টাকা আছে, পরিকল্পনার সামর্থ্য নেই

টাকা আছে, পরিকল্পনার সামর্থ্য নেই

আনোয়ার হোসেন : আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বছর রেলের উন্নয়নে বরাদ্দ করেছিল ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। এরপর প্রতিবছরই বরাদ্দ বেড়েছে। এ বছর তা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকায়। কিন্তু বরাদ্দ বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারেনি রেলওয়ে। সঠিক পরিকল্পনা

তৈরি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জনে দৃশ্যত ঘাটতি রয়েছে রেল। ফলে লম্বা সময় ধরে অপরিকল্পিত খরচের বিপুল বোঝা জনগণকে বইতে হচ্ছে। রেল থেকে আধুনিক সেবা পাওয়াও পিছিয়ে যাচ্ছে।

রেলে এখন ৪১টি প্রকল্প চলছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিদেশি ঋণ। এই প্রকল্পগুলো চলছে মোটামুটি একই চক্রে। তা হচ্ছে যথাযথ পরিকল্পনা না করে প্রকল্প গ্রহণ, মাঝপথে গিয়ে প্রকল্প সংশোধন, বাস্তবায়নের সময় বৃদ্ধি, ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেষে রেলের মহাপরিকল্পনা এলোমেলো করে দেওয়া। এই প্রকল্পচক্রে লাভবান হচ্ছে দেশি-বিদেশি ঠিকাদার, রেলের একশ্রেণির কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী তদবিরকারী চক্র। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনগণ।

রেলওয়েতে এক দশক আগে নেওয়া প্রকল্পও আছে। তবে অগ্রগতি হয়নি। এমন একটি প্রকল্প ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার প্রকল্প। এটি অনুমোদন পায় ২০১১ সালের জুলাইয়ে। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত বেতন-ভাতা, টেবিল-চেয়ার, গাড়ির জ্বালানি খরচ আর স্টেশনারি কেনার কাজে ৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কোনো ইঞ্জিন আসেনি। এর মধ্যে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, নিয়োগ করা ঠিকাদারই অর্থায়নের ব্যবস্থা করবেন (টেন্ডারার ফাইন্যান্সিং)—এমন শর্তে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। দুই দফা দরপত্র আহ্বানের পর ২০১৮ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দেড় থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সব ইঞ্জিন সরবরাহের কথা তাদের।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি হুন্দাই রোটেম কোম্পানি জাপানের বেসরকারি খাত থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইঞ্জিন সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে। কিন্তু চড়া সুদে এসব ইঞ্জিন কেনা কতটা যৌক্তিক হবে, তা বড় প্রশ্ন।

গলদ রেখে পরিকল্পনা তৈরি

সরকার রেলের উন্নয়নে ২০১৩ সালে মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) তৈরি করে। এর বাস্তবায়নকাল ছিল ২০১০ থেকে ২০৩০ সাল। এর আওতায় চার পর্বে ২৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু সময় মেনে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় মহাপরিকল্পনা। ২০১৬ সালে মহাপরিকল্পনা সংশোধন করে ছয় পর্বে ভাগ করা হয়। প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩০। ব্যয় ধরা হয় সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা অনুসারে, প্রথম পর্বে ২০১৬-২০২০ সালে ৮৩টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা। রেলের চলমান ৪১ প্রকল্পকে প্রথম পর্বের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২০ সাল পেরিয়ে গেলেও প্রথম পর্বের অধিকাংশ বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।

রেল কেন পরিকল্পনামতো এগোতে পারছে না—জানতে চাইলে একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেলে দক্ষ জনবলের অভাব। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি। বাকি যে সক্ষমতাটুকু আছে, তা-ও নষ্ট করেছে বদলি-পদায়নে স্বজনপ্রীতি। ফলে সঠিকভাবে প্রকল্প নেওয়া, বাস্তবায়ন করা এবং ঠিকাদারের ওপর কার্যকর নজরদারি—এর কোনোটাই হয় না। এখন মনে হচ্ছে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতাই নেই রেলের।

