শিরোনাম

পরিত্যক্ত পড়ে আছে রেলের পাঁচ হাজার একর জমি

পরিত্যক্ত পড়ে আছে রেলের পাঁচ হাজার একর জমি

ইসমাইল আলী: সারা দেশে রেলওয়ের জমি রয়েছে ৬১ হাজার ৮৬০ দশমিক ২৮ একর। এর মধ্যে অপারেশনাল কাজে ব্যবহার হচ্ছে ৩১ হাজার ৫৬৮ দশমিক ৯৪ একর। বাকি জমির মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে প্রায় পাঁচ হাজার একর। যদিও এগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে রেলের আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে পরিত্যক্ত পড়ে থাকায় রেলের জমিতে অবৈধ দখল বাড়ছে। যদিও গত কয়েক বছরে দখল উচ্ছেদে অভিযান কমে গেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায়, বর্তমানে পূর্বাঞ্চল রেলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে দুই হাজার ৩৯০ দশমিক ৫৪ একর জমি। এর মধ্যে ফেনী-বেলুনিয়া রুটে পরিত্যক্ত রয়েছে ২৮৮ দশমিক ৯২ একর, চট্টগ্রাম স্টিল মিলস সাইডিং লাইনে ৪১ দশমিক ৭৫, নরসিংদী-মদনগঞ্জ সেকশনে ৯৮৪ দশমিক ৩৮, চাষাঢ়া-আদমজী সাইডিং লাইনে ১১৩ দশমিক ২৬, পাইকপাড়া-হবিগঞ্জ সেকশনে ১০০ দশমিক ১৫, শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা সেকশনে ২৬৮ দশমিক ৯৬ ও কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনে ৫৯৩ দশমিক ১১ একর।

এদিকে বর্তমানে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে দুই হাজার ৬১০ দশমিক ২৫ একর জমি। এর মধ্যে সৈয়দপুর ব্রিক ফিল্ড সংযোগে ১১৫ একর, আমনুরা-গোদাগাড়ী সেকশনে ৭১১ দশমিক ৮৮, মধুখালী-কামারখালীঘাট সেকশনে ১৩৬ দশমিক ৩৭, ফরিদপুর-বরিশাল রুটে ২০২, রূপসা ইস্ট ব্রিক ফিল্ড সাইডিং লাইনে আট দশমিক ৮৭, মোবারকগঞ্জ ব্রিক ফিল্ড সাইডিং লাইনে ২৬ দশমিক ১২, খানখানাপুর ব্রিক ফিল্ড সাইডিং লাইনে ১৭, পার্বতীপুর ব্রিক ফিল্ড সংযোগ লাইনে ১৫০, জমিরপুর ব্রিক ফিল্ড সাইডিং লাইনে ২৭ দশমিক ৭৬, সোনাহাট-ভূরুঙ্গামারী সেকশনে ৪৯৮ ও রূপসা-বাগেরহাট সেকশনে ২৭১ দশমিক ৪২ একর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেলের জমির বহুমুখী ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টেশনগুলোতে বহুতল ভবন গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলো শপিংমল ও আবাসিক হোটেল হিসেবে ব্যবহার করে প্রচুর আয় করছে। যদিও বাংলাদেশে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যদিও লোকসানের যুক্তিতে গত কয়েক বছরে দুই দফা রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। অথচ শুধু যাত্রী পরিবহনের আয় দিয়ে কখনোই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে না রেলওয়ে। এ ক্ষেত্রে জমির বাণিজ্যিক ও পরিকল্পিত ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া যেমন জমি কখনও ব্যবহারের সম্ভাবনা নেই, সেগুলোর বাণিজ্যিক ব্যবহারে এখনই পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

এদিকে পরিত্যক্ত পরে থাকায় রেলের জমি অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে রেলওয়ের তিন হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৯ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৯২২ একর, ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে দুই হাজার ৯৭৮ দশমিক ২২ একর এবং ধর্মীয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে ৯০ দশমিক ৮৩ একর।

অবৈধ দখল বাড়লেও গত তিন বছরে জমি উদ্ধারে রেলের উচ্ছেদের পরিমাণ কমেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেলওয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ১৬৮ দশমিক ৭২ একর জমি উদ্ধার করে। এর আগের অর্থবছর উদ্ধার করা হয়েছে ১৮৬ দশমিক ৯৬ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছর ২০৩ দশমিক ৪৪ একর।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, রেলের জমিতে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা বরাদ্দ ও জনবলে ঘাটতি রয়েছে। তবে জমির বহুমুখী ব্যবহারে বেশকিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রেলের জমি বেসরকারি বিনিয়োগে পিপিপিতে বেশকিছু হোটেল ও শপিংমল গড়ে তোলার প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। এতে খাতটি থেকে আগামীতে রেলের আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।


About the Author

RailNewsBD
রেল নিউজ বিডি (Rail News BD) বাংলাদেশের রেলের উপর একটি তথ্য ও সংবাদ ভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল।