কাজ সম্পন্ন করতে লাগতে পারে বাড়তি সময়!

কাজ সম্পন্ন করতে লাগতে পারে বাড়তি সময়!

মো. লুত্ফুর রহমান:

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের লাকসাম-আখাউড়া ৭২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। আগামী বছরের জুনে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে সোয়া তিন ঘণ্টায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে ধারণা পাওয়া গেছে প্রকল্পের কাজ শেষ হতে লাগতে পারে বাড়তি সময়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩২৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ডুয়েলগেজ ছিল ১১৮ কিলোমিটার। ২০০৮ সালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পুরো রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে এ রেললাইনের (ঢাকা-চট্টগ্রাম) ২৫৩ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লাইনে উন্নীত হয়েছে। অবশিষ্ট ছিল লাকসাম থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার। আগামী জুনের মধ্যে এ অংশটিও ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করার লক্ষ্যে নির্মাণ কাজ চলছে।

লাকসাম-আখাউড়া রেলপথটি ডুয়েলগেজে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০১৪ সালে ডিসেম্বরে অনুমোদন পায়। ঠিকাদার নিয়োগে ২০১৫ সালের ৪ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি সই হয়। প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৬ হাজার ৫০৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এডিবি ঋণ দিচ্ছে ৪ হাজার ১১৮ কোটি ১৪ লাখ ও ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) দিচ্ছে ১ হাজার ৩৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বাকি ১ হাজার ২৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, লাকসাম-আখাউড়া ডুয়েলগেজ রেললাইন প্রকল্পের আওতায় ১৪৪ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ মেইন লাইন ও ৪০ দশমিক ৬০ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে। মেইন লাইনে ১৩২ পাউন্ড ও লুপ লাইনে ৯০ পাউন্ড রেলপাত ব্যবহার হবে। এ ছাড়া ১১টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, ১৩টি মেজর ও ৪৬টি মাইনর ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১১টি স্টেশনের ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে। ৬৮ হাজার ১৯০ বর্গমিটারের ইঞ্জিনিয়ার্স অফিস নির্মাণ করা হবে। লাকসাম-আখাউড়া রেললাইনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে যৌথভাবে কাজ করছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার (সিটিএম জয়েন্ট ভেঞ্চার)।

লাকসাম-আখাউড়া ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে লাকসাম-আখাউড়া প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। কাজ চলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে আরো কিছু সময় বাড়ানো হতে পারে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন ভ্রমণের সময়ই কমবে না, একাধিক সরাসরি ট্রেনসহ আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করা যাবে। এ রুটে বেশি এক্সেলের লোকোমোটিভ দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা যাবে। ট্রেন চলাচলের সংখ্যাও বাড়বে এবং লাইন ক্যাপাসিটি ২৩ জোড়া থেকে বেড়ে ৭২ জোড়ায় উন্নীত করা সম্ভব হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মালামাল (কনটেইনার) পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণে একটি লাইন বন্ধ থাকলেও অপরটি চালু থাকবে এবং ট্রেন দুর্ঘটনাও কমে আসবে।

সুত্র:ইত্তেফাক, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।