টিলাগাঁও রেলওয়ে স্টেশন

১০ বছর ধরে বন্ধ রেলস্টেশন, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সরঞ্জাম

নিউজ ডেস্ক:জনবল সংকটের কারণে ২০০৯ সালে সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের টিলাগাঁও রেলওয়ে স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই স্টেশনটিতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি, পণ্য ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কুলাউড়া জংশন থেকে এ স্টেশনের সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অথচ একসময় টিলাগাঁও রেলস্টেশনটি ছিল আশপাশের অন্তত চার ইউনিয়নের বাসিন্দার যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু। এ স্টেশন থেকে সিলেট, আখাউড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় যাতায়াত করতেন যাত্রীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে আশপাশের চারটি চা বাগান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এ স্টেশন স্থাপন করা হয়। একসময় লংলা, তারপাশা, পাল্লাকান্দি ও ইংগাজিয়া চা বাগানের বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো। অথচ জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে স্টেশনটি। এদিকে দীর্ঘদিন স্টেশন বন্ধ থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মূল্যবান সরঞ্জাম। গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, টিলাগাঁও রেলস্টেশনের দুটি ভবনেই তালা ঝুলছে। একটি নতুন ও আরেকটি পুরনো। পুরনো ভবনে টিকিট কাউন্টার, যাত্রীছাউনি রয়েছে। এছাড়া নতুন ভবনে সিগন্যাল পরিচলনার জন্য মনিটর, ইন্টারন্টে সংযোগের যন্ত্র, ব্যাটারিসহ নানা সরঞ্জাম রয়েছে। ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ স্টেশনটি বন্ধ হওয়ার পর থেকে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকায় এসব যন্ত্রের কার্যক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া যাত্রীছাউনি ও টিকিট কাউন্টারের অবস্থাও নাজুক। ভেঙে যাচ্ছে উপরের টিন, খসে পড়ছে পলেস্তারাও। এদিকে টিলাগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্টেশনমাস্টার নিয়োগ ও স্টেশন চালুর দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন স্থানীয়রা। ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজের ব্যানারে ২১ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু হয়। এরই মধ্যে দুটি ট্রেন থামিয়ে প্রতিবাদ করেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও রেলওয়ে স্টেশন নির্মিত হয় ব্রিটিশ আমলে। ওই এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবসা-বাণিজ্য পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ট্রেন। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে ১০ বছর আগে স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এর পর থেকে স্থানীয়রা আন্দোলনে নামেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হয়নি। এ স্টেশন বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সড়কপথে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভোক্তা। ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজের সদস্য শামীম আহমেদ জানান, টিলাগাঁও রেলওয়ে স্টেশন চালুর দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন থেকে স্টেশনটি চালুর আশ্বাস দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজ টিলাগাঁওয়ের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম রুহিন চৌধুরী বলেন, আমরা সবেমাত্র আন্দোলন শুরু করেছি। এবার শুধু আশ্বাস নয়, কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আরো কঠোর আন্দোলন শুরু করব। কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনের স্টেশনমাস্টার মুহিব উদ্দিন বলেন, এ স্টেশন চালু করতে রেলওয়ে বিভাগ কাজ করছে। স্টেশনমাস্টার নিয়োগ দিয়ে দ্রুতই স্টেশন চালু করা হবে। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক সজীব মালাকার বণিক বার্তাকে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে টিলগাঁওসহ বেশ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ রয়েছে। লোকবল নিয়োগ দিয়ে দ্রুত এসব স্টেশন চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুত্র:বণিক বার্তা, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