জাপান

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু: কাজ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে জাপানের ‘ওবায়েশি’

নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু রেলসেতু নামে আরেকটি সেতু নির্মাণ হচ্ছে যমুনা নদীতে। বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে আগামী মার্চে শুরু হচ্ছে রেলসেতুটির নির্মাণকাজ। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সেতুর নির্মাণকাজ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ওবায়েশি করপোরেশন’। বাংলাদেশ রেলওয়ের আহ্বান করা দরপত্রে প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করেছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্যে মন্ত্রী সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেও এসেছেন। বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে গতি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে ট্রেনগুলোকে সেতুটি পার হতে হয়। একটি লাইন হওয়ায় সেতুটি পারাপারের জন্য ট্রেনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষাও করতে হয়। এসব সমস্যা দূর করে রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক রেল নেটওয়ার্ক স্থাপনের পথ সুগম করতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী পরিষদে পাস হয় ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর। সেতুটি নির্মাণে অর্থায়ন করছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এ প্রকল্পে স্বল্পসুদে ৭ হাজার ৭৭২ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। প্রয়োজনীয় বাকি টাকার জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। রেলসেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটারএতে ডুয়াল গেজের দুটি লাইন থাকবে। দুই পাশে সংযোগ লাইন ও লুপ লাইনও নির্মাণ করা হবে। দুই পাশে হবে দুটি স্টেশন। নদীর ভেতরে ৪৮টি পিয়ার (খুঁটি) হবে। শুরুতে কংক্রিটের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এটি স্টিলের কাঠামোয় নির্মাণের কথা ভাবছেন রেলওয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারাএতে সেতুটির আয়ু বেড়ে দ্বিগুণ হবে বলে জানিয়েছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। সেটিও প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। ঠিকাদার চূড়ান্ত করে শিগগিরই চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় প্রকল্প কার্যালয়।সেতুটি নির্মাণের জন্য জাপানের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে বলে প্রকল্প কার্যালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে ।বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, যমুনা রেলসেতু নির্মাণের জন্য জাপানের ওবায়েশি করপোরেশন সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে। সেতুগুলোর কাজ যেমন নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে, তেমনি খরচও কম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে খুব ভালো কাজ করেছে। আন্তর্জাতিকভাবেও বেশ সুনাম আছে। এখনো চূড়ান্ত না হলেও মন্ত্রীর কথায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় জাপানের ওবায়েশি করপোরেশনের কাজ পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগামী মার্চে সেতুর নির্মাণকাজ উদ্বোধনের লক্ষ্য রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এর প্রস্তুতি হিসেবে ৫ নভেম্বর রেলপথমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রকল্প এলাকা পরির্দশন করেন। তারা সেখানে সেতুর সম্ভাব্য অ্যালাইনমেন্ট এলাকা ঘুরে দেখেন। এলাকাটি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ), বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের প্রতিনিধি দল এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং রেলসেতু নির্মাণকাজে তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুর বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। জাপান ও বাংলাদেশের তিন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক জয়েন্ট ভেঞ্চার এ নকশা প্রণয়নের কাজটি করেছে। এছাড়া বর্তমানে সেতুর দরপত্র কার্যক্রমেও রেলওয়েকে সহযোগিতা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্মাণকালীন সময়েও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠান তিনটির সঙ্গে রেলওয়ের এ সম্পর্কিত একটি চুক্তি সই হয়। বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হচ্ছে রেলসেতুটি। নতুন সেতু নির্মাণের ফলে বিদ্যমান সেতুটির কোনো ক্ষতি হবে না বলে বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক জরিপে উঠে এসেছে। একইভাবে নতুন রেলসেতুটির জন্য আলাদাভাবে নদী শাসনও করতে হবে না। সব মিলিয়ে প্রকল্পটিকে রেলওয়ের জন্য বেশ ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কামরুল আহসান বণিক বার্তাকে বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। নির্মাণকাজ শেষ করতে মোটামুটি চার বছরের মতো সময় লাগবে। কাজ শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রেল নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী হবে। সুত্র:বণিক বার্তা, নভেম্বর ১০, ২০১৯


মিনিটে ৬ কিলোমিটার গতিতে চলবে ট্রেন!

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের দ্রুততম গতির বুলেট ট্রেন নিয়ে বহু আগেই কাজ শুরু করেছিল জাপান। এবার এই বুলেট ট্রেন পরীক্ষামূলক চালনা শুরু করল দেশটি। আজ শুক্রবার ট্রেনটির পরীক্ষামূলক চালনা শুরু হয়। পুরোদমে চালু হওয়ার পর এটি…


নিরাপত্তা ঝুঁকিতে মেট্রোরেল নির্মাণ: অতিরিক্ত ৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব জাপানের

ইসমাইল আলী: রাজধানীর যানজট কমাতে উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল। জাপানের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে হলি আর্টিজান হামলার পর ঢাকা ত্যাগ…


বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে যেসব দেশে

বাংলাদেশের প্রতিবেশি ভারতে এখন বুলেট ট্রেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা চলছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে ভারতে এই নেটওয়ার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। মুম্বাই-আহমেদাবাদ রুটে এই ট্রেন আগামী পাঁচ বছরের…