শিরোনাম

পদ্মা সেতুতে রেলপথ বসানোর অনুমতি পেল রেলওয়ে

পদ্মা সেতুতে রেলপথ বসানোর অনুমতি পেল রেলওয়ে

নিউজ ডেস্ক:

পদ্মা সেতুতে যেদিন থেকে যানবাহন চলবে, ঠিক সেদিন থেকেই ট্রেন চালানোর লক্ষ্য ছিল সরকারের। তবে ঋণ চুক্তি করতে বিলম্ব এবং করোনা মহামারীর কারণে পিছিয়ে যায় রেল সংযোগ প্রকল্প। গত ২৬ জুন পদ্মা সেতুতে শুরু হয় যান চলাচল। রেলপথ এখনো প্রস্তুত হয়নি।সেতুর স্প্যানের ভেতরে রেলপথ বসানোর জন্য গতকাল বাংলাদেশ রেলওয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতুতে রেলপথ বসানোর কাজটি সম্পন্ন করতে ছয় মাসের মতো সময় লাগার কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকায় নির্মিত দ্বিতল পদ্মা সেতুর ওপরের চার লেন সড়ক দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। ট্রেন চলাচল করবে নিচতলায় স্প্যানের ভেতর দিয়ে। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ দেয়ার জন্য ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা।

রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা থেকে মাওয়া ও জাজিরা থেকে যশোর পর্যন্ত অংশে কাজ করলেও এতদিন পদ্মা সেতুতে কাজ করার অনুমতি ছিল না বাংলাদেশ রেলওয়ের। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুতে কাজ করার অনুমতি পেয়েছে রেল সংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পদ্মা বহুমখী সেতু ও পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রতিনিধিরা পুরো প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন পরিদর্শন শেষে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের সাইট অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর ওপর কাজ শুরুর জন্য রেলওয়েকে অনুমতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আফজাল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, মূল কাজ শুরুর আগে প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ করতে হবে। জরিপের কাজ করতে হবে। বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে। আমরা আশা করছি, প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শেষ করে চলতি মাসের শেষ দিকে ভৌত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে সেতুর ওপর রেলপথ বসানোর কাজটি শেষ করার লক্ষ্য আমাদের রয়েছে।

সেতুর স্প্যানের ভেতরে যখন রেলপথ বসানোর কাজ করা হবে, তখন ওপরের সড়কপথে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, মূল কাজ শুরুর আগে যে প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো করা হবে, তখনই আসলে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনীতার বিষয়টি বোঝা যাবে। এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। সার্বিকভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই তা করা হবে।

এর আগে গত শুক্রবার পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি জানান, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের একটি।এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত নতুন রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে।প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা আছে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। সময়মতো বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের কাজকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত, দ্বিতীয় ভাগে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত এবং শেষ ভাগে ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা-মাওয়া অংশে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ, মাওয়া-ভাঙ্গা অংশে ৮০ শতাংশ ও ভাঙ্গা যশোর অংশের নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৫১ শতাংশ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬০ শতাংশ বলে জানান মন্ত্রী।

সূত্র:বণিক বার্তা


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।