বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন নামেই বিরতিহীন

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন নামেই বিরতিহীন

 কামাল হোসেন : বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেন নামেই বিরতিহীন। উদ্বোধনের এক মাস যেতে না যেতেই বহুল প্রতীক্ষিত বিরতিহীন বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি এখন নামসর্বস্ব এক্সপ্রেস। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেতে কমপক্ষে দশ জায়গায় থামে। আবার ঢাকা থেকে বেনাপোল আসতে দশের অধিক জায়গায় থামানো হয় ট্রেনটি। বেনাপোলবাসী যে আশা-উদ্দীপনা নিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেসকে স্বাগত জানিয়েছিলেন আস্তে আস্তে সেটা ফিকে হতে বসেছে। ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে এ এলাকার মানুষের মাঝে রয়েছে চাপা ক্ষোভ। বেনাপোল থেকে ট্রেনটি বেলা ১টায় ছাড়ার কথা থাকলেও বেলা আড়াইটার আগে ছাড়ে না। ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে পৌঁছায় রাত ১২টার দিকে। আর সে কারণে প্রায়ই বেনাপোলের যাত্রীদের পড়তে হয় নানা রকম দুর্ভোগে।

ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে আসা পর্যন্ত শুধু বঙ্গবন্ধু সেতুর আগে চেকিংয়ের প্রয়োজনে থামানো ছাড়া অন্য কোনো স্টেশনে থামার কথা নয়, অথচ প্রতিদিন ঈশ্বরদী পর্যন্ত আসতে অন্তত পাঁচ স্থানে বিরতি দেয়া হচ্ছে। ঈশ্বরদীর পর চুয়াডাঙ্গা, আলমনগর, ভেড়ামারাসহ বিভিন্ন স্টেশনে থামানো হয় বিভিন্ন কারণে। প্রতিদিন একইভাবে দেরিতে চলাচল ও বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার সিগন্যালে দাঁড় করিয়ে রাখাও যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চেষ্টা করেও এ অচলায়তন ভাঙতে পারছেন না।

নতুন রেলপথ নির্মাণ না করে নতুন নতুন ট্রেন চালু করাতেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে যাত্রী, অ্যাটেনডেন্ট, টিটিই, গার্ডসহ দায়িত্বশীলরা জানান। ধীরগতি আর বিকট শব্দে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। একাধিক যাত্রী জানান, বিরতিহীন ট্রেনকে চলার জন্য একই লাইনের অন্যান্য ট্রেনকে থামিয়ে সাইড দেয়ার কথা, সেখানে বিরতিহীন ট্রেনকেই বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার লাইনে থামিয়ে রেখে অন্যান্য ট্রেনকে চলার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এতে বেনাপোল এক্সপ্রেস নামের বিরতিহীন ট্রেন আর বিরতিহীন থাকছে না। শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার পর ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে এসে পৌঁছানোর সময় নির্ধারিত থাকলেও শনিবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে এসে পৌঁছায় এ ট্রেন।

একইভাবে গত রোববার থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলাচল করছে ট্রেনটি। বেনাপোল এক্সপ্রেসের ট্রেন যাত্রীরা জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি যে ধীরগতিতে চলছিল তাতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে পড়েন। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ট্রেন চলেছে অনেকটা শম্বুকগতিতে। টাঙ্গাইল স্টেশনে স্টপেজ না থাকলেও সেখানে এ ট্রেনকে প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর ঈশ্বরদী পর্যন্ত আসার পথে একে একে উল্লাপাড়া স্টেশনের কিছুটা দূরে শরৎনগর স্টেশনের আগেসহ বেশ কয়েক স্থানে আউটার লাইনে ৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীন বেনাপোল এক্সপ্রেসকে দাঁড় করিয়ে রেখে বিপরীতমুখী ৫-৬টি আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনকে সাইড দেয়া হয়। বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, নতুন নতুন ট্রেন চালু করা হলেও নতুন রেলপথ বাড়ানো হচ্ছে না।

প্রতিদিন ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে ৪৮টি ট্রেন চলাচল করে। তারপর খুলনা-ঢাকার ট্রেন তো রয়েছে। এতগুলো ট্রেন এক লাইনে চলাচলের কারণে বিরতিহীন ট্রেনকে বিরতিহীনভাবে চলার সুযোগ দেয়ার ব্যবস্থা অপ্রতুল। আর এ কারণে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিরোতিহীনভাবে চলতে না পেরে বিভিন্ন স্টেশনে থামতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ট্রেনটি কিছুটা দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বিরতিহীন ট্রেনকেই অন্যান্য ট্রেনকে সাইড দেয়ার কথা।

সুত্র:যুগান্তর, ০৩ নভেম্বর ২০১৯


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।