রেলপথ নির্মাণ

ঢাকা সার্কুলার রেল বিনিয়োগ সমীক্ষা শুরু করছে দক্ষিণ কোরিয়া

।। নিউজ ডেস্ক ।। রাজধানীর চারপাশে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) অধীনে বিনিয়োগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সমীক্ষা শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কনসোর্টিয়াম। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াও, প্রকল্পটি নিয়ে কীভাবে…


সময়ানুবর্তিতায় পিছিয়ে পড়ছে রেল

নিউজ ডেস্ক: ট্রেন চলাচলে সময়সূচি অনুসরণের দিক দিয়ে গত কয়েক বছরে ভালোই উন্নতি করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। ২০১৩-১৪ সালেও ট্রেনের গড় সময়ানুবর্তিতার হার ছিল ৬৪ শতাংশের বেশি। সেখান থেকে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে গত বছর সময়ানুবর্তিতার হার দাঁড়ায় প্রায় ৮৪ শতাংশে। কিন্তু চলতি বছর রেলওয়ের সময়সূচিতে আবারো দেখা দিয়েছে উল্টোরথে চলার লক্ষণ। সময়ানুবর্তিতার দিক থেকে গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় ট্রেন চলাচল সংস্থাটি। ২০১৯ সালে ট্রেনের সময়সূচি মেনে চলার হার নেমে এসেছে প্রায় ৮২ শতাংশে। কয়েক বছর ধারাবাহিক উন্নতির পর চলতি বছরের এ ছন্দপতনের কারণ হিসেবে রেলপথের গতি সক্ষমতা কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুই জোনে (পূর্ব ও পশ্চিম) পৃথক দুটি প্রকল্প নিতে চাইছে রেলওয়ে। প্রকল্প দুটির জন্য পৃথক দুটি ডিপিপিও প্রস্তুত করে রেখেছে সংস্থাটি। সময়ানুবর্তিতায় পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে রেলপথের গতি সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাস্টারের অভাবে অনেক স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়া ও রেল ক্রসিংয়ের পরিমাণ বৃদ্ধিকেও দায়ী করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন চলাচলে চলতি ও গত বছরের নয় মাসের (ফেব্রুয়ারি-অক্টোবর) সময়ানুবর্তিতা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে বণিক বার্তা। এতে দেখা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সময়সূচি মেনে ট্রেন চলাচলের হার ছিল ৮৬ শতাংশ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে আসে ৮৩ শতাংশে। এরপর এপ্রিলে গিয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিলের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে চলতি বছরের একই মাসে ট্রেনের সময়সূচি মেনে চলার হার দাঁড়ায় ৮৫ শতাংশে। মে থেকে ফের ছন্দপতন ঘটে সময়সূচিতে, যেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রেলওয়ে। ২০১৮ সালের মে মাসে রেলওয়ের সময়ানুবর্তিতার হার ছিল ৮৫ শতাংশ। চলতি বছরের মে মাসে তা ৮৪ শতাংশে নেমে আসে। জুনে গত বছরের ৮১ দশমিক ৫ থেকে কমে চলতি বছর নেমে আসে ৮১ শতাংশে। এছাড়া ট্রেনের সময়ানুবর্তিতার হার জুলাইয়ে ৮৩ থেকে কমে ৮২ শতাংশ, আগস্টে ৭৯ দশমিক ৫ থেকে কমে ৭৮, সেপ্টেম্বরে ৮৫ থেকে কমে ৮২ ও অক্টোবরে ৮৭ থেকে কমে ৮২ শতাংশে নেমে আসে। বছরজুড়ে ট্রেনের সময়সূচিতে এ ছন্দপতনের জন্য রেলট্র্যাকের গতি কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। এজন্য দুই জোনে পৃথকভাবে রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পৃথক দুটি ডিপিপি প্রস্তুত করেছে রেলওয়ে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিপিপি দুটি বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময়ানুবর্তিতায় ছন্দপতন প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, এ বছর দুই ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ট্রেনের শিডিউলে বেশ চাপ পড়েছিল, যা সারা বছরই ট্রেনের সময়সূচি মেনে চলার ক্ষেত্রে কিছুটা বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুয়াশা একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ট্রেন ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলেছে। রেলওয়ের ট্র্যাক অনেক পুরনো। এ কারণে বেশি গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে সময়সূচি পরিবর্তন ভালো বিকল্প হতে পারে। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে নতুন সময়সূচি কার্যকর করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে শিডিউল অনেকটাই ঠিক হয়ে আসবে। ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, দুই জোনে আমরা দুটি প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করেছি। ট্র্যাকের পাশাপাশি পুরনো রেলসেতুগুলোও এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার করা হবে। বর্তমানে ডিপিপি একনেকে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। সারা দেশে রেলপথ আছে ২ হাজার ৯৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩৫ কিলোমিটার রেলপথ গত ১০ বছরে পুনর্বাসন বা পুনর্নির্মাণ করেছে রেলওয়ে। মিটার গেজ থেকে ডুয়াল গেজে রূপান্তর করা হয়েছে আরো ২৪৮ কিলোমিটার রেলপথ। নতুন রেললাইন নির্মিত হয়েছে ৩৩০ কিলোমিটার। অর্থাৎ নেটওয়ার্কভুক্ত অর্ধেকের বেশি রেলপথ নির্মাণ, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের কাজ হয়েছে গত ১০ বছরে। প্রতি বছর রেলওয়ের যা ব্যয় হয়, তার ৬০ শতাংশের বেশিই চলে যায় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। এত ব্যয়ের পরও রেল ট্র্যাকের কারণে গতি কমে যাওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, রেলওয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয়ের একটা বড় ঘাটতি আছে। কোন কাজটি আগে করতে হবে, কোনটি পরে হবে—তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে না। বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের দিকেই সবার ঝোঁকটা বেশি। রেলওয়েতেও তা-ই হচ্ছে। রেলপথ সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ একটি নিয়মিত কার্যক্রম। এ কার্যক্রমে যদি ছেদ পড়ে, তাহলে ট্রেনের শিডিউল এলোমেলো হওয়াটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি রেল নেটওয়ার্কে যতগুলো ট্রেন চলার কথা, বাস্তবে চলছে তার চেয়ে বেশি। রেলপথের সক্ষমতার চেয়ে এখানে প্রাধান্য পাচ্ছে রাজনৈতিক গুরুত্ব। আমাদের রেললাইন খারাপ। আমাদের লাইনে সক্ষমতার চেয়ে ট্রেন চলাচল বেশি। আমাদের পরিকল্পনা দুর্বল। আমাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। আমরা পেশাদার নই। সরকার ও রেলওয়ের উচিত সবার আগে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা। সুত্র:বণিক বার্তা, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯


