ভারতে রেল অবরোধ চলছে একদিনেরও বেশি

ভারতে রেল অবরোধ চলছে একদিনেরও বেশি

।। নিউজ ডেস্ক ।।
একদিন পার হয়ে গেছে, বুধবার সকালেও ওঠেনি শিয়ালদহ মেন শাখায় জালালখালি হল্ট স্টেশনের রেল অবরোধ। যার জেরে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার নিত্যযাত্রীরা। মঙ্গলবারই লোকাল ট্রেন দাঁড় করানোর দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার জালালখালি এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনে সকাল থেকে রেললাইনে নেমে ট্রেন অবরোধ শুরু করে দেন তাঁরা। দাবি, জালালখানি হল্টে আপ এবং ডাউন শাখার সমস্ত ট্রেন থামাতে হবে।

দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই অবরোধ চলতে থাকায় শিয়ালদহ মেন শাখার বহু ট্রেন আটকে পড়ে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে সমস্যায় পড়তে হয় যাত্রীদের। মনে করা হয়েছিল, রেলের কর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু তেমনটা না হওয়ায় এখনও অব্যাহত অবরোধ। ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চলছে বিক্ষোভ। আপাতত অন্য রুট দিয়ে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করছে।

রেল কর্তৃপক্ষের তরফে লিখিত আশ্বাস না মেলায় বুধবার সকালেও চলছে অবরোধ। অবশ্য জালালখালি হল্টে ট্রেন দাঁড় করানোর দাবি নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার এই একই দাবিতে রেল অবরোধ হয়েছে এখানে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এখনও এই স্টেশনে অনেক ট্রেনই দাঁড়ায় না। ফলে সেই এলাকার বাসিন্দাদের ট্রেনে ওঠার জন্য অন্যত্র যেতে হয়। আর সেখানেই আপত্তি তাঁদের।

মঙ্গলবার দীর্ঘক্ষণ পরও অবরোধ চলতে থাকায় সেই রুটের দূরপাল্লার ট্রেনগুলিকে অন্য রুট দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে কৃষ্ণনগরগামী কিংবা সেখান থেকে শিয়ালদহের দিকে আসা যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যা বুধবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে।

জালালখালি হল্টে ট্রেন দাঁড় করানোর দাবি নতুন নয়। অবরোধকারীদের দাবি, ওই হল্ট স্টেশনে সমস্ত ট্রেন থামতে হবে। শিয়ালদহের ডিআরএম এসে লিখিত প্রতিশ্রুতি না দিলে তাঁরা নড়বেন না। তাঁদের যুক্তি, এখান থেকে প্রচুর চাষি কলকাতায় ফুল এবং আনাজ নিয়ে যান। এলাকায় কোনও হাইস্কুল না থাকায় প্রচুর পড়ুয়া প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরে কৃষ্ণনগর বা বাদকুল্লার স্কুলে পড়তে যায়। ট্রেন না থামায় সকলেই সমস্যায় পড়ছে। জিআরপি এবং আরপিএফ মঙ্গলবারই এসেছিল ঘটনাস্থলে। কিন্তু তারা বোঝানোর চেষ্টা করেও অবরোধকারীদের সরাতে পারেননি। বিকালে কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমাশাসক চিত্রদীপ সেনও গিয়েছিলেন সেখানে। তাঁর প্রস্তাবেও রাজি হননি অবরোধকারীরা।

সূত্রঃ আনন্দবাজার