পণ্য পরিবহনে পার্সেল ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রেলওয়ের

পণ্য পরিবহনে পার্সেল ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রেলওয়ের

জানা গেছে, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে আগে প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি পণ্যবাহী ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করত। কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে ১০টি পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। মূলত ইঞ্জিন সংকট না থাকায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করছে রেলওয়ে। তাছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেনের কারণে পণ্যবাহী ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগতো। বর্তমানে প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে এক-তৃতীয়াংশ কম সময় লাগছে। এতে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।

সুজিত সাহা : কভিড-১৯ এর কারণে গত সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। তবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় গতি পেয়েছে। আর আগামীকাল থেকে আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধের কারণে আগের মতো পার্সেল ট্রেন সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

অন্যদিকে ১০ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত ছয়টি ট্রেন পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়। এর মধ্যে কমলাপুর আইসিডির উদ্দেশে কনটেইনারবাহী ট্রেন ছেড়ে যায় তিনটি। অন্যদিকে সিলেটে ও রংপুরে জ্বালানি তেলবাহী একটি করে এবং তেজগাঁওয়ে চাল নিয়ে একটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যায়।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, কভিডের কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রেনের ওপরই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পূর্বে রোজার আগে পণ্যবাহী ট্রেনের জট কিংবা বন্দরে কনটেইনার আটকে থাকার সমস্যায় পড়তেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারের জট নেই। কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিগত বছরের মতো দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ফের পার্সেল ট্রেন সার্ভিস চালুরও পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কভিড সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালে ২৫ মার্চের পর প্রায় ৬৭ দিন বন্ধ ছিল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। ওই সময় দেশের বিভিন্ন রুটে কৃষিপণ্য পরিবহনে পার্সেল ট্রেন সার্ভিস চালু করে রেলওয়ে। পাশাপাশি করোনাকালীন ম্যাঙ্গো স্পেশাল, কোরবানির ঈদের আগে পশু পরিবহনের জন্যও বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছিল। খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও দেশের সংকটকালে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সারা দেশে পৌঁছে যেতে সহায়তা করে। রেলওয়ে আপত্কালীন এসব সার্ভিসের মাধ্যমে খুব একটা লাভ না করলেও সংকটময় সময়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পেরেছে। এ কারণে দেশের বিরূপ এ পরিস্থিতিতে নতুন করে পার্সেল ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, শুরুতে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন দুটি করে পার্সেল ট্রেন সার্ভিস শুরু করবে। এজন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অনুমতি পাওয়া গেলে রুট নির্ধারণ করে সার্ভিস চালুর ঘোষণা আসবে। তবে চাহিদা অনুযায়ী রুট ও স্টেশন নির্ধারণ হলেও বিগত বছরের ন্যায় প্রয়োজন অনুসারে সংশোধন করে সার্ভিস চালানোর চিন্তা রয়েছে রেলওয়ের।

পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও-চট্টগ্রাম) মো. আনসার আলী এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ট্রেনের ওপর নির্ভরশীলতা রেলওয়ে। আগে একটি পণ্যবাহী বা কনটেইনারবাহী ট্রেন ১৬-১৮ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছাত চট্টগ্রাম থেকে। বর্তমানে ১০-১২ ঘণ্টায় একই গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। এজন্য সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ থাকার সুযোগে দেশব্যাপী পণ্য পরিবহনে রেলওয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

সূত্র:বণিক বার্তা, এপ্রিল ১৩, ২০২১

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।