পরিকল্পনার ঘাটতি বোঝাতে গিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, টঙ্গী-ভৈরব ও লাকসাম-চিনকি আস্তানা—এই দুই অংশে নতুন মিটারগেজ লাইন নির্মাণ শেষ হয়েছে ২০১৮ সালে। তখন মিটারগেজ না করে মিশ্র গেজ লাইন নির্মাণ করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ প্রায় পুরোটাই এক ব্যবস্থায় চলে আসত। এখন আখাউড়া-লাকসাম মিশ্র গেজ করতে হলে বা রেলকে ট্রান্স এশিয়ান করিডরে যুক্ত করতে গেলে ৪ হাজার কোটি টাকায় নির্মিত মিটারগেজ রেলপথটি ভেঙে ফেলতে হবে। ইতিমধ্যে এই তৎপরতা শুরুও হয়েছে।

অগ্রাধিকার প্রকল্পেও একই দশা

বিভিন্ন খাতের ১১টি প্রকল্পকে সরকার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। এর মধ্যে রেলের দুটি প্রকল্প আছে। এক. পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে রেলসংযোগ। দুই. চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ।

পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের মধ্যে রেলসংযোগ স্থাপন করতে ঢাকা-যশোর নতুন রেললাইন নির্মাণ হচ্ছে। চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) করা চুক্তির আওতায় এই কাজ হচ্ছে। চায়না রেলওয়ে গ্রুপ ২০১৬ সালের আগস্টে এই কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। চীনের ঠিকাদার প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেন ২০১৮ সালে। এক বছর পর কাজের পূর্ণাঙ্গ নকশা জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণ, সেবা সংস্থার লাইন অপসারণসহ নানা কারণে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতুতে সাধারণ যানবাহন ও ট্রেন একসঙ্গে চলাচল করবে। মূল সেতুতে রেলপথ নিচে আর সড়ক ওপরে। কিন্তু দুই পারে এসে সড়কপথ নিচে এবং রেলপথ ওপরে চলে গেছে। এ পর্যায়ে সড়ক ও রেলপথ যেখানে একে অপরকে অতিক্রম করছে, সেখানে নকশায় ফারাক কম রাখায় উঁচু মালবাহী যান আটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে এ কথা জানায় সেতু কর্তৃপক্ষ। পরে বিশেষজ্ঞরাও এর সঙ্গে একমত হন। শেষ পর্যন্ত শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে উড়ালপথের দুটি পিলারে দুটি বাড়তি খুঁটি যুক্ত করা হয়। আর মাওয়ায় স্প্যানের দৈর্ঘ্য ও পাইলের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে ইতিমধ্যে নির্মিত দুটি পিলার ভেঙে নতুন করে তৈরি করতে হচ্ছে। এতে ব্যয় ও নির্মাণকাজের সময় বাড়বে।

এ ছাড়া কাজ শুরুর পর সাত স্থানে রেললাইনের উচ্চতা বাড়ানো, প্রকল্পের অধীনে যেসব কোচ কেনা হবে, সেগুলোতে বায়ো টয়লেট স্থাপন, ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ব্যবস্থা রাখা, রেলের অফিস ভবনের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ নানা বিষয় যোগ করতে হয়। এর জন্যও ব্যয় বাড়বে।

এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। গত জুন পর্যন্ত অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন। এর মধ্যে বাড়তি সময়, নকশায় পরিবর্তনসহ নানা অজুহাতে ঠিকাদার বাড়তি টাকা দাবি করছেন।

এই প্রকল্পের আওতায় মূল ও শাখা লাইনসহ ২১৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে প্রায় ২২ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে।

শুরু থেকেই এই প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়ের অভিযোগ ছিল। প্রকল্পে প্রতি ঘনমিটার মাটি ভরাটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১৩ টাকা। রেলে একই সময় বাস্তবায়নাধীন অন্য প্রকল্পে এই খরচ ২৫০-৪০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া প্রতিবছর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ধরা হয়েছে ৩০ শতাংশ, যা ৫-১০ শতাংশের মধ্যে থাকার কথা।বিজ্ঞাপন

দোহাজারি-কক্সবাজার এবং কক্সবাজার-ঘুমধুম প্রকল্প

চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে মিয়ানমারের ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইন প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০১০ সালে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৩ সালে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরে সংশোধন করে মিশ্র গেজ করা হয়। এসব করতে করতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় সাত বছর পর। ব্যয় দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।

ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হাতির চলাচল বাধাহীন করতে রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নিচ দিয়ে হাতি চলাচলের খালি জায়গা রাখা। হাতির প্রবেশ সনাক্ত করতে রেলপথে বিশেষ ধরনের সেন্সর বসানো। এ সবের জন্য বাড়তি জমি অধিগ্রহণ।