অস্বাভাবিক ব্যয়ে ভৈরববাজার বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ

ইসমাইল আলী: ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে মাত্র দুটি। এ ট্রেনগুলোতে কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবের কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। তবে কিশোরগঞ্জের যাত্রীদের সুবিধার্থে ভৈরববাজার বাইপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। মাত্র তিন কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা…


মূল ঠিকাদার নয়, নির্মাণকাজ করছে সাব-কন্ট্রাক্টর

ইসমাইল আলী: খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। গত জুনে রেলপথটির নির্মাণ শেষ করার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৮ শতাংশ। আর প্রকল্পটির আওতায় রূপসা রেল সেতু…


শুরুতেই নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে পাঁচ হাজার ১০০ কোটি টাকা

ইসমাইল আলী: পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ স্থাপনে ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করবে সরকার। ২০১৬ সালের মে মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন করা হলেও এখনও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। আবার জিটুজি ভিত্তিতে এতে চীনের অর্থায়নের কথা থাকলেও…


আর কত লোকসান রেলে

পার্থ সারথি দাস : নতুন রেলপথ নির্মাণ, কোচ ও ইঞ্জিন কেনায় বরাদ্দ বাড়লেও রেলে লোকসান অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো চালু হওয়ায় ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা…