রেলপথে চীন-মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড যাওয়া যাবে

রেলপথে চীন-মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড যাওয়া যাবে

নিউজ ডেস্ক:
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ‘হাইস্পিড ট্রেন’ চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, এ ট্রেন চালু হলে ৬৯ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছানো যাবে। গতকাল (রোববার) রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সদর দফতর সিআরবিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার, চীন, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের রেল যোগাযোগ স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলেও জানান রেলমন্ত্রী।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্টাডি রিপোর্ট আমার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে উনারা দেখিয়েছেন যে, এই ট্রেন চালু হলে এক ঘণ্টা নয় মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা যাবে। আর বিরতি না দিলে ৫৭ মিনিটে পৌঁছানো যাবে। এটার জন্য আলাদা লাইন তৈরি করতে হবে। ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে এই ট্রেন সরাসরি চট্টগ্রামে আসবে। তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে ঘুমধুম হয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে যদি রেললাইন হয়, তাহলে ভবিষ্যতে চীন, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত হবে। সেই চিন্তাও আমাদের আছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের পর দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলা এরসঙ্গে যুক্ত হবে। আখাউড়া দিয়ে আগরতলা হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে রেলের সংযোগ হচ্ছে। পাকিস্তান-ভারতের যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগের যে জায়গাগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। কর্ণফুলী নদীর ওপর বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু নির্মাণের অগ্রগতি বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কালুরঘাট সেতুর প্রকল্প একনেকে উঠেছিল। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে এটা আটকে গেছে। এই সমস্যা আমরা দূর করব। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন। যেদিন রেল মন্ত্রণালয়ে আসবেন, সেদিন এটা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করব। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা নিয়ে কাজ করব।
রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলের ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। আমাদের পরিকল্পনা একটাই-তা হলো উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা আছে, তিনি এ রেলকে প্রত্যেকটি জেলায় নিয়ে যাবেন।
টেন্ডারবাজি বন্ধে পদক্ষেপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগে থেকেই কাউকে খারাপ বলতে চাই না। কাউকে আগে থেকেই ভালোও বলতে চাই না। কাউকে প্রতিদ্ব›দ্বী মনে করি না। কিন্তু কেউ যদি ভালো কাজে বাধা হয়ে আসে, আমরা সেটা অপসারণ করব। যে আমার ভালো কাজে সহযোগিতা করবে, সে আমার বন্ধু হবে। যে আমার কাজে বাধা হবে, সে যতই শক্তিশালী হোক, দেখা যাবে। মতবিনিময় সভায় রেলের মহাপরিচালক কাজী মো. রফিকুল আলম ও পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ ফারুক আহমেদও বক্তব্য রাখেন।

সুত্র:ইনকিলাব, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।