সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় উত্পাদন বন্ধের শঙ্কা

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় উত্পাদন বন্ধের শঙ্কা

মো. আমিরুজ্জামান:
কাজের চাপ আছে কিন্তু লোকবল-সংকটে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। গেল বছরেই এ কারখানা থেকে আরো ১৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারী অবসরে গেছেন। ফলে জনবল-সংকট বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, কারখানার উত্পাদন যে-কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে ১১০ একর জমিতে গড়ে ওঠে তত্কালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের সর্ববৃহত্ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি। অতীতে কারখানাটিতে তিন পালায় (শিফট) কাজ হতো। ১৪ হাজারের বেশি কর্মচারী ছিল কারখানায়। ১৯৯১ সালে রেল সংকোচন নীতির ফলে হারিয়ে যায় কারখানার জৌলুস। বর্তমানে ৩ হাজার ১৭১ জন লোকবলের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ১৮৫ জন শ্রমিক-কর্মচারী। ৬৭ ভাগ কম লোকবল দিয়ে চলছে কারখানার উত্পাদন কার্যক্রম।

সূত্রটি জানায়, গেল বছরেই সৈয়দপুর রেল কারখানা থেকে আরো ১৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারী অবসরে গেছেন। প্রতিবছরই কারখানার লোকজন অবসরে যাচ্ছেন কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ করা হচ্ছে না।

রেলওয়ে কারখানার প্রশাসন বিভাগের জুনিয়র পার্সোনেল কর্মকর্তা (জেপিও) আব্দুস সালাম জানান, ১৯৯১ সাল থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় জনবল নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কারখানায় সামান্য কিছু শিক্ষানবিশ নিয়োগ করা হয়। ১৯৮৯ সালে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় কারখানার বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারীকে অবসরে পাঠানো হয়। এর প্রভাব পড়েছে কারখানার ২৮টি উপ-কারখানায় (শপ)।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, প্রতি মাসে এখানে ২৬টি যাত্রীবাহী কোচ ও ২৫টি ওয়াগন মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকে। একই সঙ্গে প্রতি ঈদে যাত্রীসেবার বিষয়টি মাথায় রেখে অতিরিক্ত কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। এত বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে সে পরিমাণ জনবল নেই কারখানাতে। এর ওপর অবসর ধারা অব্যাহত থাকায় লোকবল দিন দিন কমছে। ফলে কাজের চাপ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে গেল বছর ১৫ নভেম্বর কারখানার ট্রেড ইউনিয়নগুলো রেলওয়ে শ্রমিকলীগের নেতৃত্বে কারখানা গেটে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এতে সর্বদলীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই মানববন্ধন থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শূন্য পদের বিপরীতে লোক নিয়োগের দাবি করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। কিন্ত দীর্ঘদিনেও সেই দাবি আলোর মুখ দেখেনি।

জনবল-সংকটে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেলওয়ে কোচ মেরামত কাজ করছেন। ফলে তাদের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারখানার অবসরে যাওয়া লোকজন দিয়ে এসব কাজ কারখানায় করা হচ্ছে। লোকবলের অভাবে এই প্রক্রিয়ায় কাজ করে অর্থ সাশ্রয় হলেও কাজের মান ভালো হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রেলওয়ে শ্রমিক লীগ কারখানা শাখার সম্পাদক ও সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিনের সঙ্গে। তিনি জানান, লোকবল-সংকট ও বাজেট ঘাটতির কারণে সত্যি সত্যি সৈয়দপুর রেল কারখানায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত লোক নিয়োগ করা না হলে উত্পাদন ঝুঁকিতে পড়বে।

রেল শ্রমিক ইউনিয়ন সৈয়দপুর রেল কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়তুর রহমান বলেন, ‘সরকার মুখে বলছে তারা রেলবান্ধব; অথচ কার্যক্ষেত্রে প্রবল অনীহা লক্ষ করছি। সব সেক্টরে লোক নিয়োগ হলেও রেলওয়ে অঙ্গন অবহেলিত থাকছে।’

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) জয়দুল ইসলাম জানান, জনবল-সংকটে দ্রুত লোক নিয়োগ করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। তিনি বলেন, মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় লোক নিয়োগ আপাতত বন্ধ রয়েছে, তবে দ্রুত ওই সমস্যা কেটে যাবে।

সুত্র:ইত্তেফাক, ০৮ জুন, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।