শিরোনাম

দুর্ঘটনা

ভারতের মহারাষ্ট্রে ভয়ংকর রেল দুর্ঘটনা, আহত ৫০ এরও বেশি

।। আন্তর্জাতিক ।।ভারতের মহারাষ্ট্রে যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে একটি মালগাড়ির বলে জানা গিয়েছে। এই দুর্ঘটনার জেরে কমপক্ষে ৫৩ জন জখম হয়েছেন। যাত্রীবাহী ট্রেনটির তিনটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে। এখনো পর্যন্ত কারোর মৃত্যুর খবর…


ঝিনাইদহে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু

।। রেল নিউজ ।।ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চাপড়া রেলগেটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি, তবে তার…


রেললাইনে বসে গীটারে গান, ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের

।। নিউজ ডেস্ক ।। বাড়ির পাশ দিয়ে চলে গেছে রেললাইন। সেখানে বসে গিটার বাজিয়ে গান করছিলেন ওমর ফারুক (২৮) নামের এক যুবক।কিন্তু চট্টগ্রামমুখী ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ধাক্কায় মুহূর্তেই থেমে গেছে তার কণ্ঠস্বর। গুরুতর আহত অবস্থায়…


বিরামপুরে ট্রেনের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

।। নিউজ ডেস্ক ।।বিরামপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ভারসাম্যহীন এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের উত্তর দাউদপুর (বেপারীপাড়া) গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৬০)…


বাংলাদেশে ট্রেন পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে বিদেশী কোম্পানি

শামীম রাহমান : বাংলাদেশে ট্রেন পরিচালনার সুযোগ পেতে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যেকোনো বিদেশী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের রেলপথ ও রেল অবকাঠামো ব্যবহার করে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করতে পারবে তারা। বিদেশী কোম্পানি তাদের রোলিংস্টক চালাতে পারবে বাংলাদেশের রেলপথে। আংশিক বা পুরোপুরিভাবে করতে পারবে ‘ক্রস বর্ডার’ ও ‘ক্রস কান্ট্রি’ অপারেশন। বিদেশী কোম্পানিগুলোর জন্য এমন সুযোগ রেখে ১৮৯০ সালের রেলপথ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রেলপথ আইন হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দাখিল করা রেলপথ আইন (সংশোধিত) ২০২১-এর খসড়ার ১৫৪ ধারায় বিদেশী কোম্পানিকে বাংলাদেশে ট্রেন পরিচালনার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানিকে বাংলাদেশের কোনো বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। দেশী-বিদেশী বেসরকারি কোম্পানিকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ট্রেন পরিচালনার সুযোগ দিতে রেলপথ আইনে সংশোধনীর এ উদ্যোগ নতুন হলেও দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ট্রেন পরিচালনা রেলওয়ের জন্য নতুন নয়। বর্তমানে বেশ কয়েকটি ট্রেন ইজারাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ইজারার চুক্তি অনুযায়ী ট্র্যাক, সিগন্যাল, স্টেশন, কোচ, ইঞ্জিন, জ্বালানি, লোকোমাস্টার, পরিচালক, স্টাফ—সবই রেলওয়ের। ইজারাদারের দায়িত্ব শুধু ভাড়া আদায় করা। আইনের সংশোধনী পাস হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন পরিচালনায় দেশী-বিদেশী কোম্পানিকে যুক্ত করতে পারবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলপথ আইন ২০২১-এর খসড়ার ১৫৪ ধারায় সংযুক্ত করা হয়েছে এ ধারা। এতে বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে। বাংলাদেশের এ প্রাইভেট কোম্পানি আবার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশী বা বিদেশী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি করতে পারবে। একই ধারায় আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রাইভেট কোম্পানিকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্রস বর্ডার অপারেশনসহ তার নেটওয়ার্কের আংশিক বা সম্পূর্ণ অংশে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিতে পারবে। একইভাবে চুক্তি অনুযায়ী, যাত্রী বা পণ্য বা উভয় পরিবহনের উদ্দেশ্যে প্রাইভেট কোম্পানিকে তার রোলিংস্টক পরিচালনার জন্য রেলওয়ের ট্র্যাক, সিগন্যাল ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আরো বলা হয়েছে, প্রাইভেট কোম্পানিকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে চুক্তির শর্তানুসারে এক দেশ থেকে আরেক দেশে (ক্রস কান্ট্রি অপারেশন) পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেই কোম্পানির রোলিংস্টক ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। খসড়া আইনের ১৫৫ ধারায় বলা হয়েছে, প্রাইভেট কোম্পানির নিরাপত্তার জন্য গৃহীত ব্যবস্থার অতিরিক্ত, সেফটি কমিশনার বা তার পক্ষে দায়িত্ব পালনকারী কোনো কর্মকর্তা থাকবেন। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যেরূপ উপযুক্ত মনে করবেন, সেরূপ সাধারণ বা বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারবেন। প্রাইভেট কোম্পানি তা মানতে বাধ্য থাকবে। আরো বলা হয়েছে, প্রাইভেট কোম্পানি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সময় কোনো দুর্ঘটনায় পড়লে এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের ভৌত অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার জন্য তারাই দায়ী থাকবে। ট্রেন পরিচালনায় দেশী-বিদেশী কোম্পানি নিযুক্ত করার পাশাপাশি খসড়া আইনে আরো বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। আইনটির খসড়ার ওপর বিভিন্ন মতামত দিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, কৃষি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নদী রক্ষা কমিশন মতামতে বলেছে, সমন্বিত হাইড্রোমরফোলজিক্যাল সমীক্ষা করে নৌ-চলাচলের জন্য পানির উচ্চতাকে সুবিবেচনায় নিয়ে সেতু নির্মাণ করতে হবে। কোনোক্রমেই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ও স্বল্প উচ্চতার সেতু নির্মাণ করা যাবে না। একই সঙ্গে নিরাপদ ও সুষ্ঠু নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথের ওপর সেতু/ব্রিজ/কালভার্ট ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে উল্লম্ব ছাড় ও আনুভূমিক ছাড় রাখার বিষয়ে বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে জানিয়েছে, নদী, ঝরনা বা অন্য কোনো পানিপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্থায়ী পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে এসবের স্বাভাবিক প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়…


