শিরোনাম

ভারতে রেল দুর্ঘটনাঃ ঘুমে আচ্ছন্ন অভিবাসী শ্রমিকরা ট্রেনে কাটা পড়লেন

ছবি:সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: ভারতে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের কাছে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হলো ১৬ জন অভিবাসী শ্রমিকের ।প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে তাঁরা রেল লাইনে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা এতটাই ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে, মালগাড়ি আসার শব্দও তাঁদের জাগাতে পারেনি। গভীর ঘুমেই মালগাড়ির চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে ১৬ জন অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। । মালগাড়িটি খালি ছিলো। রেল কতৃপক্ষ জানান , মালগাড়ির চালক শেষ সময়ে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেও পারেননি।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা মোকশাদা পাতিল জানান, বেঁচে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজন আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি চারজন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনার আগে তাদের কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। আহতদের আওরঙ্গবাদ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে আওরঙ্গবাদ সিভিল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

এই  শ্রমিকরা সকলেই মধ্যপ্রদেশের। তাঁরা জালনার কারখানায় কাজ করতেন। জালনা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে ভুসাওয়াল যাচ্ছিলেন, যাতে তাঁরা শ্রমিক এক্সপ্রেস ধরে নিজেদের রাজ্যে ও গ্রামে ফিরতে পারেন। রেল মন্ত্রণালয় অবশেষে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য  শ্রমিক এক্সপ্রেস চালাতে শুরু করেছে ঠিকই, তবে সেই ট্রেনে করে নিজের রাজ্যে ফেরাটাও সহজ হচ্ছে না। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে, যেখানে করোনা এখনও নিয়ন্ত্রণে না আসায় অধিকাংশ জায়গায় বাস, গাড়ি চলছে না। এই ট্রেনগুলি চালানো হচ্ছে নির্দিষ্ট এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনের মধ্যে। যেমন ধরা যাক, ভুসাওয়াল থেকে ট্রেন ছেড়ে সোজা ভোপাল যাবে। পথে কোথাও তা থামবে না। যে অভিবাসী শ্রমিকরা ভুসাওয়াল থাকেন, তাঁদের অসুবিধা হচ্ছে না। কিন্তু যাঁরা দূরে থাকেন, তাঁদের অবস্থা শোচনীয় হচ্ছে। যেমন হয়েছে এই শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। এই দুর্ঘটনায় প্রবল ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি রেলমন্ত্রীকে ফোন করে তাঁর ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গেও শ্রমিক এক্সপ্রেস চালানো নিয়ে শুরু হয়েছে বির্ত ক। লোকসভার কংগ্রেসের নেতা এবং বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে পশ্চিমবঙ্গ মাত্র দুইটি ট্রেন চেয়েছে। তিনি রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে কথা বলেছেন। রেলমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, রাজ্যের চাহিদা মতো একটি ট্রেন রাজস্থান থেকে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে। অন্যটি এর্নাকুলাম থেকে বহরমপুরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে দিয়েছে। এ ছাড়া আর কোনও ট্রেন রাজ্য সরকার চায়নি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন অধীর। তিনিও জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রেন না চাইলে কেন্দ্রের কিছু করার নেই। কংগ্রেস নেতার দাবি, বেঙ্গালুরুতে ঘরে ফেরার দাবিতে অভিবাসী শ্রমিক, রোগী, তাঁদের আত্মীয় এবং ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের আনা হচ্ছে না। অন্য বহু জায়গায় রাজ্যের শ্রমিকরা আটকে আছেন। তাঁদেরও আনার ব্যবস্থা করা হয়নি। 

অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরা নিয়ে এই বিতর্কের মাঝখানেই বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরা শুরু হয়েছে। তাঁদের বিশেষ বিমানে করে ফেরানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি ও কেরালায় বিমান নেমেছে। ভারত থেকেও আটকে পড়া বিদেশিদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাঁরাও নিজেদের দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।

সূত্র:dw.com, 08.05.2020


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।