ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীদের দুর্ভোগ

ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীদের দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক: শোভন শ্রেণীর বগি তুলে দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি বাড়ানোর ফলে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত ওই ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি কমিয়ে শোভন শ্রেণীর বগি সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা। জানা গেছে, বর্তমানে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী বগি সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে ৭টিই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বাকি ৮টি বগি শোভন চেয়ার কোচের হলেও সেখানে আসনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি আসনবিহীন টিকিট বিক্রি করা হয়। ফলে ওই বগিগুলোতে আসনবিহীন যাত্রীদের ঠাসাঠাসি অবস্থায় ৪-৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ঢাকা থেকে জামালপুুর যাওয়া-আসা করতে হয়।

বুধবার ওই ট্রেনে ঢাকা থেকে জামালপুর আসার পথে গফরগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী রাজীবসহ অন্য যাত্রীরা জানান, তিস্তা ট্রেনে আগে শোভন শ্রেণীতে পাশাপাশি দুই আসন একীভূত থাকায় দু’জনের সিটে তিনজনও বসা যেত। কিন্তু ‘শোভন চেয়ার’ কোচে দুই সিট আলাদা করায় এখন আর সে সুবিধা নেই। ‘শোভন চেয়ার’ কোচে আসনবিহীন টিকিট বিক্রি খুবই হাস্যকর মনে করেন যাত্রীরা। সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন- ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ ৪-৫ ঘণ্টার যাত্রাপথের জন্য এত বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগির কী প্রয়োজন? তারা যাত্রী দুর্ভোগ লাঘবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি কমিয়ে ‘শোভন’ বা ‘শোভন চেয়ার’ কোচ বাড়ানোর দাবি জানান।

যাত্রীদের অভিযোগ, আগে এই ট্রেনে ঢাকা-জামালপুর শোভন শ্রেণীর ভাড়া ছিল ১৬০ টাকা। তার স্থলে এখন ‘শোভন চেয়ার’ বসিয়ে টিকিটের মূল্য ১৯০ টাকা করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের কাছে আসনবিহীন টিকিটের ভাড়া কমানোরও দাবি জানান। যাত্রাপথে ট্রেনটির বিভিন্ন বগি ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড ভিড় এড়াতে ট্রেনের খাবারের বগি, নামাজের কক্ষসহ সংরক্ষিত কক্ষে যাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে বসে আছেন।

এ সময় অন্য যাত্রীদের সঙ্গে ট্রেনের পাওয়ার কন্ট্রোল রুমে বসতে চাইলে এই প্রতিবেদকের কাছ থেকেও অতিরিক্ত দেড়শ’ টাকা আদায় করা হয়। একপর্যায়ে পরিচয় জেনে ওই কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই প্রতিবেদকের টাকা ফেরত দিলেও অন্য যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফেরত দেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাওয়ার কন্ট্রোল রুমের ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রেনটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি বাড়ানোর ফলে বিত্তশালীদের সুবিধা হলেও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আগের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে সাধারণ যাত্রীরা টিকিটের সমপরিমাণ বাড়তি টাকা দিয়ে ট্রেনের বিভিন্ন সংরক্ষিত স্থানে বসে ভ্রমণ করতে বাধ্য হন।

এ ব্যাপারে জামালপুরের স্টেশন মাস্টার শামছুদ্দিন জানান, তিনি নতুন এসেছেন তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছেন না। তিনি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিলে ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হুদা বলেন, শোভন শ্রেণী তুলে দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি বাড়ানোর ফলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমে তুলে ধরার অনুরোধ জানান।

সুত্র:যুগান্তর, ৩১ মার্চ ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।