শিরোনাম

এডিবির কাছে বড় অঙ্কের ঋণ চায় বাংলাদেশ

এডিবির কাছে বড় অঙ্কের ঋণ চায় বাংলাদেশ

ইসমাইল আলী: ডুয়েলগেজ তথা ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে দেশের সব মিটারগেজ রেলপথ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে। এজন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে রেলওয়ে। আর এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বড় অঙ্কের ঋণ চাওয়া হয়েছে। তিন বছরে পর্যায়ক্রমে এ ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও এডিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পে ৪০০ কোটি ডলার চাওয়া হয়। আর ঢাকা-কুমিল্লা কডলাইন নির্মাণে ঋণ চাওয়া হলেও তা নির্ধারিত নয়। প্রস্তাবগুলো ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এখনও এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেয়নি এডিবি। সংস্থাটির বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে চলমান মিশন শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত অবস্থান তুলে ধরবে। রেলওয়ে সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মিশনের অংশ হিসেবেই রেলওয়ের সঙ্গে সম্প্রতি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয় এডিবি। এতে পাইপলাইনে থাকা রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থাও তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে চলতি বছর, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে অর্থায়নের জন্য এডিবির কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঁচটি প্রকল্প তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পই ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরসংশ্লিষ্ট। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি প্রকল্পে চলতি বছর এডিবিকে ঋণ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। এগুলো হলোÑগাজীপুরের কাছে ধীরাশ্রমে নতুন অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণ, লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর ও চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারি পর্যন্ত বিদ্যমান মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর।

এদিকে ২০২৩ সালে টঙ্গী থেকে আখাউড়া পর্যন্ত বিদ্যমান মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরে এডিবির ঋণ চাওয়া হয়। আর ২০২৪ সালে ঢাকা থেকে কুমিল্লা/লাকসাম পর্যন্ত কডলাইন নির্মাণে ডুয়েলগেজ নতুন রেলপথ নির্মাণে এডিবির ঋণ চাওয়া হয়। এছাড়া আখাউড়া থেকে লাকসাম বিদ্যমান রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর ও দোহাজারি-কক্সবাজার ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণেও ঋণ দিচ্ছে এডিবি।

সূত্র জানায়, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোর-সংশ্লিষ্টই চারটি। এর মধ্যে তিনটি হলো বিদ্যমান মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং আর একটি নতুন রেলপথ নির্মাণ-সংক্রান্ত। বিদ্যমান মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো রেলপথ ডুয়েলগেজ হয়ে যাবে। তখন সরাসরি দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন পরিচালনা করা যাবে।

এদিকে ঢাকা-কুমিল্লা/লাকসাম কডলাইন নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়নে পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে। আর এ প্রকল্পটিতে এডিবির ঋণ পাওয়া গেলে বিদ্যমান রেলপথে ঘুরে চট্টগ্রাম যেতে হবে না, বরং সরাসরি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার থেকে ২৩০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। আর ব্রডগেজ ট্রেন পরিচালনা করা হলে নতুন রেলপথে ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো যাবে। এতে ঢাকা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও তিন ঘণ্টায় কক্সবাজার যাওয়া যাবে।

এডিবির বৈঠকে জানানো হয়, ধীরাশ্রমে আইসিডি নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (পিডিপিপি) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি যাচাই-বাছাইয়ে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ২৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

এদিকে লাকসাম-চট্টগ্রাম রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ১৪৮ কোটি ৬৮ কোটি ডলার। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। পিডিপিপিও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ২১ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আর প্রকল্পটির আওতায় ৩৩০ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার ট্রাক ডুয়েলগেজে রূপান্তর ছাড়াও ৫২টি মেজর ও ৩৩১টি মাইনর সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ প্রকল্পের আওতায় ছয়টি স্টেশন ও একটি স্টেশন ইয়ার্ড পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম-দোহাজারি রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি ৭৬ কোটি ডলার। এ প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়নও শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১০৩ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ১০৭ কিলোমিটার ট্রাক ডুয়েলগেজে রূপান্তর ছাড়াও ২৪টি মেজর ও ৯৫টি মাইনর সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে প্রকল্পটির আওতায়। এ প্রকল্পের আওতায় দুটি স্টেশন নতুন করে নির্মাণ করতে হবে।

টঙ্গী-আখাউড়া রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭২ কোটি ডলার। এর মধ্যে এডিবির কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছে ১৪৫ কোটি ৫৪ কোটি ডলার। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। পিডিপিপিও রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাত্র চার একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। আর প্রকল্পটির আওতায় ২২৭ দশমিক ১৪ কিলোমিটার ট্রাক ডুয়েলগেজে রূপান্তর ছাড়াও ৬৪টি মেজর ও ৫৭টি মাইনর সেতু পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ প্রকল্পের আওতায় মাত্র দুটি স্টেশন পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

অন্যদিকে সম্ভাব্যতা যাচাই না হওয়ায় ঢাকা থেকে কুমিল্লা/লাকসাম পর্যন্ত কডলাইন নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে পারেনি রেলওয়ে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ৮৩ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। এজন্য সম্ভাব্য জমি অধিগ্রহণ দরকার হবে ৪৯০ হেক্টর। আর ৬৯টি সেতু নির্মাণ করতে হবে। তবে এ রেলপথটি ৯৭টি পয়েন্টে সড়ককে ক্রসিং করবে। এগুলোয় লেভেল ক্রসিংগেট ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া সম্ভাব্য স্টেশন কয়টি হবে তাও নিশ্চিত নয়।

সূত্র:শেয়ার বিজ


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।