শিরোনাম

রেলে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ করছে পাওয়ারপ্যাক-মুতিয়ারা বিদ্যুৎকেন্দ্র

রেলে জ্বালানি পরিবহন বন্ধ করছে পাওয়ারপ্যাক-মুতিয়ারা বিদ্যুৎকেন্দ্র

সুজিত সাহা:
রেলের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল পরিবহনে ২০১৫ সালে চুক্তিবদ্ধ হয় পাওয়ারপ্যাক-মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড। কিন্তু দুই বছরের মাথায় রেলের সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধ করতে চাইছে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এতে অকেজো হয়ে পড়বে ফার্নেস অয়েল পরিবহনে ব্যবহূত ৭২টি ওয়াগন। এতে অবকাঠামো নির্মাণ ও ওয়াগন বাবদ ২৫-৩০ কোটি টাকা ক্ষতির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে জামালপুরে ফার্নেস অয়েল পরিবহনে রেলের সঙ্গে চুক্তি হয় পাওয়ারপ্যাক-মুতিয়ারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের। চুক্তি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে জামালপুর স্টেশন থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত সাইডিং লাইন নির্মাণ করে রেলওয়ে। এ বাবদ রেলওয়েকে এককালীন অর্থ পরিশোধ করে পাওয়ারপ্যাক। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (রোলিং স্টক) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্যাওয়ারপ্যাকের বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি পরিবহনের সিদ্ধান্ত হয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে দেশের সাতটি গন্তব্যে এয়ারব্রেক ও ভ্যাকুয়াম ব্রেক পদ্ধতিতে জ্বালানি পরিবহন হয়। এর মধ্য থেকে একাধিক গন্তব্যের ৭২টি ওয়াগন ট্যাংক সংগ্রহ করে শুধু পাওয়ারপ্যাকের জন্য ফার্নেস অয়েল পরিবহনের সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৭ সালের ১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় জামালপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। দেড় বছর ধরে রেলওয়ে পাওয়ারপ্যাকের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য ৭২টি ওয়াগনে ফার্নেস অয়েল বহন করছে। প্রতি মাসে ৮ থেকে ২১টি পর্যন্ত রেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ট্রেন পরিচালনা করে রেলওয়ে। সর্বশেষ অক্টোবরে চারটি রেকে ১৯২ লোড (ওয়াগন) এবং চলতি নভেম্বরে তিনটি রেকে ১৪৪ লোড ফার্নেস অয়েল পরিবহন করে রেলওয়ে। কিন্তু হঠাৎ করে পাওয়ারপ্যাক কর্তৃপক্ষ রেলপথে জ্বালানি পরিবহন কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ফার্নেস অয়েলের মতো কালো তেল বহনকারী ওয়াগন পরবর্তী সময়ে অন্য জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়তে যাচ্ছে রেলওয়ে। বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বিষয়ে লিখিত কোনো চুক্তি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগও পাচ্ছে না সংস্থাটি। রেলওয়ে বলছে, আগামীতে একটি কিংবা দুটি রেক ফার্নেস অয়েল পরিবহনের পর রেলপথে জ্বালানি নেয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ট্রাফিক কর্মকর্তা (ডিটিও) ফিরোজ ইফতেখার বণিক বার্তাকে বলেন, পাওয়ারপ্যাক এখনো লিখিত কিছু জানায়নি। তবে ধীরে ধীরে রেলপথে জ্বালানি নেয়া কমিয়ে দেয়া হতে পারে বলে মৌখিকভাবে জানতে পেরেছি। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ফার্নেস অয়েল সরবরাহে ৭২টি ট্যাংক ওয়াগন ব্যবহারের পর সেগুলো ফেলে রাখা হলে রেলের বিপুল পরিমাণ লোকসান হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানিবাহী ওয়াগনগুলো ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিন পরিবহনে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামের দোহাজারী ও হাটহাজারীতে সরকারি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ফার্নেস অয়েল পরিবহনের নির্ধারিত ওয়াগন রয়েছে। জামালপুর-মুতিয়ারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি পরিবহনে বিপিসির জন্য নির্ধারিত ৭২টি ওয়াগন বরাদ্দ দেয় রেলওয়ে। কিন্তু কেন্দ্রটিতে ফার্নেস অয়েল পরিবহন বন্ধ হলে এসব ওয়াগন অকেজো হয়ে যাবে। এতে রেলওয়ে প্রায় ২০-৩০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেলের পরিবহন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, জামালপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রেলের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনের কথা বলে হঠাৎ তা বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি অন্য একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে জ্বালানি তেল আমদানি করছে। রেলওয়ের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাইডিং লাইন যুক্ত করার সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি আমদানির বিভিন্ন সনদ ও ছাড়পত্র অর্জন করেছে। কিন্তু তারা এখন রেলে ফার্নেস অয়েল পরিবহন না করলে ৭২টি ওয়াগন স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী দেবব্রত উকিল বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা ৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করে জামালপুর রেলস্টেশন থেকে সাইডিং লাইন নির্মাণ করেছি। ফলে রেলপথে জ্বালানি পরিবহন করব না, এটা বলা হয়নি। তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় রেলপথে জ্বালানি সংগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রেলের আর্থিক কোনো ক্ষতি হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।

সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন জামালপুর-মুতিয়ারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা রেলপথে ফার্নেস অয়েল পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করব না। কেরানীগঞ্জে আমাদের প্রতিষ্ঠানের একটি ১০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ফলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ফার্নেস অয়েল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে পাওয়ারপ্যাক। এজন্য নৌপথে জ্বালানি পরিবহনের আনুষঙ্গিক অবকাঠামোও তৈরি করা হয়েছে। রেলপথে সীমিত আকারে জ্বালানি পরিবহন করা হবে। এক্ষেত্রে রেলের ক্ষতি হলেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

সুত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ২১, ২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।