শিরোনাম

মূল ঠিকাদার নয়, নির্মাণকাজ করছে সাব-কন্ট্রাক্টর

মূল ঠিকাদার নয়, নির্মাণকাজ করছে সাব-কন্ট্রাক্টর

ইসমাইল আলী:
খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। গত জুনে রেলপথটির নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৮ শতাংশ। আর প্রকল্পটির আওতায় রূপসা রেল সেতু নির্মাণের অগ্রগতি ১২ শতাংশেরও কম। বাস্তবায়নে গতি না থাকলেও খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে কাজ করছে না মূল ঠিকাদার। সাব-কন্ট্রাক্টর দিয়ে চালানো হচ্ছে নির্মাণকাজ।
এদিকে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতিও নেই প্রকল্প এলাকায়। ফলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজে গতি আসছে না। আবার চুক্তির মেয়াদ শেষে চলে গেছে প্রকল্পটির নির্মাণ তদারকির দায়িত্বে থাকা মূল পরামর্শক। এক্ষেত্রে সাব-কনসালটেন্ট দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আর বাস্তবায়ন বিলম্বে নির্মাণব্যয়ও বেড়ে যাবে প্রকল্পটির।

সম্প্রতি খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ কমিটির সভায় বিষয়গুলো উঠে আসে। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সক্ষমতা না থাকলে সাব-কন্ট্রাক্ট বাতিল করার সুপারিশ করেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে জানানো হয়, খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি দুটি প্যাকেজে বিভক্ত। এর মধ্যে প্যাকেজ-১-এর আওতায় খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ কাজ করছে ভারতের ইরকন ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর চুক্তি সই করা হয়। আর ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। এক বছর ১০ মাস অতিবাহিত হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা মোটেও সন্তোষজনক নয়।

ইরকন ইন্টারন্যাশনাল প্রকল্পটি মাটির কাজ এবং ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণকে আটটি প্যাকেজে ভাগ করে সাব-কন্ট্রাক্টর নিয়োগ করেছে। কিন্তু বেশিরভাগ সাব-কন্ট্রাক্টর কাজ বন্ধ রেখেছে। শুধু ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ চলমান আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীর অভাবে কাজের অগ্রগতি মন্থর। ড্রেইনেজ ও ব্লাংকেট ম্যাটেরিয়ালের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। চলতি মাস থেকে ব্যালাস্ট (পাথর) সরবরাহ শুরুর কথা থাকলেও তা হয়নি। ভারতের মালদহ কারখানায় কংক্রিট সিøপার উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য গত এপ্রিলে অনুমোদন নিলেও তা শুরু হয়নি। আবার নির্মাণসামগ্রী খালাসের জন্য ফুলতলা স্টেশনে একটি অস্থায়ী সাইডিং লাইন নির্মাণের অনুমতি নিলেও তা করেনি ইরকন।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় রূপসা রেল ব্রিজ ও ভায়াডাক্ট (সংযুক্ত উড়ালপথ) নির্মাণ করছে ভারতের আরেক কোম্পানি লারসন অ্যান্ড তুবরো লিমিটেড। এ অংশের চুক্তি সই হয় ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট, আর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ১১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা সন্তোষজনক নয়।

ভায়াডাক্ট অংশের ৮৩৬টি পাইলের মধ্যে ৩৪০টি ও মূল সেতুর ৭২টি পাইলের মধ্যে পাঁচটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্টের জন্য ২০টি গার্ডার তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে আর একটি স্থাপন করা হয়েছে। যদিও রেল সেতুটির নকশা এখনও অনুমোদিত হয়নি। এর ৬২ থেকে ৬৭নং পিলারের জন্য বেজ গ্রাউটিংসহ নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকের তথ্যমতে, চলতি বছর ১৪ জুন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির পরামর্শক ভারতের সিইজি-এনকেআই নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন কাজ চালানোর স্বার্থে সাব-কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োজিত স্টুপ কনসালটেন্টকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে পরামর্শক সেবার সময় ও পরিধি বৃদ্ধি এবং মূল রেলপথ ও রূপসা সেতু নির্মাণে কাজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় সাত কোটি ডলার বা ৫৮০ কোটি টাকা বেড়ে যাবে। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বৈঠকে কিছু সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সাব-কন্ট্রাক্টরদের কাজের সক্ষমতা না থাকলে তা বাতিল করা। অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে চলতি মাসের মধ্যে ব্যালাস্ট সরবরাহ শুরু, বর্ষা মৌসুমে সিলেট থেকে বালি ও নুড়ি পাথর সংগ্রহ, মালদহ কারখানায় সিøপার উৎপাদন শুরু, দ্রুত টেস্ট পাইল সম্পন্ন করা প্রভৃতি উল্লেখ্যযোগ্য।

জানতে চাইলে বৈঠকের সভাপতি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির গতি অনেক ধীর। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আশা করা যায় দ্রুত এর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ভারতের রাষ্ট্রীয় ঋণের (এলওসি) আওতায় খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি নেওয়া হয় ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৭২১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। সে সময় প্রকল্পটির মেয়াদও ধরা হয়েছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বর। পরে তা কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন শেষে ২০১৫ সালের মে মাসে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। তখন প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। নতুন করে ব্যয় বাড়লে তা সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। তবে বর্তমান গতিতে চলতে থাকলে কবে নাগাদ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সুত্র:শেয়ার বিজ,২৮আগস্ট২০১৮


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।