শিরোনাম

চলতি বছরেই চালু হতে পারে মোংলা-খুলনা রেলপথ


।। নিউজ ডেস্ক ।।
মোংলা-খুলনা রেললাইনের কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির কাজ তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১১ বছর ধরে চলছে কাজ।

শেষ সময়ে এসে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে দীর্ঘতম এই রেললাইনের কাজ। বেঁধে দেওয়া সময় ও নির্দিষ্ট টাকায় প্রকল্প শেষ হবে এমন ভরসা রেল মন্ত্রণালয়ের থাকলেও তা শেষ হতে প্রায় ১১ বছর লেগে গেছে। যাতে পর্যাক্রমে ১৭২১ কোটি টাকা প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৩২৯ কোটিতে।

বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারির মধ্যে রেলের কাজ একটু বিড়ম্বনায় পড়লেও আবার গতি ফিরেছে প্রকল্পের কাজে। ইতোমধ্যে রেললাইন টেলি কমিউনিকেশন সিগনালিং ও রুপসা নদীতে সেতু নির্মাণসহ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতির কাজ ৯০ শতাংশই শেষ পর্যায়ে। বাকি কাজ শেষ করতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে বলে এ কাজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে কয়েকগুন। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মোংলা বন্দরে আকস্মিক ঝটিকা সফরে এসে এ কাজ পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার।

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সন্তোষ প্র্রকাশ করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্র্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে যে কোনোদিন খুলে দেওয়া হবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত এ রেললাইন।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি একটি যৌথ বিবৃতি ইস্যু করেন। এছাড়া সার্ক মাল্টি মোডাল ট্রান্সপোর্ট স্টাডি থেকে মোংলা পোর্টের মাধ্যমে নেপাল, ভুটান মালামাল আমদানি বা রপ্তানি বাণিজ্য করতে পারে বলে প্রস্তাব করা হয়। তারই ফলে ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণসহ সম্ভাব্যতা যাচাই নামে একটি প্রকল্প ১৭২১ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এ প্রকল্পে অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে ভারতীয় ঋণ ১২০২ কোটি ৩১ লাখ ১৪ হাজার টাকা ও বাংলাদেশ সরকারের ৫১৯ কোটি টাকা। সময়ের সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উভয় পর্যায়ে অর্থের জোগানও বাড়ানো হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধিতে বন্দরকে সংযুক্ত করে খুলনা-মোংলা রেল লাইন নির্মানের একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তাই গত ২০১০ সালে ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রেল প্রকল্পটির অনুমোদন পায়।

জমি অধিগ্রহণ, রেললাইন ও রেলসেতু নির্মাণসহ সমগ্র প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এরপর পাঁচবার সময় বাড়িয়ে সবশেষ ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এরই সাথে ব্যয় বেড়ে হয়েছে চার হাজার ৩২৯ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।
চলমান এ প্রকল্পের ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘ইরকন ইন্টারন্যাশনাল’ এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার বলরাম দে জানান, খুলনা-মোংলা রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ছোট বড় মিলিয়ে ৩১ টি ব্রিজ ও ১০৮ টি কালভার্ট নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। রুপসা নদীর ওপর রেলসেতুর কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। পাইলিংয়ের কাজও প্রায় সম্পন্ন। এরপর মাত্র দুটি স্প্যান জোড়া লাগবে। এছাড়া এখনও ৯ টি ভেকুলার আন্ডরপাসের কাজ বাকি আছে। এগুলোর ড্রইং হাতে এলে দ্রুত শেষ করা হবে এ রেললাইনের কাজ।

খুলনা-মোংলা রেল লাইন নির্মাণ কাজের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আরিফুজ্জামান জানান, রেলপথের কিছু অংশ, রেল সেতুর পাঁচ শতাংশ ও ফিনিশিং ওয়ার্ক বাকি আছে। তবে নতুন ডিজাইনের নয়টি রোডের আন্ডারপাস নির্মাণ, পাইলের লেন সংখ্যা বৃদ্ধি ও মাটির কাজসহ নতুন কিছু কাজ সংযোজন হয়েছে। সে হিসেবে পূর্বের একশ শতাংশ কাজের সংঙ্গে আরও ১২ শতাংশ কাজ বেড়েছে। বর্তমানে রেল লাইনের মূল ভৌত অবকাঠামো কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে।

সময় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, করোনাকালে ভারত থেকে মালামাল আসতে ও নানা সংকটে শুরুতেই নির্মাণ কাজে বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন রেলের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এখন আর কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মূসা বলেন, মোংলা-খুলনা রেললাইনের চলমান এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের গতি দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। রেল যোগাযোগের মাধ্যমে বন্দরের পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যাপার সহজ হবে। অনেক সময় আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের মধ্যে মজুত রাখতে হয় ব্যবসায়ীদের। রেল চালু হলে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার জন্য স্বল্প খরচে ব্যবসায়ীরা বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে নিয়ে যেতে পারবে। এছাড়াও মোংলা বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও বাংলাবান্ধা হয়ে ভারতের শিলিগুড়ির রেল যোগাযোগ। ফলে কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভূটানের মালামাল পরিবহন সহজ হবে। এতে করে আমদানি রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে পণ্য বোঝাই কন্টেইনার সার্ভিসও দ্বিগুন বাড়বে বলেও জানায় বন্দরের এ চেয়ারম্যান।

সূত্রঃ সময়


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।