শিরোনাম

ট্রেনে ‘চুক্তি’তে যাত্রী পরিবহণ!

ট্রেনে 'চুক্তি'তে যাত্রী পরিবহণ!

মো. ফারিয়ার রহমান শোভন :রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ডজনখানেক আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চলে। কিন্তু যাত্রী পরিবহণে থাকছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই। এমনকি টিকিট ছাড়াই ট্রেনে উঠে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে যাত্রীদের।সম্প্রতি রাজশাহী যাতায়াতকারী কয়েকটি ট্রেনে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।এর আগে কালোবাজারে ট্রেনের টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা ছড়ায়।

রাজশাহী স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা একাধিক টিকিট কালোবাজারি চক্রের অপতৎপরতার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ট্রেনের টিকিট না পাওয়া নিয়ে অনেক অভিযোগ উঠে। এমনকি সেই চক্রের সঙ্গে রাজশাহী রেলস্টেশনের এক বুকিং সহকারী জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া যায়।

এ ঘটনার পরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে নতুন মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার নিজেই মাঠে নেমে তদারকি শুরু করেন। বিভিন্ন সময়ে স্টেশনে গিয়ে টিকিটের খোঁজ নেওয়াসহ ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট চেক করে প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন যাত্রীদের। কিন্তু এতকিছুর পরেও ট্রেনে থাকছে অতিরিক্ত যাত্রী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী বহন শুরু করা হয়। যাত্রীদের আসনের ক্ষেত্রে একটির পরে একটি করে ফাকা রেখে আসন বিন্যাস করা হয়। কিন্তু ট্রেনে ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন বগিতে বেশ কিছু আসনের সবগুলোতেই যাত্রীদের থাকতে দেখা যায়।  ট্রেনের গেটে গেটে টিকিট ছাড়া ট্রেনে ওঠা যাত্রীদের জটলা করে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কিছু যাত্রীদের আবার পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের জন্য নির্ধারিত টুল নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।

গত ২২ জানুয়ারি রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে দেখা মেলে এমন চিত্র।  ট্রেনের গেটে পুলিশের জন্য নির্ধারিত আসনে তিন যুবককে বসে থাকতে দেখে তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তারা টিকিট ছাড়াই উঠে ট্রেনে থাকা পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করেছেন বলে তথ্য দেন। তবে তাদের পরিচয় ও ছবি নেওয়া হলেও তা প্রকাশ করতে দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন তারা।

একই ট্রেনে আরেক বগিতে এক নারীকে পুলিশ নিজেই তাদের বসার টুল এগিয়ে দিতে দেখা গেলে তাকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে তাকে বসতে দেওয়া হচ্ছে। এরপর তার পরিচয় জানতে চাইলে ও চুক্তির বিষয়ে বলা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না বলে পরিচয় না দিয়ে চলে যান।সেখানে থাকা মাহবুব নামের আরেক পুলিশ কনস্টেবলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন উঠেছি এই ট্রেনে। চুক্তির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এ ঘটনার পরে টিটি ও গার্ড টিকিট চেক করতে আসার কিছুটা সময় আগে এক স্টেশনে ট্রেন থামলে খাবার গাড়ির দুইজন লোক এসে পেছনে থাকা চুক্তিতে ওঠানো কয়েক জনকে নেমে প্রথমের বগিতে গিয়ে উঠে যেতে বলে। এর ফলে টিটি ও গার্ড যখন টিকিট চেক করতে আসেন তখন চুক্তিকৃতদেরকে আর দেখতে পান না।

এমন অবস্থার কথা জানানো হলে সেই ট্রেনে থাকা ট্রেন পরিচালক এন এম সোলাইমান যুগান্তরকে বলেন, অতিরিক্ত যাত্রিদের সবার টিকিট করে দেওয়া হয়েছে। আর পুলিশের চুক্তি করে যাত্রি ওঠানোর ক্ষমতা নেই। এসব টুলগুলো তাদের নিজেদের বসার জন্য দেওয়া হয়।

এ বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, ট্রেন ছাড়ার আগে যাত্রিদের টিকিট চেক করে প্লাটফর্মে প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু চুক্তি করে বিষয়টি নিয়ে আমি জানতাম না। এই কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুতই সকল ট্রেন পুলিশদের নিয়ে একটি মিটিং করবেন বলেও জানান তিনি।

্এ দিনের ঘটনার পরে আবার গত ৩১ জানুয়ারি রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে দেখা যায় অনেকটাই আগের মতোই চিত্র।

সূত্র:যুগান্তর, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।