শিরোনাম

ডাবল লাইন করতে বাধা ৩১ কাঠা জমি


শামীম রাহমান:

ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথটি ডাবল লাইনে উন্নীতের উদ্যোগ নিয়েও কাজটি সম্পন্ন করতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকার মাত্র দশমিক ৫১ একর বা ৩১ কাঠা জমি রেলপথটি ডাবল লাইন করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জমিটি রেলওয়েরই অধিগ্রহণ করা ছিল। এখন বেহাত হয়ে চলে গেছে ব্যক্তি মালিকানায়। সেই জমি অধিগ্রহণের টাকার সংস্থান করতে না পেরে চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জের দুই কিলোমিটার অংশ বাদ রেখেই ডাবল লাইন করা হচ্ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথ। রেলপথটি পুরো ডাবল লাইন না হলে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সুফল আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মধ্যে বর্তমানে মিটার গেজের একটি রেলপথ রয়েছে।এর মধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জুরাইন রেলগেট পর্যন্ত রেলপথটি ডাবল লাইন করা হচ্ছে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে। আর জুরাইন থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত একটি নতুন ডুয়াল গেজ লাইন নির্মাণ করে পুরো রেলপথটি ডাবল লাইনে উন্নীতের কাজ করছে রেলওয়ে। এজন্য খরচ হচ্ছে ৬৩২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটার গেজ রেললাইনের সমান্তরালে একটি ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথটিকে ডাবল লাইনে উন্নীত করা, যার মাধ্যমে সেকশনটিতে ট্রেন চলাচল আরো গতিশীল হবে, বাড়বে যাত্রী পরিবহন।

পুরো রেলপথটি ডাবল লাইনে উন্নীতের কাজে বিপত্তি বেধেছে চাষাঢ়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়।রেলপথ তৈরির জন্য ১৮৮২ সালে চাষাঢ়া থেকে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৬২ ফুট প্রস্থে জমি অধিগ্রহণ করেছিল তত্কালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে। তবে চাষাঢ়া স্টেশন সংলগ্ন রেলগেট টি-১ থেকে টি-২ পর্যন্ত ৩১ কাঠা জমি সিএস ও আরএস জরিপে ব্যক্তিগত মালিকানায় রেকর্ড হয়ে যায়।

অধিগ্রহণ করা জমি বেহাত হওয়ার তথ্য জানতেনও না রেলওয়ের কর্মকর্তারা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে নতুন ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের যখন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি হয়, তখন তারা ধরেই নিয়েছিলেন জমির মালিকানা রেলওয়ের হাতেই রয়েছে। এজন্য প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থের সংস্থান রাখা হয়নি। জমি বেহাত হওয়ার বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে নতুন রেলপথটির নকশা তৈরির সময়। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা দেখতে পান ১৮৮২ সালে অধিগ্রহণ করা জমির বেশকিছু অংশ সিএস ও আরএস জরিপে স্থানীয় বাসিন্দাদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে গেছে। এসব জমিতে বর্তমানে টিনশেড থেকে সাততলা পর্যন্ত ভবন তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা হিসাব করে দেখেছেন, বিদ্যমান ভূমি অধিগ্রহণ আইনে বেদখল হয়ে যাওয়া দশমিক ৫১ একর জমি পুনরায় অধিগ্রহণ করতে খরচ হবে প্রায় ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর এ জমিতে যেসব স্থাপনা রয়েছে, ‘পিডব্লিউডি নারায়ণগঞ্জ রেট’ অনুযায়ী সেগুলোর ক্ষতিপূরণ বাবদ খরচ হবে ৪৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বেহাত হওয়া জমি পুনরায় দখলে নিতে রেলওয়ের খরচ হবে ১৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রথমত জমির দাম বেশি, দ্বিতীয়ত একবার অধিগ্রহণ করা জমি পুনরায় অধিগ্রহণ হলে অডিট আপত্তি উঠতে পারে—এমন পরিপ্রেক্ষিতে চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জ অংশ বাদ রেখেই ঢাকানারায়ণগঞ্জ রেলপথের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত প্রকল্পটির যাচাই কমিটির সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ডিএন মজুমদার বলেন, চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জ অংশটি ডাবল লাইন করা অত্যন্ত জরুরি।চাষাঢ়া স্টেশন থেকে রেলগেট টি-২ পর্যন্ত রেলভূমি বেদখল হওয়ার হাত থেকে রক্ষা এবং চাষাঢ়া ইয়ার্ডের ‘শান্টিং-স্ট্যাবলিং’ সুবিধা বৃদ্ধির জন্যই এটা করতে হবে। তবে এ কাজটি ভবিষ্যতের জন্য রেখে আপাতত চাষাঢ়া-নারায়ণগঞ্জ অংশটি মিটার গেজ লাইন থেকে ডুয়াল গেজ লাইনে উন্নীত করার পক্ষে মত দেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটার গেজ রেললাইনের সমান্তরালে একটি ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেলিম রউফ বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে সরকারি ও বৈদেশিক সহায়তা তহবিলের মাধ্যমে। প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি।ফলে চাষাঢ়া স্টেশন এলাকার দশমিক ৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে এ জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে লাইনটি ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

সূত্র:বণিক বার্তা, ডিসেম্বর ০৫, ২০২১


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।