শিরোনাম

জামালপুরের ১০ রেলস্টেশন জনবল সংকটে বন্ধ কার্যক্রম


।। নিউজ ডেস্ক ।।
স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ রয়েছে ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথের ১০টি স্টেশন। স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

এদিকে তালাবদ্ধ স্টেশনের বিপদজনক সিগন্যাল অতিক্রম করে চলাচল করছে আন্তঃনগর, মেইলসহ ২৬টি ট্রেন। ফলে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। অন্যদিকে চুরি হয়ে যাচ্ছে বন্ধ স্টেশনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্টেশনমাস্টারসহ লোকবল নিয়োগের পর বন্ধ স্টেশনগুলো অতি শিগগির সচল করা হবে।

সরেজমিনে জামালপুর পৌর এলাকার কোর্ট স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেন আসছে-থামছে, আবার ছেড়েও যাচ্ছে। আছে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি ভিড়। তবে স্টেশন তালাবদ্ধ থাকায় কোন ট্রেন কখন আসবে, টিকিট কে দেবে জানেন না কেউ।

কোর্ট স্টেশন এলাকার কমিউটার ট্রেনের যাত্রী আনোয়ার হোসেন, আশা আক্তার, ময়না বেগমসহ আরও অনেকে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই আমাদের দুর্ভোগ। স্টেশনে এসে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। কখন ট্রেন আসে কখন যায় তার কোনো ঠিক নেই। স্টেশনে কোনো লোকও নাই যে, ট্রেনের সময় নিয়ে জিজ্ঞেস করবো।’

মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ স্টেশনে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। কথা হয় সেখানকার ট্রেন যাত্রী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্টেশনমাস্টার নাই। এছাড়া কোনো লোকও নাই। কার কাছ থেকে টিকিট কাটবো বুঝতে পারছি না। এভাবেই প্রতিনিয়ত আমার মতো সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

শুধু কোর্ট স্টেশন ও দুরমুঠ স্টেশনই নয়, প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় জেলার মোশারফগঞ্জ, জাফরশাহী, বাউসি, বয়ড়া, শহীদনগর বারইপটল, হেমনগরসহ অন্তত ১০টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় নিয়মিত সিগন্যাল ক্লিয়ারেন্স, টিকিট বিক্রি, মালামাল বুকিংসহ বন্ধ রয়েছে সব কার্যক্রম। স্টেশনের সিগন্যাল পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টাই থাকে বিপদজনক সংকেত। রাতে বিরাজ করে ভূতুড়ে পরিবেশ। সন্ধ্যার পর নিরাপত্তার অভাবে যাত্রীরা থাকেন শঙ্কিত।

এ অবস্থাতে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন বহু দূর-দূরান্তে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ স্টেশনগুলো সচলে আহ্বান তাদের।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মো. দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সরিষাবাড়ী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ছয়টি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে জাফরশাহী, বাউসি, বয়ড়া প্রায় ১৫ থেকে ৩০ বছর যাবত বন্ধ রয়েছে। স্টেশন মাস্টার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এসব স্টেশন সচল হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্ব) জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এখনো স্টেশনগুলো বন্ধই রয়েছে। মাস্টার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে বন্ধ স্টেশনগুলো আবারও সচল হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।