যাত্রী পরিবহনে ধস নামলেও রেলের পণ্য আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি

যাত্রী পরিবহনে ধস নামলেও রেলের পণ্য আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি

ইসমাইলআলীকরোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে ২০২০-২১ অর্থবছর প্রায় তিন মাস ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। আর বছরের বাকি সময়ের বেশিরভাগই আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলেছে ট্রেন। এতে রেলের যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের ধস নামে। তবে করোনার মাঝে ট্রেনে পণ্য পরিবহন অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ভারত থেকে ট্রেনে পরিবহন অনেক বেড়েছে। এতে পণ্য পরিবহন থেকে সংস্থাটির আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এর বাইরে সম্পত্তি ভাড়া ও স্ক্র্যাপ বিক্রি থেকেও রেলের আয় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত প্রভাবে গত অর্থবছর রেলের আয় কমেছে মাত্র দুই দশমিক ৫১ শতাংশ। যদিও করোনার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছর সংস্থাটির আয় কমেছিল প্রায় ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

তথ্যমতে, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন শুরু হয়। প্রথমে ১০ দিন শিথিল থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিধিনিষেধ কঠোর করা হয়। তবে ৫ এপ্রিল থেকেই বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল, যার প্রভাব পড়েছে রেলের আয়ে। এছাড়া গত অর্থবছর বাকি সময়ের বেশিরভাগই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলেছে ট্রেন। এতে ২০২০-২১ অর্থবছর রেলের যাত্রী পরিবহন খাতে আয় হয় ৫৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছর এ আয় ছিল ৭৭০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছর যাত্রী পরিবহন খাতে রেলের আয় কমেছে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা বা ৩১ শতাংশ।

এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহনে রেলের আয় হয়েছিল এক হাজার ৩৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ করোনার কারণে দুই বছরে যাত্রী পরিবহন খাতে রেলের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

যদিও করোনার প্রভাব পণ্য পরিবহনে পড়েনি। উল্টো এ খাতে আয় অনেক বেড়ে গেছে। গত অর্থবছর পণ্য পরিবহন খাতে (পণ্য, পার্সেল ও ট্রাফিক কমার্শিয়াল) রেলের আয় হয় ৪০৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ আয় ছিল ২৮৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছর পণ্য পরিবহন খাতে রেলের আয় বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এমনকি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায়ও গত অর্থবছর পণ্য পরিবহনে রেলের আয় বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ।

জানতে চাইলে রেলওয়ের মার্কেটিং বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেলপথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি অনেক বেড়েছে। এতে গত অর্থবছর শুধু এ খাতেই রেলের আয় হয়েছে প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা। খাদ্যশস্য, শিল্প কাঁচামাল ছাড়াও ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি হয়েছে রেলপথে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে পণ্য পরিবহনে রেলের আয় অনেক বেড়ে গেছে।

আয় বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, গত অর্থবছর রেলের জমি ভাড়া থেকে আয় হয়েছে ৬৪ কোটি ৩৯ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছর এ আয় ছিল ৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ জমি ভাড়া তথা স্টেট খাতে আয় বেড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ। আর গত অর্থবছর রেলের স্ক্র্যাপ বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৮৮ টাকা, আগের অর্থবছর যা ছিল ২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ স্ক্র্যাপ বিক্রি থেকে রেলের আয় বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে গত অর্থবছর রেলের মোট আয় হয়েছে এক হাজার ১৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছর এ আয় ছিল এক হাজার ২০০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছর রেলের আয় কমেছে মাত্র ৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা। এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর রেলওয়ের মোট আয় ছিল এক হাজার ৫৯০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছর রেলের আয় কমেছিল ৩৮৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আয় বৃদ্ধিতে রেলের পণ্য পরিবহনে জোর দেয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করেন ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা ও রেলবিষয়ক গবেষক মো. আতিকুর রহমান। শেয়ার বিজকে তিনি বলেন, শুধু যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে বিশ্বের কোনো দেশেই রেলের আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ রেলওয়ে ছিল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তারা যাত্রী পরিবহন বৃদ্ধিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। তবে গত অর্থবছর পণ্য পরিবহন ও জমি থেকে আয় বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছে। এটা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে রেলের আয় দ্রুত বৃদ্ধি করা যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ অর্থবছর রেলের মোট আয় ছিল এক হাজার ৬২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছর রেলওয়ে আয় করে এক হাজার ৩০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছর আয় করেছিল এক হাজার ৩১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে পাঁচ বছরের মধ্যে গত অর্থবছর রেলের আয় সর্বনিন্ম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সূত্র:শেয়ার বিজ, অগাস্ট ২৬, ২০২১ 



About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।