্য একমাত্র পথে রয়েছে জরাজীর্ণ রেল সেতু। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেল সেতুটি অনেক আগেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইস্পাতের পাটাতন ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই যানবাহন আটকা পড়ে যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এছাড়া ভারী যান চলাচলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ওজনসীমা বেঁধে দিয়েছে সড়ক বিভাগ। ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সোনাহাট স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নে দুধকুমার নদের উপর ১৮৭৯ সালে নির্মাণ করা হয় সোনাহাট রেল সেতু। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় হানাদারদের চলাচল বিঘ্নিত করতে মাইন দিয়ে সেতুটির দুটি স্লিপার উড়িয়ে দেয়া হয়। এর পর রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সেতুটি মেরামত করে সড়ক সেতু হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। ২০১৪ সালে সোনাহাট স্থলবন্দর চালু হলে পাথর ও কয়লা বোঝাই ভারী যান চলাচলের কারণে দ্রুতই নড়বড়ে হয়ে যায় পুরনো সেতুটি।

এরই মধ্যে দুধকুমার নদের উপর বিকল্প সড়ক সেতু নির্মাণ না করেই গত ৯ জুন থেকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে যাত্রা করে সোনাহাট বন্দর। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ রেল সেতুতে ভারী যানবাহনের চাপ আরো বেড়ে যায়। এরই মধ্যে মরিচা ধরা পাটাতনের অনেক অংশই ভেঙে গেছে। যেকোনো সময় পাটাতন ভেঙে পণ্যবাহী ট্রাক নদীতে পড়ে যেতে পারে।

সোনাহাট রেল সেতুসংলগ্ন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এক মাথায় গাড়ি উঠলে অন্য মাথা কেঁপে ওঠে। আর প্রায় সময়ই ব্রিজের পাটাতন ভেঙে ফুটোয় গাড়ির চাকা আটকে যায়। তখন ৩-৪ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। তাছাড়া সেতুটি কোনো দিন ধসে পড়লে দুধকুমারের পূর্বপারের প্রায় ১০ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে।

স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ বলেন, প্রায় চার বছর আগে স্থলবন্দরটি চালু হয়েছে। এ স্থলবন্দরে অন্য কোনো সমস্যা নেই। শুধু একটি সমস্যা, বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের পথে জরাজীর্ণ রেল সেতুটি। এখানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলেছে, তিন টনের বেশি লোড গাড়ি সেতুর ওপর দিয়ে পারাপার করা যাবে না। আবার ট্রাকের মালিক ও ড্রাইভাররা বলছেন, পাঁচ-সাত টনের কম লোড নিলে তাদের পোষায় না। পাশেই একটি সড়ক সেতু নির্মাণ করা হলে স্থলবন্দরের প্রধান বাধা দূর হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, দুধকুমারের উপর প্রায় সাড়ে ৪০০ মিটার লম্বা রেল সেতু দিয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরের ভারী যানবাহন যাতায়াত করছে। এসব যানবাহনে লোড কমিয়ে চলাচল করার নির্দেশনা দেয়া আছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আমরা সভা করে এটা নিশ্চিত করেছি। এ রেল সেতুর পাশে সড়ক সেতু নির্মাণে এরই মধ্যে ২২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি একনেক সভায় পাসের অপেক্ষায় আছে। পাস হলে ৬৪৫ মিটার দীর্ঘ একটি সড়ক সেতু নির্মাণ করা হবে।

সুত্র:বণিক বার্তা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।