বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব থেকে ৪৭০ কোটি টাকা কাটছাঁট

বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব থেকে ৪৭০ কোটি টাকা কাটছাঁট

ইসমাইলআলীখুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় এক দফা বাড়ানো হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় দফা এ ব্যয় আরও বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে গত জানুয়ারিতে। সে সময় ৯৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করে রেলওয়ে। তবে পরিকল্পনা কমিশন এ প্রস্তাবে আপত্তি তোলে। ফলে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে।

সূত্রমতে, খুলনা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় ২০১৫ সালের অক্টোবরে। এর আগে ওই বছর মে মাসে প্রকল্পটি এক দফা সংশোধন করা হয়। তবে নির্মাণ শুরুর পর মূল রেলপথ ছাড়াও রূপসা রেল সেতুর নকশায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এতে নকশায় সংশোধন আনতে হয়। ফলে আরেক দফা প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ প্রকল্পটির ২য় দফা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে সময় বলা হয়, ভারতের ঋণে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি। ২০১০ সালে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ। ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ হিসাবে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়াচ্ছে চার হাজার ৭৯৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ নিয়ে ২৫ জানুয়ারি শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এদিকে গত ২ জুন প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনায় বৈঠক হয় পরিকল্পনা কমিশনে। বৈঠকে প্রকল্পের বিভিন্ন খাতের ব্যয় নিয়ে আপত্তি ওঠে। এর মধ্যে বেশকিছু খাতের ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। আর কিছু ব্যয় বাতিল করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, সর্বশেষ হিসাবে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ হিসাবে প্রকল্প ব্যয় কাটছাঁট হয়েছে ৪৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় দফা ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনটি প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজের (ডব্লিউডি-১) আওতায় রয়েছে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ, দ্বিতীয় প্যাকেজের (ডব্লিউডি-২) আওতায় পাঁচ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রূপসা রেল সেতু নির্মাণ এবং তৃতীয় প্যাকেজের (ডব্লিউডি-৩) আওতায় ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রেলপথে সিগনালিং ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা স্থাপন।

তিন প্যাকেজের প্রতিটির ব্যয়ই বাড়ছে। পাশাপাশি পরামর্শক খাতেও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া কয়েকটি আইটেম নতুন যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ধাপে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর দুই ধাপ মিলিয়ে বাড়ছে দুই হাজার ৬০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

এদিকে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে পরিকল্পনা কমিশন বিভিন্ন খাতে আপত্তি তোলে। এর মধ্যে প্রাইস কন্টিনজেন্সি বাবদ ১৪৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সি বাবদ ৭১ কোটি ৭২ লাখ বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। আরও কিছু খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবে কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া দুটি খাতে ব্যয় সরাসরি বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো বাদ দিলে প্রকল্প ব্যয় আরও কমে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। শিগগিরই তা পরিকল্পনা কমিশনে পুনরায় পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, খুলনা-মোংলা বন্দর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বাস্তবায়নকালও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েক দফা বৃদ্ধির পর সর্বশেষ তা ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র:শেয়ার বিজ, জুন ৭, ২০২১

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।