১২৮ কিলোমিটার রেলপথ, নির্মাণকাজ তিন অংশে ভাগ করা হয়েছে। দোহাজারী-চকরিয়া অংশের কাজ পেয়েছে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন। চকরিয়া-রামু-কক্সবাজার অংশের কাজ পেয়েছে চীনের সিসিইসিসি ও বাংলাদেশের ম্যাক্স গ্রুপ। দুই অংশের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। বাকি অংশের ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি।

এই প্রকল্পের সময়সীমা ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গত জুন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সে ক্ষেত্রে ব্যয়ও বাড়তে পারে।

আখাউড়া-লাকসাম মিটারগেজ প্রকল্প

আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত বিদ্যমান রেললাইনের পাশে আরেকটি মিটারগেজ রেললাইন নির্মাণে প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১৪ সালের জুলাইয়ে। ব্যয় ঠিক করা হয় ৫ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। ব্যয় ও কাজের পরিকল্পনা ঠিক করে বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেকে গেলে জানিয়ে দেওয়া হয়, এখন থেকে সব রেললাইন হবে মিশ্র গেজের (মিটারগেজ ও ব্রডগেজ—দুই ধরনের ট্রেন চলতে পারে এমন)।

একনেকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। অনুমোদন মেলে ডিসেম্বরে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা কথা। আর গত জুন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল ৭৬ শতাংশ।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জুনেও কাজ শেষ হবে কি না, সন্দেহ। ফলে ব্যয় আরও বাড়বে। দীর্ঘ সময় কাজ চলার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে পূর্ণ গতিতে ট্রেন না চলায় ভুগতে হচ্ছে যাত্রীদের।

প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র বলছে, অনুমোদনের দেড় বছর পর ২০১৬ সালের জুনে ঠিকাদার নিয়োগ দেয় রেলওয়ে। কাজটি যৌথভাবে পায় চীনের সিআরইসি এবং বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স গ্রুপ। এ পর্যন্ত ছয়জন প্রকল্প পরিচালক বদল হয়েছে। সপ্তম পরিচালক কাজ করছেন।

চুক্তিতে প্রায় ৬ লাখ ঘনমিটার মাটি ভরাটের কথা আছে। ঠিকাদার দাবি করছেন, প্রায় ১০ লাখ ঘনমিটার মাটি ভরাট করতে হয়েছে। বাড়তি বিল নিয়ে দেনদরবার চলছে। সালিসও হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটির মতো তিন শতাধিক বাধা সময়মতো অপসারণ করেনি রেল–এর জন্য ঠিকাদার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন ৪০০ কোটি টাকা।বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু

জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি রেলসেতু নির্মাণের জন্য ২০১৬ সালে প্রকল্প নেওয়া হয়। ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। নদী শাসন করা আছে। জমি অধিগ্রহণও কম হবে। কিন্তু কাজ শুরুর আগেই ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা।

রেলওয়ে সূত্র বলছে, ঋণের শর্তের কারণে পাঁচটি জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। প্রকল্পটিতে যথাযথ প্রতিযোগিতা হয়নি। ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। গত জুন পর্যন্ত অগ্রগতি ৩৩ শতাংশ। মূল সেতুর কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

চীনের জিটুজি প্রকল্প অনিশ্চিত

২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিং পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় ২৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী মিশ্র গেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প দুটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দুই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ৩০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।

বাড়তি ব্যয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে করা তদন্তের ভিত্তিতে ৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় কমানোর অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর চীন জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানায়। আখাউড়া-সিলেট প্রকল্পে অর্থায়নেও চীন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ব্যয় জটিলতার কারণে চীনের জিটুজি পদ্ধতিতে নেওয়া জয়দেবপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত মিশ্র গেজ লাইন নির্মাণ প্রকল্পও অনিশ্চিত।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া দরপত্রের নানা পর্যায়ে সময় বেশি লাগছে, এটা ঠিক। সময় বেশি লাগলে ব্যয় বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এই চক্র ভাঙার চেষ্টা চলছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রেলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি-উন্নয়ন কৌশল হিসেবে যথার্থ। কিন্তু সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে যাত্রীরা পরিপূর্ণ সুফল পাচ্ছে না। এ অবস্থা সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। দিন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনগণ, করদাতা। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, দুর্নীতি ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশই প্রধান কারণ। ভালো করলে পুরস্কার, খারাপ করলে জবাবদিহি—এটা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

সূত্র:প্রথম আলো, ০৮ আগস্ট ২০২১,


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।