রেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আর লোকসান

রেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আর লোকসান

যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ :

সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক রেল দুর্ঘটনায় ‘নিরাপদ’ বাহন হিসেবে পরিচিত ট্রেন এখন ‘অনিরাপদ’ বাহনে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষে ১৬ জন প্রাণ হারান। আহত হন শতাধিক। এরপর গত বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন ও সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ২৫ জন। এর আগে চলতি বছরের ২৩ জুন রাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে প্রাণ হারান ৫ জন। আহত হন শতাধিক যাত্রী। ফলে আবারও আলোচনায় এসেছে ট্রেন দুর্ঘটনার বিষয়টি। এদিকে ট্রেনের উন্নয়নে প্রতি বছর নানা পদক্ষেপ এবং বছর বছর যাত্রী সংখ্যা বাড়লেও লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না রেলওয়ে।

এক হিসাবে মতে, বিগত সাড়ে ৫ বছরে এক হাজার ৮টিরও বেশি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩০ জন। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের এক গবেষণা অনুযায়ী, মুখোমুখি সংঘর্ষ, ট্রেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, লেভেল ক্রসিং, সিগন্যালিং ত্রুটি, লাইনচ্যুতিসহ বিভিন্ন কারণে রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, লোকবল ঘাটতি, নিয়মিত তদারকি ও মেরামতের অভাব, রেলপথে মানসম্মত পর্যাপ্ত পাথরের স্বল্পতা ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউবিবি।

রেল গবেষক ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে। এর মধ্যে মানসম্পন্ন রেললাইন ৭৩৯ কিলোমিটার; যা মোট রেললাইনের ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ ১৪টি রুটকে মানসম্পন্ন বলে চিহ্নিত করেছে। তবে রেললাইনগুলো নিয়মিত তদারকি না করায় বর্তমানে মানসম্মত রেললাইন আরও কমেছে।

তিনি বলেন, রেল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ সিগন্যাল অমান্য করা বা সিগন্যালিং ত্রুটি। সর্বশেষ ঘটে যাওয়া কসবা দুর্ঘটনা সিগন্যাল অমান্যের কারণেই হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও দেশে এখনও ২ হাজার ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিং রয়েছে। যেগুলোতে নেই কোনো গেটকিপার।

আতিকুর রহমান বলেন, দেশে রেলপথ বাড়লেও দীর্ঘদিনের পুরনো লাইনগুলো ঠিকমতো সংস্কার না করায় রেল দুর্ঘটনা বাড়ছে। বর্তমানে রেলপথে ছোট-বড় তিন হাজার ১৪৩টি কালভার্ট-ব্রিজ রয়েছে। এর অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলের। সেতুগুলো সংস্কার না করায় এরই মধ্যে ৪০২টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রেল দুর্ঘটনা রোধে বিশ্বব্যাপী নানা প্রযুক্তি আবিষ্কার হলেও আমাদের দেশে আধুনিক এসব প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ট্রেনের মুখোমুখি দুর্ঘটনা রোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে কোনো রেললাইনে দুটি ট্রেন মুখোমুখি চলে এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও রেলে অভিজ্ঞ চালকের অভাব রয়েছে। নতুনদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দিয়েই চালকের আসনে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ চালকের বিদ্যমান সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞদের অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার রেলের উন্নয়নে বেশকিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। তবে রেলের উন্নয়ন মানে কেবল নতুন বগি, রেলপথ বৃদ্ধি আর উদ্ধার কাজে ক্রেনের ব্যবহার নয়। রেলের সত্যিকারের উন্নয়নের জন্য সার্বিকভাবে সব বিষয়কে সমানগুরুত্ব দিতে হবে। দেশের রেলওয়ে পুলিশ এবং আনসার বাহিনীকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিতে হবে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে গত পাঁচ বছরের দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে দুটি কারণ জানিয়েছে রেলওয়ে সূত্র। একটি মানুষের ভুল (হিউম্যান এরর), অন্যটি কারিগরি ত্রুটি। বলা হচ্ছে, গড়ে ৮০ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা ঘটে মানুষের ভুলে। অর্থাৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভুলে বা অবহেলায়। মানুষের ভুলের মধ্যে অন্যতম লাইন পরিবর্তনের জোড়া (পয়েন্টস) ভুলভাবে স্থাপন ও ভুল সংকেত দেয়া। এছাড়া সংকেত ও যথাযথ গতিনির্দেশিকা না মেনে ট্রেন চালান চালক ও সহকারী চালকরা। আর কারিগরি ত্রুটির মধ্যে লাইনের ত্রুটি, ইঞ্জিন-কোচের ত্রুটি বড়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে সূত্র বলছে, প্রশিক্ষণ বা বড় ধরনের শাস্তি দিয়ে মানুষের ভুল এড়ানো সম্ভব। কিন্তু রেলে ভুল শোধরানোর জন্য তেমন কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আর কোনো দুর্ঘটনায় শাস্তি পায় কেবল নিচের দিকের কর্মীরা। তদন্তে কখনোই বড় কর্মকর্তাদের নাম আসে না; ফলে শাস্তিও হয় না। গত সপ্তাহে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভুলে। কসবায় দুর্ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে চালক ও পরিচালককে (গার্ড) দায়ী করা হয়েছে।

