শিরোনাম

মেয়াদোত্তীর্ণের ৮৫ বছরেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে ১৯ ট্রেন

মেয়াদোত্তীর্ণের ৮৫ বছরেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে ১৯ ট্রেন

স্বপন চৌধুরী :মেয়াদোত্তীর্ণের ৮৫ বছর পেরিয়ে গেছে তিস্তা রেল সেতুর। তার পরও ঝুঁকি নিয়ে প্রায় দুই শ বছরের পুরনো এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে দুইটি আন্তনগরসহ অন্তত ১৯টি ট্রেন। উত্তরের লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার তিস্তা রেল সেতু নির্মাণ করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৮৩৪ সালে লালমনিরহাট ও রংপুরের সংযোগস্থলে তিস্তা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণ করে ব্রিটিশ সরকার। নির্মাণকালে এর আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছিল ১০০ বছর, যা শেষ হয় ১৯৩৪ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে আরো প্রায় ৮৫ বছর। তবুও ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়ে নিত্য চলাচল করছে যাত্রীবাহী ট্রেন। মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতুর পাশে আরেকটি রেল সেতু নির্মাণের সরকারি পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

রেলওয়ের সূত্র জানায়, ১৮৩৪ সালে তিস্তার ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য দুই হাজার ১১০ ফুট। সে সময় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেল সেতু হিসেবে এর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। সেতুটির উত্তর পাশে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা এলাকা আর দক্ষিণ পাশে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেতুর কাউনিয়া প্রান্তে পাকিস্তানি বাহিনী বোমা হামলা করে। এতে একটি গার্ডার পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ১৯৭২ সালে মেরামতের মাধ্যমে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়। তারপর ১৯৭৭ সালে রেলওয়ে এবং সওজ বিভাগ যৌথভাবে রেল সেতুতে মিটারগেজ লাইনের পাশে ২৬০টি স্টিলের প্লেট ও কাঠের পাটাতন স্থাপন করে। ১৯৭৮ সালে ট্রেনের পাশাপাশি সেতুটির ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু করা হয়। সেই থেকে রেল সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক পারাপারের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এটি একমুখী সেতু হওয়ায় উভয় পাশে একই সঙ্গে যানবাহন চলাচল করতে পারত না। যখন ট্রেন চলত তখন সেতুতে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকত। পরে ২০০১ সালে রেল সেতুর পূর্ব দিকে তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, পাশেই সড়ক সেতু চালু হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ রেল সেতুতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা বেশ নাজুক। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় শত বছর পরেও মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে এর ওপর দিয়ে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে এই সেতুতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিস্তা সেতু এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, নূরুল হক, শিক্ষক আশেক আলী ও মনিমোহন বলেন, ওপরে ট্রেন উঠলেই সেতুটি কেঁপে ওঠে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো নামমাত্র মেরামতকাজ করা হলেও সেতুটির বাস্তবিক কোনো উন্নতি হয়নি।

এসব বিষয়ে জানতে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আল-ফাত্তাহ মো. মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তিস্তা রেল সেতু কিছুটা মেরামত করা হয়েছে। এখন সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচলে খুব বেশি সমস্যা নেই। আমরা একে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু বলতে পারি না।’ তিনি জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সেতুটি মেরামত করা হয়েছে। আগে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেগে সেতু দিয়ে ট্রেন চলত। এখন এই সেতু দিয়ে ৪০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করছে। রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা রেল সেতু ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও এর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরো একটি ডাবল ব্রড গেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রাথমিক সমীক্ষাও করা হয়েছে।’

সুত্র:কালের কন্ঠ, ১ নভেম্বর, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।