শিরোনাম

ইঞ্জিন

কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমকে নামমাত্র জরিমানা রেলের

ইসমাইল আলী: চুক্তি ভঙ্গ করে রেলের ১০ ইঞ্জিনে নিন্মমানের যন্ত্রাংশ সংযোজন করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম। পরে কোম্পানিটি তা স্বীকার করে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটিও এর সত্যতা পায়। তা সত্তে¡ও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা…


সিলেট রুটে দুই ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, যাত্রীদের দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক: সিলেটগামী দুটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনায় ট্রেন চলাচলে ৩ ঘণ্টা বিঘ্ন ঘটেছে। গতকাল সকাল ৬টা ও ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। তবে অন্য ট্রেনের শিডিউল না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা। সিলেট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সজীব কুমার মালাকার জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেস গতকাল সকাল ৬টায় সিলেট ও ফেঞ্চুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী লালমাটিয়া এলাকায় আসামাত্র ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে লালমাটিয়া এলাকায় ট্রেনটি আটকা পড়ে। এ অবস্থায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে ট্রেন থেকে নেমে বিকল্প যানবাহনে তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। পরে সকাল ৭টার দিকে একটি বিকল্প ইঞ্জিনের মাধ্যমে ট্রেনটি সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে নেয়া হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে অন্য কোনো ট্রেন চলাচলের শিডিউল না থাকায় রেল যোগাযোগে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অন্যদিকে মৌলভীবাজারের মনু এলাকায় গতকাল সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুরমা মেইলের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে সিলেট-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরে পারাবত ট্রেনের ইঞ্জিন পাঠিয়ে সুরমা মেইলকে লাইন থেকে সরিয়ে লংলা স্টেশনে নিয়ে রাখা হয়। এতে তিন ঘণ্টা পর এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। সজীব কুমার মালাকার বলেন, ট্রেনের শিডিউল না থাকায় খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থায় উদ্ধার হওয়া গেছে। এখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি। সূত্র:বণিক বার্তা


৭০টির পরিবর্তে ৩০টি ইঞ্জিন কিনতে চায় রেল

ইসমাইল আলী: ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনায় ২০১১ সালে প্রকল্প নেয় রেলওয়ে। তবে এক দশকেও সেগুলো কেনা হয়নি। ২০১৮ সালে ইঞ্জিনগুলো কেনায় দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমের সঙ্গে চুক্তি হলেও তা বাতিলের পথে। এর মধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে…


বগি রেখেই ছুটলো ‌‘কপোতাক্ষ’, যাত্রীদের ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক:  খুলনা থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের বগি রেখে শুধু ইঞ্জিন নিয়েই ছুটতে লাগলো মাস্টার। এতে তিন ঘণ্টার ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রাপথে একবার নয়, চার চারবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে…


রেলের ৪০ ব্রডগেজ ইঞ্জিন কেনায় সাশ্রয় ৩১৮ কোটি টাকা

ইসমাইল আলী: বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও খুলনা বিভাগ) চলাচল করে ব্রডগেজ ইঞ্জিন। বর্তমানে রেলের বহরে এ ধরনের ইঞ্জিন রয়েছে ৯২টি, যার প্রায় অর্ধেকই মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব ইঞ্জিন দিয়ে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য তিন বছর…


দুই রুট ছাড়া চালানো যাবে না হুন্দাইয়ের নিম্নমানের ইঞ্জিন

ইসমাইল আলী: দুই বছরে রেলের বহরে যুক্ত হয়েছে ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন। দুই প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে কেনা হয়েছে ইঞ্জিনগুলো। সংকট কাটানো ও যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ইঞ্জিনগুলো কেনা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। বরং…


চুক্তির তিন বছর পেরুনোয় ১৬% বেশি দাম চায় হুন্দাই

ইসমাইল আলী: ৭০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনায় ২০১১ সালে প্রকল্প নেয় রেলওয়ে। আর ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইঞ্জিনগুলো কেনায় দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমের সঙ্গে চুক্তি সই করে রেলওয়ে। তবে ঋণচুক্তি না হওয়ায় এখনও ইঞ্জিন কেনা হয়নি। এরই মধ্যে…


১০ ইঞ্জিন কেনার অনিয়ম তদন্তে নেমেছে দুদক

ইসমাইলআলী: গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম থেকে ১০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনে রেলওয়ে। তবে ইঞ্জিনগুলোয় দরপত্রের শর্তানুসারে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন করেনি কোম্পানিটি। এতে ইঞ্জিনগুলোর মূল্য পরিশোধ প্রায় ১০ মাস ধরে ঝুলে আছে। এ নিয়ে শেয়ার বিজে…


আটকে গেল চুক্তির ৬৫% অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়া

ইসমাইল আলী: দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমের সরবরাহকৃত ১০ মিটারগেজ ইঞ্জিনে দরপত্রের শর্তানুসারে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন করা হয়নি। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা এসব ইঞ্জিনের মূল্য প্রায় ৯ মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে। তবে লকডাউনের মধ্যে গত…