উল্লাপাড়ার দুর্ঘটনার দায় নিয়ে রেলের পরিচালন (অপারেশন) ও পুরকৌশল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের মধ্যে ঠেলাঠেলি চলছে। পরিচালন বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি লাইন পরিবর্তনে জোড়ার (পয়েন্টস) ২০ মিটার আগে ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলে পুরকৌশল বিভাগ মেরামত কাজ করেছেন; যা স্টেশনমাস্টারকে জানানো হয়নি। মেরামতও ঠিকভাবে হয়নি বলে দাবি করেছে পরিচালন বিভাগ। অন্যদিকে পুরকৌশল বিভাগ বলছে, ট্রেনটি সোজা লাইনে চলে যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু স্টেশনমাস্টারের ভুল সংকেতের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দশবছরে লোকসান প্রায় ১১ হাজার কোটি

বিগত দশবছরে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরও রেলওয়ে লাভতো দূরের কথা নিজের পরিচালন ব্যয়ই তুলতে পারেনি। রেলওয়ের হিসাব শাখার তথ্যানুয়ায়ী, গত ১০ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির পরিচালন ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। বিপরীতে আয় হয়েছে ৯ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। ফলে এক দশকে রেল লোকসান করেছে ১০ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলের লোকসান এক হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেলের লোকসান ছিল এক হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের সব দেশেই লোকসানে চলে রেল। যাত্রীসেবা প্রধান লক্ষ্য হওয়ায় রেল কখনোই লাভের মুখ দেখবে না। তবে রেলে বর্তমানে যেসব প্রকল্প চলছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে লোকসান অনেকটা কমে আসবে। তবে রেল যতোই লোকসানের রেকর্ড করুক পরিবহনটির যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। শুধু ঈদ উৎসব নয় যেকোন সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন। অপারেশন শাখার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেলওয়ে ৭ কোটি ৭৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। আর সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলের যাত্রী ছিল ৯ কোটি ২৭ লাখ।

চাহিদা বাড়লেও জনবল বাড়েনি

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শামসুল হক জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, আমাদের নজর উন্নয়নের দিকে। কিন্তু মেরামত যে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেদিকে বাজেটও কমে যাচ্ছে। ব্রিটিশ আমলের রেললাইন নিয়মিত সংস্কার করা প্রয়োজন। সেগুলো কি হচ্ছে? পাশাপাশি অনেকদিন ধরেই রেলে জনবল কম। এটি কিন্তু অন্য সেক্টরের মতো নয়। এখানে একজনকে নিয়োগ দিলে তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগাতে সময় লাগে। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একসঙ্গে ১০ হাজার মানুষকে রেল থেকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় দেয়া হয়েছিল। এরপর খুব বেশি জনবল নেয়া হয়নি এ সেক্টরে।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ব্রিটিশ আমলের রেলপথকে তো খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে কখনও নেয়া হয়নি। আগে মানুষ ট্রেনে চড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে না। এখন অনেক বেশি মানুষ ট্রেনে চড়েন। ১৯৭৩ সালে রেলে জনবল ছিল ৬৮ হাজার। তখন দেশের মানুষ ছিল ৭ কোটি। আর এখন ১৬-১৭ কোটি মানুষের দেশে রেলের জনবল ২৭ হাজার। ১৯৮৬ সাল থেকে তো রেলে জনবল নিয়োগ বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে বহু মানুষকে বিদায় করেছে। ফলে বড় ধরনের জনবলসংকট তৈরি হয়েছে। আমরা নতুন করে কিছু নিয়োগ দেয়া শুরু করেছি। কিন্তু এজন্য সময় দরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা বহু চালককে অবসরে না পাঠিয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে রেখে দিচ্ছি। তা না হলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়। আর দেশে সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন চলে। ফলে কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। কাজেই যতদিন না ডাবল লাইন করা যাচ্ছে- ততদিন এ সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।

মন্ত্রী বলেন, আগের সরকারগুলোর সময় রেলওয়েকে গুরুত্বহীন এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানে বানানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এখন রেল বিভাগকে গতিশীল করতে অনেক প্রকল্প নিয়েছে। ইতিমধ্যে লোকবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। এটি যেহেতু টেকনিক্যাল বিভাগ, সে কারণে রাতারাতি এখানে লোক পাওয়া কঠিন। ফলে ট্রেনের চালক যারা অবসরে যাচ্ছেন তাদেরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় হচ্ছে। ট্রেনের সার্বিক উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মৃত্যুফাঁদ অরক্ষিত রেলক্রসিং

রেল দুর্ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ অরক্ষিত রেলক্রসিং। এক হিসাবেমতে, সারা দেশে ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার রেলপথে লেভেল ক্রসিং রয়েছে ২ হাজার ৫৪১টি। এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি লেভেলক্রসিং অরক্ষিত। প্রহরী ছাড়াই চলছে অধিকাংশ ক্রসিং। ঝুঁকিপূর্ণ এসব লেভেল ক্রসিংয়ে রেল কর্তৃপক্ষ শুধু ‘সামনে রেলক্রসিং, সাবধানে চলাচল করুন’ সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলওয়ে ও রেল মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় জনগণ দিন দিন লেভেল ক্রসিং বৃদ্ধি করেই চলেছে; তাই সব লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, অনেক রেল ক্রসিংয়ে গাড়ির গতিরোধে ব্যবহার হচ্ছে বাঁশ। এসব গেটের সামনে নেই কোনো সিগন্যাল লাইট। এমনই একটি অরক্ষিত ক্রসিংয়ে চলতি বছরের ১৫ জুলাই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। অরক্ষিত ক্রসিংয়ে বিয়ের গাড়িটিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া পদ্মা এক্সপ্রেস ধাক্কা দিলে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিজেদের দায় অস্বীকার করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। এমন বড় ঘটনাগুলো নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা হলেও প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কোনো খোঁজখবর রাখে না কেউ।

সুত্র:যুগান্তর, ১৯ নভেম্বর ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।