বুড়িমারী রেলরুটে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ১

।। নিউজ ডেস্ক ।। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির (৪০) মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে লালমনিরহাট বুড়িমারী রেলরুটে উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের চৈতপাড়া এলাকায় স্থানীয় জানান, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে…


নকশাগত ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা হোক

সারা বিশ্বে রেলকে সবচেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে রেল ব্যবস্থাও নিরাপদ নয়। হরহামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে বিপুল প্রাণহানি ও পরিবহনের ক্ষতি হচ্ছে। আর এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ অরক্ষিত…


রেলগেটে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

শামীম রাহমান : ঘটনাটি গত ১৩ আগস্টের। ২৬ টন এলপিজি বহন করা একটি ট্রাকের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় গাজীপুরের পুবাইল রেলগেট বা রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংয়ে। কাছাকাছি এলাকায় সে সময় কোনো ট্রেন না চলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায় ট্রাকটি। এলপিজিবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত ট্রেনেরও। সম্প্রতি রেল ভবনে অনুষ্ঠিত ট্রেন দুর্ঘটনা প্রতিরোধকল্পে গৃহীত ব্যবস্থাসংক্রান্ত সভায় এ ঘটনা উল্লেখ করেন গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) ঢাকার পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, সেদিন বড় কোনো দুর্ঘটনা না হলেও সড়কে বাংলাদেশ রেলওয়ের লেভেল ক্রসিংগুলোর উচ্চতা বেশি হওয়ার কারণে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের গত সাত বছরের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। রেলওয়ের হিসাবে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ১৫৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৫ জনেরই মৃত্যু হয়েছে রেলগেটে সংঘটিত দুর্ঘটনায়। রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারাপার হওয়ার সময় রেলগেটের ওপর গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে বেশকিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে এ সাত বছরে। এজন্য তারা দায় দিয়েছেন সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেললাইনের বাড়তি উচ্চতাকে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সড়কের ওপর দিয়ে রেলপথ গেলে সেই রেলপথের উচ্চতা সড়কের সমান রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, নিয়ম থাকলেও এটা আমাদের দেশে মানার প্রবণতা একেবারেই কম। কোনো ধরনের আদর্শ নকশা না করে ও কোনো ধরনের পরিকল্পনা ছাড়াই বেশির ভাগ লেভেল ক্রসিং তৈরি করা হয়েছে। স্বভাবতই ভুল নকশা আর ভুল পরিকল্পনায় নির্মাণ করা এসব লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে বেশি। সড়কের চেয়ে সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেলপথের উচ্চতা বেশি হলে তা কীভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমস্যাটি বেশি হয় ভারী যানবাহন লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময়। ভারী গাড়ির ভর বেশি থাকায় সেগুলো উঁচু লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায়। এ ঝাঁকুনির কারণে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার আশপাশে কোনো ট্রেন থাকলে গাড়িচালকের মানসিকতায়ও একটা বিরূপ প্রভাব ফেলে। তখন বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশে চলাচল করা ভারী যানবাহনগুলো ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াও এ ধরনের দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। সামগ্রিকভাবে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কের উচ্চতার সঙ্গে রেলপথের উচ্চতা সমান করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি লেভেল ক্রসিং নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে এবং সঠিক পরিকল্পনা ও নকশায় সেগুলো নির্মাণ করতে হবে। লেভেল ক্রসিং এলাকায় সড়কের পিচ ঢালাইয়ে বিটুমিনের বদলে কংক্রিট ব্যবহার করা উচিত। শুধু লেভেল ক্রসিংয়ের বাড়তি উচ্চতাই নয়, বিপুলসংখ্যক রেল ক্রসিং অবৈধভাবে গড়ে তোলার ফলেও দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ রেলওয়ের দুই জোনে (পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল) বৈধ লেভেল&nb