কোরীয় ১০ ইঞ্জিন বহরে যুক্ত করতে উদ্যোগ রেলওয়ের

সুজিত সাহা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে পৌঁছে ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী না হওয়ায় এসব লোকোমোটিভ কমিশনিং না করে ফেলে রাখা হয়। সরবরাহকারী ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে রেলওয়ে এসব ইঞ্জিন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমদানির প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলক চালানোর (ট্রায়াল রান) আট মাস পর দ্বিতীয় দফায় ইঞ্জিনগুলোর ট্রায়াল রান আবার শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। জানা গেছে, আমদানি হওয়া লোকোমোটিভের ৩০০১ নম্বর ইঞ্জিনটি পরীক্ষামূলকভাবে ৬০১ নং ট্রেন অর্থাৎ চট্টগ্রাম বন্দরের সিজিপিওয়াই ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার নিয়ে কমলাপুর আইসিডিতে গেছে। ধারাবাহিকভাবে নয়টি ইঞ্জিনও কনটেইনারবাহী ট্রেনে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করবে রেলওয়ে। এ পরীক্ষায় চালক ও গার্ড প্রধানত সাতটি সুনির্দিষ্ট ত্রুটি-বিচ্যুতি কিংবা এর বাইরে অন্য কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে তা শনাক্ত করবেন। তবে কোনো ত্রুটি পাওয়া না গেলে রিপোর্ট অনুযায়ী গভর্নমেন্ট ইন্সপেকশন অব বাংলাদেশ রেলওয়ের (জিআইবিআর) মাধ্যমে কমিশনিং শেষে রেলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের কাছে এসব ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে। আমদানির পর ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এসব ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান হয়ে যায়। ওই ট্রায়ালগুলো সন্তোষজনক হলেও অল্টারনেটরে সামান্য বিচ্যুতি পাওয়া যায়। কিন্তু বিড ডকুমেন্ট অনুযায়ী ২২০০ হর্স পাওয়ারের অল্টারনেটর সরবরাহ না করায় এসব ইঞ্জিন গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন রেলওয়ের নিযুক্ত তত্কালীন প্রকল্প পরিচালক মো. নূর আহম্মদ। এ কারণে গত ১ এপ্রিল নূর আহম্মদকে বদলি করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয় মো. হাসান মনসুরকে। নতুন পিডি নিয়োগের পর প্রায় আট মাস বসিয়ে রাখা ইঞ্জিনগুলো রেলের বহরে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে রেলওয়ে। ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির (পিআইসি) তৃতীয় সভায় কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া ইঞ্জিনগুলোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে ইঞ্জিনগুলো বিড ডকুমেন্ট অনুযায়ী হয়নি বলে দাবি করেন তত্কালীন পিডি নূর আহম্মদ। বৈঠকে পিডি উল্লেখ করেন, ‘আমদানি হওয়া ইঞ্জিনগুলো মিটার গেজ থেকে ব্রড গেজে রূপান্তরযোগ্য। যার কারণে ইঞ্জিন, অল্টারনেটর ও ট্রাকশন মোটর মিটার গেজ অপেক্ষা শক্তিশালী। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লোকোমোটিভের অল্টারনেটর চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করেননি এবং এটা বড় ধরনের কোনো সমস্যা না হলেও ইঞ্জিন হর্স পাওয়ার ২০০০ এবং অল্টারনেটরও ২০০০ হর্স পাওয়ার দেয়া হয়েছে। বিড ডকুমেন্ট অনুযায়ী ২০ শতাংশ এক্সট্রা জেনারেটর পাওয়ার সম্পন্ন অল্টারনেটরের কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি থাকলে লোকোমোটিভ দ্রুত স্পিডআপ হয়। কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে ইঞ্জিন উৎপাদনের সময় রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট অফিসাররা কোরিয়ায় ট্রেনিং ও স্টাডি ট্যুরে যেতে না পারায় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উৎপাদন না হওয়া সত্ত্বেও এসব ইঞ্জিন সরবরাহ হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক। এ কারণে আমদানি হওয়া ইঞ্জিনে দেয়া যন্ত্রাংশ চুক্তি অনুযায়ী না হওয়ায় ইঞ্জিনগুলো গ্রহণ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বকেয়া পেমেন্ট দিতে পারছে না বলে দাবি করেন তিনি। একই বছরের ১৩ অক্টোবর মাসিক উন্নয়ন সভায় বিষয়টি সমাধানের জন্য রেলপথমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেন। যদিও কমিটির প্রতিবেদন প্রদানের পর রেলওয়ে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহকৃত ইঞ্জিনের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ সাপেক্ষে ট্রায়াল রান ও কমিশনিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেম শর্ত অনুযায়ী সরবরাহ না করার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানির পর প্রায় আট মাস বসিয়ে রাখা হয় ১০টি ইঞ্জিন। বর্তমানে শর্ত অনুযায়ী সরবরাহ না করায় রেলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সে অনুযায়ী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পেমেন্ট দেবে রেলওয়ে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৭ মে ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহে দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই রোটেম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ৫৬০ টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা ইঞ্জিনগুলো চুক্তির ২৪ মাসের মধ্যে সরবরাহ করার কথা ছিল। তবে বিশ্বব্যাপী চলমান কভিড-১৯-এর কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগে বাংলাদেশে পৌঁছাতে। দক্ষিণ কোরিয়ার একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কেনা নয়টি ইঞ্জিন ২০১১ সালে রেলের বহরে যুক্ত হয়। ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রয় করা ইঞ্জিনের প্রথম চারটির চালান বাংলাদেশে আসে ২০১১ সালের ২ আগস্ট। এরপর একই বছরের অক্টোবরে বাকি পাঁচটি ইঞ্জিন বাংলাদেশে আসে। জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শর্ত অনুযায়ী সরবরাহ করেনি বলে মাসের পর মাস আমদানি হওয়া ইঞ্জিন বসিয়ে রাখা রেলের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। শর্ত ভঙ্গ করলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হিসাব করে পেমেন্ট কর্তন করা হবে। এজন্য নতুন করে ট্রায়াল রান করিয়ে ইঞ্জিনগুলো রেলের বহরে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করি শিগগিরই এসব ইঞ্জিন রেলের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। সূত্র:বণিক বার্তা, মে ০১, ২০২১