অ্যাটেনডেন্ট সংকটে রেল দুর্ভোগ যাত্রীদের

অ্যাটেনডেন্ট সংকটে রেল দুর্ভোগ যাত্রীদের

রফিকুল ইসলাম রবি:
আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা ম্যানুয়েলে প্রতিটি কোচের জন্য একজন করে অ্যাটেনডেন্ট (পরিচর্যক) থাকার কথা থাকলেও তা নেই। একজন অ্যাটেনডেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে চার থেকে পাঁচটি কোচের। দীর্ঘ পথ ভ্রমণে একজনের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে যাত্রীরাও পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে। বিশেষ করে যাত্রীরা ট্রেনে উঠানামার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। একইসঙ্গে কোচ ও আসন খুঁজে পেতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক যাত্রী।

অন্যদিকে চলন্ত ট্রেনে টিকেট চেকিংয়ে অবৈধ যাত্রীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীদের রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে না। পাশাপাশি বিনা টিকিটে অনেক যাত্রী উঠানামা করছেন এবং আসনবিহীন টিকিটধারী যাত্রীরা অবাধে উচ্চশ্রেণির কোচে আরোহণ করায় ওইসব কোচের যাত্রীরা ক্ষুব্ধ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যাত্রীরা নানা ভোগান্তিতে পড়লেও তা সমাধানের লোক খুঁজে পাচ্ছেন না। এবার ঈদযাত্রায় এই ভোগান্তি আরো চরম মাত্রায় উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

রাজশাহী রুটে নতুন চালু হওয়া বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, ট্রেনে উঠে সিট পাওয়াটাই বড় কথা। অথচ ঈদের সময় বিনা টিকিটধারীরা সিটে বসে থাকে। লোকজনের ভিড়ে নিজের সিটে বসে যাওয়া যায় না। আরো অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। অথচ এসব সমস্যা সমাধানের জন্য লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। টিটি, খাবার সরবরাহকারী ও পুলিশ ছাড়া ট্রেনের আর কেউ যাত্রীসেবায় নিয়োজিত আছে বলে তো জানি না। ট্রেনে অ্যাটেনডেন্ট বলে কাউকে তো আমাদের চোখে পড়ে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের একেকটি আন্তঃনগর ট্রেনের কোচ সংখ্যা ১৫ থেকে ১৬টি। ঈদ যাত্রায় আরো অতিরিক্ত কোচ জোড়া দেওয়া হয়। কিন্তু একেকটি ট্রেনের জন্য অ্যাটেনডেন্ট গড়ে চারজনের বেশি নয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে মোট ৪৯টি আন্তঃনগর ট্রেন পরিচালনা করে।

জানা যায়, পূর্বাঞ্চলে পুরনো জনবল কাঠামো অনুযায়ী, ২১৫ জন অ্যাটেনডেন্টের পদ মঞ্জুরি ছিল। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫৬ জন, এরমধ্যে অনেকেই অবসরে গেছেন। মামলা ও অসুস্থতার কারণে আরো ৩৩ জন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। নতুন জনবল কাঠামো অনুযায়ী পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১২ জন অ্যাটেনডেন্ট প্রয়োজন হলেও কর্মরত মাত্র ৯০ জন। একই চিত্র ঢাকা বিভাগে, এখানে ৯১৫ জনের বিপরীতে কাজ করছেন ১৫০ জন। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগে মঞ্জুরি পদ রয়েছে ১৩৫, কর্মরত রয়েছেন ৮৯ জন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ন্যূনতম মঞ্জুরি প্রয়োজন ২৭০ জন। একইভাবে লালমনিরহাট বিভাগে মঞ্জুরি পদ রয়েছে ১০০, কর্মরত রয়েছে ৬৬, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ন্যূনতম মঞ্জুরি প্রয়োজন ২০০ জন। বিশেষ করে এই দুই বিভাগে মঞ্জুরি পদ রয়েছে ২৩৫, কর্মরত রয়েছেন ১৫৫, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ন্যূনতম মঞ্জুরি প্রয়োজন ৪৭০ জন। সদ্য চালু হওয়া বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রতিবগিতে ১ জন করে অ্যাটেনডেন্ট থাকার নিয়ম থাকলেও ১২ বগিতে মাত্র ৪ জন ডিউটি করছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) মো. শামসুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, অ্যাটেনডেন্ট আমাদের কম আছে। তাই ট্রেনের সববগিতে দিতে পারছি না। তবে আমরা নতুন রিক্রুট করার চেষ্টা করছি।

সুত্র:ইত্তেফাক, ৩০ মে, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।