নিম্নমানের ইরানি বিটুমিন ব্যবহারে বাধা দিয়ে হুমকিতে রেলের ইঞ্জিনিয়ার

নিম্নমানের ইরানি বিটুমিন ব্যবহারে বাধা দিয়ে হুমকিতে রেলের ইঞ্জিনিয়ার

নিউজ ডেস্ক:মানহীন ইরানি বিটুমিনে তৈরি হচ্ছিল কুড়িগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনের সংযোগ সড়কটি। এতে জোর আপত্তি তোলেন তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত রেলওয়ের একজন ইঞ্জিনিয়ার। এ কারণে তাঁকে বদলির হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত ঠিকাদার। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলছেন, তাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়।

নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে সড়কের মান খারাপ করা তারা মেনে নেবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিকারকদের একটি সিন্ডিকেট রাখঢাক ছাড়াই কৌশলে দেশে ইরানি বিটুমিনের চালান আনছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের  উৎপাদিত দাবি করা হলেও এসব বিটুমিনের উৎপাদক হচ্ছে আমদানি নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশ ইরান। ইরানে ৮০ থেকে ১০০ গ্রেডের বিটুমিন কিনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এনে ভেজাল মেশানো হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে যখন তা পৌঁছায় সেই বিটুমিন তখন আলকাতরা! পরীক্ষা ছাড়া তা খালাসও হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। সড়ক বিশেষজ্ঞরা এসব বিটুমিনের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। খোদ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাও এই মানহীন বিটুমিন ব্যবহার না করতে নির্দেশনা জারি করেছে। কিন্তু ভেজাল বিটুমিনের ব্যবহার চলছেই। সর্বশেষ কুড়িগ্রামে হাতেনাতে এই বিটুমিনের ব্যবহার ধরা পড়ল।

কুড়িগ্রামের জরাজীর্ণ রেলওয়ে স্টেশন ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা থেকে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সুন্দর ও আধুনিক প্ল্যাটফরম নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে আর কে রোড থেকে স্টেশনে প্রবেশের সংযোগ সড়কটিও মেরামতের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। রেল কর্তৃপক্ষ ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ফুটপাথ, ড্রেন, ডিভাইডার ও সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করে। সড়কের দুই পাশে ড্রেন, কংক্রিট ব্লকের ফুটপাথ, ডিভাইডার এবং কার্পেটিংসহ সব কাজ প্রায় শেষের দিকে। শুধু গ্রিল ও সিলকোটের ফিনিশিং বাকি। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, সিলকোটের কাজ করার জন্য গত ৭ মে ঠিকাদার উদ্যোগ নিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী দেখতে পান, নিম্নমানের ৮০-১০০ গ্রেডের ইরানি বিটুমিন আনা হয়েছে। প্রকৌশলী নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে কাজ করা যাবে না বলে ঠিকাদারকে জানিয়ে দেন।

এতে ঠিকাদার চড়াও হয়ে প্রকৌশলীর সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজনও এর প্রতিবাদ করে। এ সময় ঠিকাদারের লোকজন প্রকৌশলীকে বদলি করাসহ নানা ধরনের হুমকি দেন। এলাকাবাসীর বাধার মুখে কাজ বন্ধ করে দেন প্রকৌশলী। রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক জানান, কোনোভাবে যদি মার্কেটে ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে কাজ চালু রাখার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিকল্প পথ রাখে। কিন্তু এ মুহূর্তে বাজারে উন্নতমানের ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিনের সরবরাহ ভালো। এরপরও ঠিকাদার জোর করে নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে কাজ করাতে চাচ্ছিলেন। তাই কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। জানা গেছে, এ কাজটি দিনাজপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল আমিন ট্রেডার্সের নামে হলেও মূল ঠিকাদার গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের জহুরুল হক। এ ব্যাপারে জহুরুল হক বলেন, শিডিউলে ৬০-৭০ গ্রেড অথবা ৮০-১০০ গ্রেডের কথা উল্লেখ আছে। সেজন্য আমরা ৮০-১০০ গ্রেডের ইরানি বিটুমিন নিয়ে এসেছি। বাজারে ৬০-৭০ গ্রেডের বিটুমিন পাওয়া যায় না। জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উন্নতমানের বিটুমিন না পাওয়ার যে দাবি তুলেছে তা সঠিক নয়।

বাজারে এখন উন্নতমানের বিটুমিনের সরবরাহ ভালো। এমনকি দেশীয় একটি কোম্পানি উন্নতমানের বিটুমিন তৈরি করছে। ফলে এখন আর ইরানের ভেজাল বিটুমিনের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।

সূত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৮ জুন, ২০২১


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।